ঢাকা, রবিবার 21 May 2017, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রবীন্দ্র কাছারি বাড়ীকে ঘিরে পর্যটন আকর্ষণ

শাহজাদপুর : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ী

শাহজাদপুর: বাংলা সাহিত্যের নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুর কাছারি বাড়ী। বিশ্বকবির শৈশব ও যৌবনের নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে শাহজাদপুর কাছারি বাড়ীকে ঘিরে।আর তাই প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ীতে আগমন ঘটে পর্যটকদের। কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কবি ৩০ বছর বয়সে বিলেতে লেখাপড়া করে (১৮৯০-৯৬) সালে ছায়াছন্ন খালবিলে ভরা পূর্ব বাংলার অনেকাংশ শিক্ষা সভ্যতা বিবর্জিত শাহজাদপুরে আসেন। 

তিনি সাধারণত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ হয়ে নৌকাযোগে শাহজাদপুর ও নওগাঁর পতিসর আসেন। এর পূর্বে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের পূর্ব পূরুষ নাটোরের রাণী ভবানীর নিকট থেকে তের টাকা দশ আনায় শাহজাদপুরের জমিদারী কিনে নেন। আর এই জমিদারী দেখাশুনার জন্যই ১৮৯০-৯৬ সাল পর্যন্ত শাহজাদপুরে নিয়মিতভাবে আসা যাওয়ার পাশাপাশি সাময়িক বসবাস করেছেন। এর পূর্বে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ীর ভবন দুটি ছিল ইংরেজ নীলকর বাবুদের। নীলকররা ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত লাল বর্ণের দুটি দ্বিতল ভবন তৈরী করেন। নীলকর বাবুদের অত্যাচার নির্যাতনের সাক্ষি কাছারি বাড়ীর পশ্চিমের ভবনটিতে কখনও যাননি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর। আর কাছারি বাড়ীর পূর্ব আঙ্গিনায় দ্বিতল ভবনটি বর্তমানে রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর হিসেবে পরিচিতি। কবি জীবনের নানা স্মৃতি আজও কালের সাক্ষী হয়ে সংরক্ষিত আছে এই জাদুঘরে। শাহজাদপুরে অবস্থানকালিন কবি এর প্রকৃতি, পরিবেশ, ঘটনা প্রবাহ নিয়ে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক , গান রচনা করেছেন যা রবীন্দ্র সাহিত্য ভান্ডার প্রমাণ বহন করে। শাহজাদপুরে বসে তিনি “সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, পঞ্চভূতের ডায়েরী, ছিন্নপত্র, সমাপ্তি, তত্ত্ব ও সৌন্দর্য্য, মানষী, অসময়, শেষ কথা উলে-খযোগ্য গ্রন্থ্য রচনা করেছেন।যদিও বিশ্বকবি শিলাইদহ ও পতিসরের চেয়ে শাহজাদপুরে কম সময় অবস্থান করেছেন তবুও শাহজাদপুরের যমুনা, বড়াল, হুরাসাগর, করতোয়া, ইছামতি নদী রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশাল স্থান দখল করে আছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত খাট, পালকি, খড়ম জুতা, চশমা, তোষক, চেয়ার , পানির ট্যাপ, টেবিল , আলনা, ড্রেসিং টেবিল, থালা, বাসন, বদনা সহ নানা সামগ্রী। ১৯৬৯ সালে এই কাছারি বাড়ীকে পরিছন্ন করে সরকার প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতা এনে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। এবং ১৯৯৯ সালে কাছাড়ি বাড়ীর পশ্চিম আঙ্গিনায় ৫০০ আসন বিশিষ্ট উত্তর বঙ্গের সবচেয়ে নান্দনিক অডিটরিয়াম নির্মাণ করে। প্রতিবছর ২৫,২৬,২৭ বৈশাখ কবির জন্মজয়ন্তী সরকারীভাবে উদযাপন করা হয় নানা অনুষ্ঠান মালার মাধ্যমে । এ উপলক্ষে ৫দিন ব্যাপী বসে মেলা। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি ভক্তরা ভীড় করে কবির কাছারি বাড়ীতে। বর্তমানে কাছারি বাড়ীটি আধুনিকতার আবহে বাহারী গাছ ও ফুলের সমারোহে সুসজ্জিত করার ফলে পর্যটনদের দারুন ভাবে আকর্ষিত করে। এবং শাহজাদপুরবাসী রবীন্দ্র কাছারি বাড়ীকে ঘিরে একটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবী তুলছে জোরে সোরেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ