ঢাকা, সোমবার 29 May 2017, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩, ২ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোজা কীভাবে রাখব?

মূল: মাওলানা মুজাম্মিল সিদ্দিকী 
অনুবাদ: মুহাম্মদ আবুল হুসাইন

[লেখক একজন ইমাম এবং ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কান্ট্রি, কেলিফোর্নিয়া, ইউএস’এর একজন ডিরেক্টর। এছাড়া তিনি ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট।]

রোজার নিয়ম

১. কার উপর রোজার ফরজ: পবিত্র রমজান মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক (সাবালক প্রাপ্ত) নারী ও পুরুষের রোজা ফরজ যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক এবং যারা ভ্রমণরত নয়। যাদের অসুস্থতা সাময়িক এবং শীঘ্রই আরোগ্য লাভের আশা আছে তাদের জন্য অসুস্থকালীন সময়ে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে রমজানের পর তাদেরকে অবশ্যই ছুটে যাওয়া রোজাগুলো পূর্ণ করতে হবে। আর যাদের অসুস্থতা আরোগ্যযোগ্য নয় বা শীঘ্রই ভালো হওয়ার কোন আশা নেই তাদেরকেও রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদেরকে ছুটে যাওয়া রোজা রাখতেও হবে না; তবে তাদেরকে অবশ্যই ফিদিয়া আদায় করতে হবে। প্রতিটি ছুটে যাওয়া রোজার ফিদিয়া হচ্ছে একজন দরিদ্র মানুষকে একদিনের খাদ্য বা সমপরিমাণ অর্থ প্রদান। নারীদেরকে তাদের মাসিক চলাকালীন সময়ে (হায়েয) কিংবা প্রসূতিকালীন রক্ত¯্রাবের সময়ে (নিফাস) রোজা রাখার অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে তাদেরকে অন্য সময়ে অবশ্যই ছুটে যাওয়া রোজাগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া গর্ভবতী এবং প্রসূতি নারীদের যারা সন্তানকে দুধ পান করান তাদের পক্ষে রোজা রাখা যদি কষ্টকর হয়, তাহলে তাদের জন্যও রোজা না রাখার অনুমোদন রয়েছে; তবে সুবিধাজনক সময়ে তাদেরকেও অবশ্যই না রাখা রোজাগুলো পূর্ণ করতে হবে।

২. সফরের সময়ে রোজা না রাখার বিধান রয়েছে। যে কোন সফর তা যদি নিজ শহরের বাইরে হয় এবং কমপক্ষে ৪৮ মাইল বা ৮০ কিলোমিটারের দরত্বের হয়, তাহলে সেই সফরের সময় রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে সফরের জন্য উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে। কেউ যদি রোজা না রাখার উদ্দেশ্যে অহেতুক সফরে যায় তাহলে তা হবে গুনাহ’র কাজ। বরং একজন মুসলমানের উচিত হবে ফরজ রোজা পালনের স্বার্থে রমজান মাসে সফরের কর্মসূচী পরিবর্তন করে অন্য সময়ে তা নির্ধারণ করা।

৩. রোজার সুন্নত:

ক. সেহরি খাওয়া। এটি রাসূলের সুন্নত এবং সেহরি গ্রহণের মধ্যে অনেক পুরুষ্কার এবং বরকত রয়েছে। সেহরির সর্বোত্তম সময় হল সুবহে সাদিকের আধা ঘন্টা পূর্ববর্তী সময়।

খ. সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ইফতার গ্রহণ করা এবং অহেতুক দেরী না করা।

গ. অহেতুক এবং মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। ঝগড়া-বিবাদ না করা, গালিগালাজ এবং অশ্লীল কথা না বলা। হারাম এবং অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা। মুখ, ঠোট শুকনো রেখে এবং মনমরা ভাব প্রকাশ করে রোজার প্রদর্শনী না করা।

ঘ. বেশি বেশি দান-খয়রাত করা, ভাল কাজ করা, নফল নামাজ পড়া, কোরআন পাঠ করা। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রমজান মাসে অন্তত একবার কোরআন খতম করা।-বাতিঘর 24

চলবে-

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ