ঢাকা, রবিবার 21 May 2017, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঐতিহ্যবাহী পরিভাষা ভুলিয়ে দেবার ষড়যন্ত্র

বাংলাভাষী মুসলমানরা আল্লাহ, রসূল (স), সালাত, সালাম, ইবাদত, দুআ, দাওয়াত, মেহমান, খিদমত, শাদি মুবারক ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী শব্দমালা যাতে ধীরে ধীরে ভুলে যায় সেজন্য নানামুখি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আমাদের পাঠ্যপুস্তকে এসব শব্দমালা লিপিবদ্ধ ছিল। এখনও কিছু কিছু রয়েছে। কিন্তু একটি মহল অত্যন্ত সুকৌশলে ও সুপরিকল্পিতভাবে পাঠ্যপুস্তকের উল্লিখিত শব্দমালা মুছে ফেলতে তৎপর। মহলটি আল্লাহর পরিবর্তে সৃষ্টিকর্তা, প্রভু, ঈশ্বর; সিয়াম বা রোযার স্থলে উপাসনা প্রভৃতি শব্দ প্রতিস্থাপন করতে আগ্রহী। অথচ উল্লিখিত শব্দসমূহের একটিও আল্লাহর সমার্থক নয়। উপাসনা শব্দ দ্বারাও সিয়াম বা রোযার যে তাৎপর্যবহ অর্থ তা বোঝায় না। বলতে দ্বিধা নেই, ইতোমধ্যে আত্মঘাতী প্রতিস্থাপন প্রকল্পের অনেকাংশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 

আমাদের সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতে একশ্রেণির সম্পাদক, উপস্থাপক, সংবাদপাঠক মুসলিম পরিভাষা বিদ্বেষী আত্মঘাতী অপতৎপরতায় লিপ্ত। অথচ এদের সিংহভাগই বংশানুক্রমে মুসলমান। কিন্তু প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশের পাঠ্যপুস্তকে অন্য একটি জাতিগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত শব্দসমূহ প্রতিস্থাপন করার বিনাশী অপতৎপরতা কার স্বার্থে? একটি কথিত প্রগতিশীল সংবাদপত্রে কর্মরত এক রিপোর্টার অভিযোগ করেছেন, সেখানে নাকি ইন্তিকাল, লাশ, দাফন, জানাযা এমন শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ। কারণ এগুলো সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী দূষণে দুষ্ট শব্দ। এসব শব্দের স্থলে লিখতে হবে মৃত্যুবরণ, প্রয়াত, মরদেহ, সমাহিত, শেষকৃত্য ইত্যাদি। এটাই নাকি কাগজটির সম্পাদকীয় পলিসি। এছাড়া সেখানে এ উপমহাদেশে মুসলমানদের ব্যবহƒত ঐতিহ্যবাহী শব্দমালাকে বিদেশী ভাষা বলে এড়িয়ে চলবার সম্পাদকীয় নীতি বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা বুঝতে নিশ্চয়ই কারুর অসুবিধে হবার কথা নয়।

সমাজের অন্য কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা জাতিগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের সুসম্পর্ক, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং ঔদার্য অবশ্যই থাকবে। তবে তা নিজের বিশ্বাস বা ঈমানকেন্দ্রিক সৌকর্য ও দীনী স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে নিশ্চয়ই নয়। উল্লেখ্য, ধর্মনিরপেক্ষতার নামাবলি গায়ে ধারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠের ঈমানবিনাশী অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়ে দীনদার ও একনিষ্ঠ মুসলমানদের ঔদার্য আর আন্তরিকতার সুযোগে তাদের হƒদয়-জমিনে ভিন্ন সংস্কৃতিবোধ-বিশ্বাসের বীজবপনে সচেষ্ট বিভীষণদের চিহ্নিত করে জনসম্মুখে মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন আত্মবিনাশক ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা খুব জরুরি বলেই আমরা মনে করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ