ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার আদালত পরিবর্তনের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার আদালত পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি এখন বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড.আক্তারুজ্জামানের আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগেরদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাও একই আদালতের বিচারকের কাছে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই বিচারকের অধীনে এখন এ দুটি মামলার কার্যক্রম চলবে। 

গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

এর আগে গত ১৫ মে খালেদা জিয়া বিচারক পরিবর্তনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তার পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন। গত ১৩ এপ্রিল বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে এ আবেদন খারিজ হয়েছিল। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। 

গত মঙ্গলবার বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার কাজ ড. মো. আক্তারুজ্জামানের আদালতে স্থানান্তরের আদেশ দেন।

ড. মো. আক্তারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নবেম্বর আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ বিভিন্ন মেয়াদে (তিন বছর থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত) কারাদণ্ড এবং ২৭৮ জনকে খালাসের রায় দিয়েছিলেন।

আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে এর আগে খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই আদালতে এই মামলার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও আমাদের সংশয় রয়েছে। এ কারণেই আমরা আবেদনটি করেছি।

জানা গেছে, দুদকের পক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আপিল বিভাগের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২৫ মে এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

মামলার অপর আসামীরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ