ঢাকা, শুক্রবার 19 May 2017, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২২ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা-অসুবিধা প্রসঙ্গে

মো. বশির আহমদ : পেনশনারের/পারিবারিক পেনশনারের জ্ঞাতার্থে সরকারের প্রদেয় সুবিধাগুলো সম্পর্কে সকলে অবগত হলে একদিকে পেনশনারগণ যেমন সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হবেন অন্যদিকে তারা সুবিধাগুলো উপভোগও করতে পারবেন। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে একটি নিবন্ধে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা-অসুবিধা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোকপাত করেছি যা স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। আজকের নিবন্ধে আরো কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হলো। 

১। পেনশনার মারা গেলে তার স্ত্রী/ স্বামী যে হারে পারিবারিক পেনশন পেতেন, সে হারেই পেনশন পাবেন। তবে ১ জুন ১৯৯৪ তারিখের পূর্ববর্তীগণ এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। (এস্টাবলিসমেন্ট ম্যানুয়েল ১৯৯৫ , পৃষ্ঠা নং ৭২৩) এ বিষয়টি পেনশন বিধিমালার ২৩৭, ৩৩৮, ২৩৯,২৪০ এ উল্লেখ আছে। স্বামী যে হারে প্রাপ্য ছিলেন সে হারে বিধবা স্ত্রী পাবেন। ১ জুন ১৯৯৪ তারিখে এর পরে বিভিন্ন সময়ের বর্ধিত সুবিধা পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাবেন। 

২। পেনশন কেইসসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও অনেক পেনশনারদের কয়েক বছর যাবত অনিষ্পন্ন থাকায় তাদের পরিবার বা তার পেনশন অপ্রাপ্তিতে মারাত্মক ভোগান্তিতে আছেন এদের ব্যাপারে যদিও সরকারি আইন দেয়া আছে কিন্তু বাস্তবে নানান আইনি জটিলতায় তার পেনশন পাচ্ছেন না। এ ধরনের কেইসগুলোর প্রতি সরকার দ্রুত স্পষ্টীকরণ ও সমাধান দেয়া প্রয়োজন।

৩। পেনশনারের মৃত্যুর পর পারিবারিক পেনশন অর্থাৎ বিধবা স্ত্রী পেনশনারের বয়স অনুযায়ী পারিবারিক পেনশন পাবেন, নাকি বিধবা স্ত্রী নিজের বয়স অনুযায়ী পারিবারিক পেনশন পাবেন এ ব্যাপারে স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন। যেমন একজন পেনশনার পি, আর, এল এ থাকা অবস্থায় অথবা ৬৫ বছর উপরে বয়সে মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তার বিধবা স্ত্রী পারিবারিক পেনশন স্বামীর বয়স অনুযায়ী পাবেন, নাকি নিজের বয়সের হিসেবে পেনশন, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা পাবেন তা স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন। বর্তমানে দেখা গেছে বিধবা স্ত্রী পারিবারিক পেনশন স্বামীর মৃত্যু পি, আর, এল থাকাবস্থায় হওয়ায় স্ত্রীর বয়স অনুযায়ী ফিক্সেশন হওয়ায় তারা পেনশনারের পেনশন প্রাপ্তির হার ও ‘ধারাবাহিকতা’ কথাটির স্পষ্টীকরণ না হওয়ায় পারিবারিক পেনশনারগণ স্বামীর বয়স অনুযায়ী পারিবারিক পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

এরকম আরো কিছু জটিলতা পেনশনার/ পারিবারিক পেনশানারদের এখনও আছে। সরকার অনেক জটিলতা পর্যায়ক্রমে সমাধান করেছেন। আগামীতে সরকার এদিকে নজর দিলে আরও সহজীকরণের ব্যবস্থা নিলে পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনারগণ উপকৃত হবেন। 

৪। যেহেতু আগামী ১ জুলাই ২০১৭ হতে সরকারি নির্দেশানুযায়ী পেনশনার ১০০% পেনশন সমর্পণ করতে পারবেন না, তাই পেনশনারদের সুবিধার্তে ১০০% বলতে মূল বেতনের ১০০ টাকার স্থলে ৯০ টাকার হিসেবে পেনশন ১০০% বুঝানো হয়। উক্ত ১০০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা অর্থাৎ ৯০% এর স্থলে ১০০ টাকার ১০০% পেনশন সুবিধা প্রদান করে ৫০% এর আনুতোষিক অর্থাৎ মূল বেতনের ১০০ টাকার মধ্যে ৫০ টাকার আনুতোষিক প্রদানের ব্যবস্থা এবং আনুতোষিক মূল বেতনের ১ টাকার জন্য ২৩০ টাকার স্থলে ২৫০ টাকা করে দিলে ১০০% সমর্পণের সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষতি পূরণ হবে। তাই এই বিষয়ে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থ বছর বাজেট প্রণয়নের পূর্বে পেনশন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনারদের পক্ষে বিনীত আবেদন করছি। 

৫। যদিও সরকারি আদেশ ২০১৫ সালে দেয়া হয়েছে কিন্তু পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনারগণ ই, এফ, টি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) সিস্টেমে পেনশনের টাকা উত্তোলনের জন্য নিজের বর্তমান অবস্থানের নিকটস্থ ব্যাংক থেকে যে সুবিধা প্রণয়ন করেছেন। কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃদ্ধ, অচল, যাতায়াতে অক্ষম পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনার মাসে মাসে কর্মস্থলের দূরত্বের ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে অনেক কষ্ট ও অসুবিধা হয়। অবিলম্বে ই, এফ, টি সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনারগণের আকুল আবেদন। সরকার যদিও জনগণের বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু জনগণ তার সুফল থেকে বঞ্চিত থাকায় জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ধু¤্রজাল সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার এত সুযোগ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় আছেন কিন্তু বাস্তাবায়নের বিলম্বতায় এর সুফল জনগণ ভোগ করতে পারছেন না। এটা দূর করা প্রয়োজন এবং তা সম্ভব সত্বর সমাধান হওয়া দরকার। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের সাথে সাথে এই আইনের প্রচলন করে নিয়েছে তখন বাকি ব্যাংকগুলোতে এখনও এত দেরি কেন? এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

আশা করি এ দেশের জন্য দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে দেশকে যারা এগিয়ে দিয়েছেন, বৃদ্ধ বয়সে সরকার তাদেও ঐ প্রচেষ্টার সম্মানের দিকে নজর দিবেন। এটাই সরকারের প্রতি পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনার ও বর্তমান চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা। যা সরকারের আগামী চিন্তাধারাকে দীর্ঘায়িত ও সার্থক করবে বলে আমি মনে করি। 

আমি মো. বশির আহমদ (মোবাইল নং ০১৭১৭৮০২০০১/ ০১৯২৯৩৭৩৮৩৯) বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি কল্যাণ সমিতি সিলেট জেলা শাখার সদস্য নং ৪০৭, সিলেট বিভাগস্থ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা, হবিগঞ্জ জেলা শাখা, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সকল পেনশনার/ পারিবারিক পেনশনারের প্রতি এ বিষয়ে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি। আগামীতে বিভাগীয়ভাবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের এ দাবি-দাওয়া প্রস্তাব আকারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ ও সহায়তা প্রাপ্তির জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

আমরা ছিলাম দেশের কল্যাণে আর বর্তমান সরকারও আছে দেশ ও জনগণের কল্যাণে। 

লেখক : যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি কল্যাণ সমিতি, সিলেট জেলা শাখা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ