ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পত্নীতলায় ইটভাটার নির্গত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় বাগানের আম পচে যাচ্ছে ॥ চাষিরা উদ্বিগ্ন

পত্নীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর পত্মীতলা উপজেলার পাটিচরা ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় দুটি ইটভাটা থেকে নির্গত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় আম বাগানের আমসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক পচন ও ঝরে যাচ্ছে। চাষিদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ। ওই এলাকায় প্রায় ২০ একর জমিতে ৩০টির বেশি আমবাগান রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ওই এলাকায় বিপিএল ও বিপিএল জিগ জ্যাগ নামে দুটি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বিপিএল ইটভাটাটি প্রায় ১০ বছর আগে এবং বিপিএল জিগ জ্যাগ ইটভাটাটি গত বছর (২০১৬) সালে নির্মিত হয়েছে। ইটভাটা দুটির মালিক বোরহান উদ্দিন পলাশ। ওই দুটি ইটভাটা থেকে নির্গত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় ওই এলাকার ভাটার আশপাশে অবস্থিত আম বাগানের আম নিচ দিগ থেকে পচে যাচ্ছে। আম বাগানের পাশাপাশি ইটভাটার গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় প্রায় ২০ বিঘা জমির কলাবাগান, ধান ও ভুট্টা ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে ওই এলাকার ৪০-৫০ জন চাষির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও চাষিরা অভিযোগে জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার গিয়ে দেখা গেছে, কাশিপুর এলাকার প্রায় ৬০ বিঘা আমবাগানের অধিকাংশ আমের গায়ে কালচে দাগ পড়েছে। অনেক আম নিচ থেকে পচে পচে ঝড়ে পড়েছে। অন্যান্য এলাকার বাগানের তুলনায় ওই এলাকার বাগানের আম ছোট ও আকার বিকৃত হয়ে গেছে। কোনো কোনো আমের নিচের দিকে ছুঁচালো এবং পচন ধরেছে।
কাশিপুর এলাকায় ১৫ বিঘা (৪ একর ৮০ শতক) আমবাগান রয়েছে নজিপুর পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা আনিছুর রহমানের। তিনি জানান প্রায় ১০ বছর ধরে আমার বাগানে ফল ধরছে। এ বছর কানসাটের এক আম ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় আগাম বাগানের আম তাঁর নিকট বিক্রি করে দিয়েছিলাম। ইটভাটার কারণে বাগানের কোনো আমই অক্ষত নেই। তাই ওই ব্যবনায়ীকে সব টাকা ফেরৎ দিতে হয়েছে।
কাশিপুর গ্রামের আমচাষি আব্দুল করিম অভিযোগে জানায় তাঁর ৪০ শতক জমির ওপর আমবাগান রয়েছে। আম্ররূপালি জাতের ওই বাগানে এ বছরই আম এসেছে প্রথম। বউ-বাচ্চা সবাই মিলে বাগানে শ্রম দিচ্ছি। সঠিকভাবে পরিচর্যা করায় প্রায় প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় আম ধরেছিল। কিন্তু গত ১৫ দিন যাবৎ হঠাৎ আমে পচন শুরু হয়েছে। এক টাকারও আম বিক্রি হবে না এখন। আমার সর্বনাশ হয়েছ্ সকল শ্রম। একই গ্রামের আমচাষি মাসুদ রহমান, বাবু চৌধুরী, হরিচরণ, সুনীল ও দিলিপ কুমার জানান একই ধরণের অভিযোগ করেন।
বিপিএল ও বিপিএল জিগ জ্যাগ ইটভাটা দুটির সত্ত্বাধিকারী বোরহান উদ্দিন পলাশ জানায়, আমার ইটভাটার লাইসেন্স রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারেই ইটভাটায় ইট তৈরি চালু রয়েছে। ভাটার আশেপাশে কার কি ক্ষতি হয়েছে এটা দেখা আমার দায়িত্ব নয়। এর এ জন্য আমি দায়ী নই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানায়, খবর শুনে ওই এলাকায় আমবাগান পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালকও সরেজমিনে বাগানগুলো দেখেছেন। ইটভাটার গ্যাস ও কালো ধোঁয়ার কারণে আম ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। ওই ধোঁয়ার কারণে আম পচে যাচ্ছে বলে তিনি অভিমত ব্যাক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো:আব্দল মালেক জানায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ