ঢাকা, রবিবার 21 May 2017, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর আগুন লুটপাট

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা : পাবনার সাঁথিয়ায় হত্যা মামলার আসামী হয়ে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি এলাকা ছাড়া। এলাকায় না থাকায় চলছে একের পর এক বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে।

জানা যায়, গত ১৯ মার্চ (শুক্রবার) রাত ১টার দিকে উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে আলী আকবরের বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে বাড়ির তিনটি ঘর, ঘরে থাকা ২০ মণ পেঁয়াজ, ২০টি মুরগিসহ আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। অগ্নিসংযোগের সংবাদ পেয়ে সকালে আলী আকবরের বৃদ্ধা মা জরিনা খাতুন ও ছোট ভাই সুজন বাড়ি ফিরে দেখেন তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। সুজন সব হারানোর কষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জরিনা খাতুন জানান, ভয়ে আমরা বাড়িতে থাকি না। তিনি প্রশ্ন করেন, কোন্্ অপরাধে আমার বাড়িতে আগুন দেওয়া হলো। এভাবেই প্রায়ই ওই এলাকায় ঘটছে ভাঙচুর আর লুটপাট। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোপূর্বে এ হত্যাকান্ডের আসামীদের বাড়িতে এভাবেই দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট করে। হত্যার প্রধান আসামী সন্তোষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পাকা ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। রাতের অন্ধকারে সবকিছু লুট করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। কারা লুট করেছে এ প্রশ্নে এলাকাবাসী কিছু বলতে পারেনি। মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে থাকা কল্যাণপুর গ্রামের আল-আমীন, আজমত, আজিম, আজগর, সের আলী ও আসকারের প্রায় ২০টি ঘরে ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে মর্মে স্বজনদের অভিযোগ। তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরের টিন চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। 

এদিকে এত কিছুর পরেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাঁথিয়া থানা পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এমনকি কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তারও কোন কিনারা খুঁজে পায়নি। আসামীপক্ষের দাবি পুলিশ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরব ভূমিকা পালন করছে।

অপরদিকে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকার অধিকাংশ পরিবার আতংকের মধ্যে অতিবাহিত করছে। তাদের ভয় কখন কে এ ভাঙচুরের ঘটনার শিকার হন।

প্রকাশ, গত ২৩ মার্চ কল্যাণপুর গ্রামের ময়নাল গ্রুপ ও সন্তোষ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২৪ মার্চ ময়নাল মারা যায়। ২৪ মার্চ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং ২৬। তারিখ ২৪/৩/১৭।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু দিলওয়ার হাসান এনাম জানান, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এক প্রশ্নের জব্বাবে তিনি জানান, এসব ঘটনায় আইন শৃংখলার অবনতি হয়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ