ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে মাওলানা মতিনের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে বলে আবারো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার মানসিকতা এখনও দেশে তৈরি হয়নি। এছাড়া নির্বাচনে সরকারি দলের ক্যাডারদের যে তাণ্ডব দেশবাসী দেখেছে তাতে অন্তত এতটুকু বলা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো নির্বাচনই আর সুষ্ঠু হবে না। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে মাওলানা মতীনের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভিশন-২০৩০ হচ্ছে একটা স্বপ্ন, একটা প্রস্তাব। এ নিয়ে আলোচনা হতে হবে। প্রয়োজনে সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে এবং কোনো বিষয় বাদ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে আওয়ামী লীগ সরাসরি এটাকে বাতিল করে দিয়েছে। তারা অনুকরণের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্তি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন নিয়ে এখন তর্ক-বির্তক হচ্ছে। আর আওয়ামী লীগ কুতর্ক করছে। তারা এর সত্যতায় না গিয়ে বিএনপির প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মিথ্যাচার করছে। যে কোনো বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনা মেনে নিয়ে বিএনপি সব সময় প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন রাজনীতি নাই। সকল রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের মুঠোয়। তারা যা ইচ্ছে হচ্ছে তাই করছে। আর বিএনপিকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। অথচ এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই, সত্যতা নেই। জুলুম নির্যাতনে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। ফলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে বিএনপিকে অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার মানসিকতা দেশে এখনও তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বারবার বলে আসছেন আসুন আমরা আলাপ আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করি। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু আওয়ামী লীগ তা বাতিল করে দিয়েছে। পরবর্তীতে যা দেখলাম তাতে তারা যে কমিশন গঠন করেছে তাতে প্রমাণিত হয় আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না। নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে নির্বাচন করতে চায়। অথচ দেশে নির্বাচন করতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে। যে নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯৬ সালে নিরপেক্ষ সরকারের কথা তো আপনারাই (আওয়ামী লীগ) বলেছিলেন। কিšুÍ কেন এখন এমনটা বলছেন। আপনাদের নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবশ্যই দিতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবাই জানে কি ভয়াবহ অবস্থা ছিল তখন। তবে ঐ সময় একটা প্রতিরোধ ছিল। নীরব প্রতিরোধ ছিল একইসঙ্গে সরব প্রতিরোধও ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি, প্রতিরোধে সোচ্চার হয়ে আমরা এখন রাজপথে সেভাবে নেমে পড়তে পারি না। দেখামাত্র করা হচ্ছে। আমাদেরকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে, দেশে উন্নয়নের লহড়ি বয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.২৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন এটা অসম্ভব। এটা কিছুতেই অর্জন করা সম্ভব নয়, কিছুতেই এটা ৬.৮ এর উপরে যেতে পারে না। তিনি বলেন, এই যে মানুষের সঙ্গে প্রতারিত করা, মিথ্যা বুঝিয়ে মানুষকে একটা জায়গায় নিয়ে আশা। এটা আওয়ামী লীগই পারে।

গত কয়েক বছরের বিনিয়োগের হিসেবে করলেই পাওয়া যাবে বাংলাদেশের উন্নয়নের অবস্থাটা কোন্্ পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগের হার, রেমিটেন্সের হার দিনে দিনে কমেছে। প্রবৃদ্ধির হার কমে আসছে। তিনি বলেন, জনগণকে বোকা বানিয়ে তাদের (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। তাই দেশে ও জাতিকে ভুল বুঝানের প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শফিউল আলম প্রধান বলেন, এই সরকার যেকোনভাবে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। এজন্য তারা বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নে নেমেছে। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছাড়া কোন গতি নেই। সভা-সমাবেশ করে এদের দমানো যাবে না। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরেকবার যুদ্ধের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। যার মাধ্যমেই দেশবাসী তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। 

ফরিদুজ্জমান ফরহাদ বলেন, এই সরকারের অধীনে কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। দেশবাসী দেখেছে এরা কিভাবে স্থানীয় নির্বাচনেও ভোট ডাকাতি করেছে। জনপ্রিয়তা প্রমাণে এরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, দেশের কেউই এখন নিরাপদ নয়। এ অবস্থার উত্তরণে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ