ঢাকা, রবিবার 21 May 2017, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কামারদের সেই সুদিন আর নেই

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : নরিনা পালপাড়ায় মাটি দিয়ে স্লাব তৈরি করছে কুমারীরা

শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার ২ শতাধিক কামার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকে পড়ছেন। আবার অনেকেই পেশা ধরে রেখে বহু কষ্ট কোনোমতে দিন যাপন করছেন। লোহার দাম বৃদ্ধি ও কামারদের তৈরি জিনিসপত্র আমদানি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কামাররা যুগযুগ ধরে লৌহজাত দ্রব্যকে আগুনে পুড়িয়ে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত দা, ছুড়ি, বটি, খুন্তি, কুড়াল, কোদাল, সাবল, কাঁচি ও লাঙ্গলের ফলা তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও মেলায় বাজারজাত করে আসছে। বর্তমানে লোহার দাম বৃদ্ধি ও বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি হওয়ায় কর্মকারদের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা দিন দিন হ্রাস পেয়েছে। এক দশক আগেও ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও গ্রামগঞ্জে ২ শতাধিক কামার এ পেশায় জড়িত ছিল। কালের বিবর্তনে কামার পেশা দিন দিন বিলুপ্ত হতে চলছে। বিগত সময় কামাররা বসতবাড়ির অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত লোহা কম দামে ক্রয় করে আগুনে পুড়ে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী তৈরি করে বাজারজাতের মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে স্ক্র্যাব বা ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীরা গ্রামগঞ্জে ঘুরে বসতবাড়ির ভাঙা-চোরা লোহা-লক্কড় ক্রয় করে বিভিন্ন ইস্পাত কারখানায় সরবরাহ করছে। যে কারণে কামররা পুরনো লোহা এখন আর পায় না। কামারদের বেশি দাম দিয়ে লোহা ক্রয় করে জিনিসপত্র তৈরি করতে হচ্ছে। এতে তৈরি জিনিসপত্র হাট-বাজারে বিক্রি করে তেমন লাভ করা যায় না।

সহদেব কর্মকারসহ বেশ কয়েকজন জানান, পরিত্যক্ত লোহা আগুনে পুড়িয়ে যেসব সামগ্রী বানানো হয়, তা বর্তমানে চীন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে। বিদেশি সামগ্রীতে হাট-বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব সামগ্রী দেখতে সুন্দর ও সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ এখন কামারদের তৈরি সামগ্রী কিনতে চায় না। বর্তমানে দা, কোদাল ছাড়া কামারদের তৈরি করা সামগ্রীর তেমন চাহিদা না থাকায় আয় উপার্জন অনেকাংশে কমে গেছে। এখন দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার জন্য সারাদিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

বর্তমানে লোহার দাম যেহারে বেড়েছে সেহারে কামারদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। লোহাজাত সামগ্রী তৈরির উপকরণ কাঠ-কয়লা সংগ্রহ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে প্রশাসনের ঝামেলা পোহাতে হয়। অনেক সময় টাকা দিয়েও কাঠ-কয়লা পাওয়া যায় না।উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ রহমান জানান, দেশে কামারশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ পেলে কামাররা হয়তো তাদের বাপ-দাদার পেশাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে সক্ষম হবে এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ