ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 May 2017, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২১ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চাহিদামতো টিসিবি’র পণ্য উত্তোলন করতে না পারায় খুলনার ডিলাররা ক্ষুব্ধ

খুলনা অফিস : এবার রমযানে টিসিবি’র ছোলা, চিনি, মসুরির ডাল ও তেল- এই চারটি পণ্য চাহিদামতো উত্তোলন করতে না পারায় ডিলাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত ১৫ মে থেকে টিসিবি’র ডিলারদের মাধ্যমে মহানগরীতে ৫টি ট্রাকে ১৫টি স্পটে ট্রাক সেল শুরু হয়েছে। ওই সব পণ্য মানুষের চাহিদা থাকায় অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে দিনকে দিন ক্রেতাদের ক্ষোভ বাড়ছে। টিসিবি’র ডাল উত্তোলনের অনীহা অধিকাংশ ডিলারদের। মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত টিসিবি’র আঞ্চলিক অফিস নিয়ন্ত্রিত ১৪টি জেলায় ২৯ জন ডিলার পণ্যে উত্তোলনের জন্য ডিও জমা দিয়েছেন।
টিসিবি’র খুলনা আঞ্চলিক অফিস প্রধান রবিউল মোর্শেদ বলেন, টিসিবি’র পণ্য যাতে কালোবাজারে বিক্রি না হতে পারে সে জন্য ডিলারদের পরিমাণ অনুযায়ী উল্লিখিত পণ্য দেয়া হচ্ছে। ওই পণ্য বিক্রি শেষ হলেই আবার দিচ্ছি। কিন্তু একবারে বেশি পণ্য দিচ্ছি না। এতে কালোবাজারে পণ্য পাচার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গত বছর এ সব অনিয়মের কারণে কয়েকজন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। জনসাধারণের ভালোর জন্য ডিলারদের পণ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করছি মাত্র। টিসিবি’র পণ্যে কোন ঘাটতি নেই, ডিলারদের উত্তোলনকৃত পণ্য বিক্রি হলে আবার দিচ্ছি। তিনি বলেন, ভারতীয় আমদানিকৃত ডাল অস্ট্রেলিয়ার ডালের চেয়ে দাম কম। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ডালের গুণগত মানও ভাল। এটা সচেতন ক্রেতারা বুঝতে পারলে ডাল কিনবেন বলে তিনি দাবি করেন।
নগরীতে ট্রাক সেল এর মেসার্স এসএম ব্রাদার্সের ডিলার মো. শফিউল্লাহ বলেন,  মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তার নির্ধারিত স্পটে জেলা পরিষদের সামনে টিসিবি’র ট্রাক সেল কার্যক্রম চলছে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী টিসিবি’র থেকে উল্লিখিত পণ্য কম দিচ্ছে। এতে লাইনে মানুষজন দাঁড়াতে দাঁড়াতে বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছোলা, চিনি ও মসুরির ডাল তিনশ’ কেজি এবং তেল তিনশ’ লিটার উত্তোলন করায় কয়েক ঘন্টার মধ্যে মানুষের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা টিসিবি’র কর্মকর্তাকে পণ্য উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য দাবি জানালে তিনি আমাদের রোজার আগে উত্তোলন পণ্যের পরিমাণ বাড়াবে বলে আশ্বস্ত করেন। কেজি প্রতি সাড়ে চার টাকা করে তিনি কমিশন পান উল্লেখ করে বলেন, এর মধ্যে আমার ট্রাক ভাড়া ও কর্মচারী খরচ দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। যদি মাল উত্তোলন এর ক্ষেত্রে ৭শ’ থেকে ৮শ’ কেজি পণ্য উত্তোলন করা যেতো তাহলে খরচ পুষিয়ে নেয়া যেতো বলে জানান।
ঝিনাইদহের খালিশপুর এলাকায় বৈশাখী ট্রেডার্সের ডিলার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এতো দূর থেকে পণ্য কিনে এনে বেশি একটা লাভের মুখ দেখা যায় না। দূরত্ব বেশি হওয়ায় কেজিতে আমাদেরকে সাড়ে ৫ টাকা করে কমিশন দিচ্ছে। তিনি চিনি ৪শ’ কেজি, ছোলা ৫শ’ কেজি, মসুরির ডাল ৩শ’ কেজি ও তেল ৩শ’ লিটার উত্তোলন করেছেন। এর বেশি চাইলে আমাদেরকে পরে দেবে জানিয়েছেন টিসিবি’র কর্মকর্তা। মিনি পিকআপ ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়ায় গতকাল উল্লিখিত পণ্য তার এলাকায় আনতে পারেননি।
খালিশপুর ক্রিসেন্ট গেটে মেসার্স নাজমুল ট্রেডার্স এর ডিলার মো. সেলিম জানান, টিসিবি যে ডাল দিচ্ছে ভ্যানে করে ওই একই ধরণের ভারতীয় আমদানিকৃত মোটা ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। অন্যসব পণ্য আনার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেল মাত্র ৩শ’ লিটার উত্তোলন করতে দিচ্ছে এতে মাত্র ৬০ জন লাইনে দাঁড়িয়ে নিয়ে গেলে বাকীদের না দিতে পারলে হৈচৈ শুরু করেন ক্রেতারা। এতে আমাদের বেশি কথা বলে, এতো মাল গেল কোথায়। তিনি বলেন, ডাল বাদে অন্যসব পণ্য উত্তোলনের জন্য আরও ২শ’ কেজি বাড়িয়ে দিত তাহলে খুব ভাল হয়। টিসিবি’র অস্ট্রেলিয়া ডাল ও ভারতীয় ডাল দেখতে প্রায় এক। তবে ভারতীয় মসুরির ডালের দাম কম। কিন্তু ক্রেতারা তা বুঝতে চায় না বলে উল্লেখ করেন।
নগরীর শিপইয়ার্ড লবণচরা এলাকায় মেসার্স স্মৃতি এন্টারপ্রাইজের ডিলার মো. লিটন শেখ জানান, কানাডা ও ভারতীয় ডাল খুচরা বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা টিসিবি’র অস্ট্রেলিয়ার ডাল তার চেয়ে কম। তবে বর্তমানে বাজারে কম দামে যে ডাল পাওয়া যাচ্ছে তা থেকে টিসিবি’র ডাল ভালো। কিন্তু সাধারণ মানুষ এটা বুঝতে চাচ্ছে না। যার কারণে ডালের বিক্রির কম। এ কারণে ডাল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে। অন্য সব পণ্য ঘন্টাখানেক এর মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের দাবি প্রতিদিন ছোলা, তেল ও চিনি এই তিনটি পণ্য উত্তোলনের পরিমাণ যদি বাড়িয়ে দিত তাহলে আমাদের খরচ পোষানো যেত। বর্তমানে ট্রাক খরচ ও কর্মচারী খরচ দিয়ে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩শ’ টাকার ওপরে খরচ আছে। এর বাদে টিসিবি’র অফিসে গেলে টুকটাক চা-পানি খাওয়ার জন্য খরচতো আছে। একবারে বেশি পণ্য উত্তোলন করতে পারলে বিক্রি করে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। তার টিসিবি’র ট্রাক সেল নগরীর নতুন বাজার স্পটে ছিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে।
টিসিবি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত টিসিবি’র পণ্য উত্তোলনের জন্য ১৪ জেলার মধ্যে মাত্র ২৯ জন ডিলার ডিও জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে একজন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ