ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রামপালে হরিণের ৪টি তাজা মাথাসহ ৮৫ কেজি গোশত উদ্ধার

রামপালে উদ্ধারকৃত ৮৫ কেজি হরিণের গোশত ও ৪টি হরিণের তাজা মাথা

রামপাল বাগেরহাট সংবাদদাতা: সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকার করে বাইনতলা ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের মহব্বত আলীর বাগানে বসে বেচাকেনা করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বেলা ১২ টায় রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হরিনের ৪টি তাজা মাথাসহ ৮৫ কেজি মাংস উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত মাথাসহ মাংস বাগেরহাট নব বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক মেহেদী জামানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রামপাল থানার ওসি মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস,আই পুর্ণেন্দুসহ পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে বারুইপাড়া গ্রামের মহব্বত শেখের বাগানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় মহব্বত আলীসহ কতিপয় ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো বরফ দেওয়া ৪টি হরিণের তাজা মাথাসহ ৮৫ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। মাংস উদ্ধারের পর তাৎক্ষনিকভাবে জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ কর্মকর্তাদের সংবাদ দেওয়ার পর কর্মকর্তারা এসে জব্দ তালিকা তৈরী করে মাংস নিয়ে যান। ওই সময় চোরা শিকারীদের ২টি নৌকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত নৌকা থেকে তল্লাশী করে বন বিভাগের দেওয়া ২টি পাশ পাওয়া যায়। যার একটি বারুইপাড়া গ্রামের শেখ মৃত শেখ আঃ গনির পুত্র শেখ নজরুল ইসলাম এবং অপরটি ফিরোজপুরের পারেরহাটের টগরা গ্রামের ইয়াকুব হাওলাদারের পুত্র মহারাজ হাওলাদারের নামে। পুলিশ ধারনা করছে একটি সংঘবদ্ধ চোরা শিকারী চক্র দীর্ঘদিন ফাঁদ পেতে ও বিষ টোপ প্রয়োগ করে প্রভাশালী একটি মহলের ছত্র ছায়ায় থেকে হরিণের মাংস বেচাকেনা করে আসছে। এ ব্যাপারে বাগেরহাটের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিষয়টি নিয়ে সেভ দ্যা সুন্দবরন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সুন্দরবন গবেষক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, চোর শিকারীদের চিহ্নিত করে এখনই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে তা না হলে বিরণ প্রজাতির বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রল হরিণেসহ  অন্যান্য জীব বৈচিত্র অচিরেই বিলিপ্ত হয়ে যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ