ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌগাছায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জন দুর্ভোগ চরমে

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ এলে থাকে মাত্র ১০ মিনিট! প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ বারে লোডশেডিং হয়ঘণ্টাার পর ঘণ্টাা। ভোগান্তীর শিকার হচ্ছে মুমূর্ষু  রোগী, গর্ভবতী মা, বৃদ্ধা-বনিতা ও শিশুরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার সকল শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার  প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিদ্যুতের  লুকোচুরিতে  মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে দিগুণ হারে। গার্মেন্টস,  কোল্ডস্টোর, রাইচ প্রসেসিং সহ কলকারখানায় প্রতি দিন উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে কলকারখানার বিদ্যুৎ চালিত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, বেকার হচ্ছে কলকারখানার শ্রমিকরা। সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে জনসাধরণ। হোটেল বেকারিসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। সংবাদকর্মীরা তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবাদ পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মে মাসের ১৭ দিনে ১শ ২৫ বারে ১শ ২ঘণ্টাা ৩০ মি লোডশেডিং হয়েছে। সেই  হিসাবে  প্রতিদিন ২৪ঘণ্টাার সিংহভাগ সময় লোডশেডিং হয় চৌগাছায়! চৌগাছা বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, ১ মে ৫ বারে ৫ ঘণ্টা ১৫ মি, ২ মে ৭ বারে ৫.১৫ ঘণ্টা, ৩ মে ৪ বারে ৫ ঘণ্টা ২৫মি, ৪ মে ৫ বারে ২ ঘণ্টা ৩৫মি,  ৫ মে ৬ বারে ৪.১০ ঘণ্টা, ৬ মে ৫ বারে ৩ ঘণ্টা, ৭ মে ৫ বারে ৪ ঘণ্টা ২২মি, ৮ মে ৭ বারে ৬ ঘণ্টা, ৯ মে ৬ বারে ৭.৩০ ঘণ্টা, ১০ মে ৯ বারে ৭ ঘণ্টা, ১১ মে ৭ বারে ৫ ঘণ্টা, ১২ মে ১৫ বারে ১১ঘণ্টা, ১৩ মে ৮ বারে ৭.১৫ ঘণ্টা, ১৪ মে ৯ বারে ৮ঘণ্টা ১৫ মে ১০ বারে ৭ঘণ্টা, ১৬ মে ১০ বারে ৮ ঘণ্টা ও ১৭ মে ৭ বারে ৬.১৩ ঘণ্টা লোডশেডিং দেখানো হয়েছে।
তবে একটি সূত্র বলছে, অফিসের দেওয়া লোডশেডিংয়ের তথ্যের সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। সূত্রটির দাবি দিন-রাত্রের বেশির ভাগ সময় চৌগাছায় লোডশেডিং করা হয়ে থাকে। ফলে দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ নির্ভর সকল শিল্প-কলকারখানা। লোকসান গুণতে হচ্ছে মুরগি খামারি, গরু-ছাগলের ফার্ম মালিকদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড তাপদাহে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চৌগাছা মডেল হাসপাতালে ভর্তি রোগী বাকপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমান (৭৫) জানান, হাঁপ-কাশির জন্য গত দুদিন এখানে ভর্তি রয়েছি বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের ফলে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে। চৌগাছা বাজারের লেদ মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, কদিনের লোডশেডিংয়ের ফলে ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলার উপক্রম হয়েছে। লেদে শ্রমিকরা এলে তাদের হাজিরা গুণতে হয় কিন্তু বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কোন কাজ করতে পারছিনা।
উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের গরুর ফার্মমালিক আবু তৈয়ব জর্জ জানান প্রচন্ড তাপদাহে বিদ্যুৎ না থাকায় গরুর গোসল ও খাবার পানি সরবরাহ করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডিভাইন গ্রুপের কর্মকর্তা আমানুর রসুল জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে গার্মেন্টস, কোল্ডস্টোর, রাইচ প্রসেসিংসহ কলকারখানায় প্রতি দিন উৎপাদন ব্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে লাখ-লাখ টাকা।
এদিকে চৌগাছা জোলান অফিসের পক্ষ থেকে পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং ও পোস্টারিং করে গ্রাহকদের শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে চৌগাছা বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী প্রকৌশলি  রফিউল ইসলাম  জানান, চৌগাছা উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াট। সেখানে আমরা পাচ্ছি ৩ থেকে ৫ মেগাওয়াট। এ উপজেলায় আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে ৪৫ হাজার। ফলে চাহিদার তুলনায় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমরা পায় তা দিয়ে সকল গ্রাহককে সরবরাহ করা কঠিন হয়ে দাড়াই।
এ ব্যাপারে চৌগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন জানান, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই নাজুক, তাই আমাদের কিছুই করার নেই। তবে রমযানে এ অবস্থার উন্নতির জন্য ব্যাপক কাজ চলছে। অল্পকিছু দিনের মধ্যে বিদ্যুতের অবস্থার উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ