ঢাকা, রবিবার 21 May 2017, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৪ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শত্রুতাপূর্ণ নীতি ত্যাগ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয় -উ. কোরিয়া

 

২০ মে,  আল জাজিরা : জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত কিম ইন-রিয়ং বলেছেন,  ‘সবাই জানেন,  মার্কিন কর্তৃপক্ষ আলোচনা করতে চাইছে। কিন্তু এখানে কথাটাই যথেষ্ট নয়,  কাজটাই মূল বিষয়।’ তিনি জানান,  মার্কিন প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ নীতি ত্যাগ না করলে,  তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসবে না। 

এর আগে উত্তর কেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা চোয়ে সুন-হুই গত সপ্তাহে বলেছিলেন,  ‘পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে পিয়ংইয়ং।

কিম ইন-রিয়ং বলেন,  ‘কোরিয়া উপদ্বীপে সব সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত হলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি শত্রুতাপূর্ণ নীতি ত্যাগ করা।’ তিনি এ শত্রুতাপূর্ণ নীতিকে ‘সব সমস্যার মূল কারণ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ং-এর বিরুদ্ধে ‘এককভাবে’ ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন,  উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের সংঘাত’ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,  উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারলে নিজেকে ‘গর্বিত’ মনে করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।  

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপকে কোরিয়া উপদ্বীপে পাঠানোর ঘোষণার পর শুরু হওয়া যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সাবমেরিনের উপস্থিতি।

কয়েক সপ্তাহ আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এক যৌথ সামরিক মহড়া চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন যুদ্ধবিমান উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমার খুব কাছ দিয়ে উড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

পিয়ংইয়ং কোরিয়া উপদ্বীপে যে কোনও সামরিক মহড়াকে আগ্রাসন বলে মনে করে। তারা এর প্রতিক্রিয়ায় হুমকি দিয়ে বলেছিল,  ‘মার্কিন আগ্রাসন রুখতে প্রয়োজনে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে। মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়া হবে।’  

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং সতর্ক করে দিয়ে বলেছে,  ওয়াশিংটন শত্রুতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ না করা পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা চলতেই থাকবে।

এদিকে উত্তর কোরিয়া সংকটের সামরিক সমাধান খুঁজতে যাওয়া হবে ‘অবিশ্বাস্য মাত্রায় মর্মান্তিক’,  এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ম্যাটিস সতর্ক করে বলেন,  ‘আপনারা জানেন,  যদি এ সংকটের নিরসনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়,  তাহলে এটি অবিশ্বাস্য মাত্রায় মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে।’

সমাধানের পথ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করে বলেন,  ‘আমাদের কাজ হবে জাতিসংঘ,  চীন,  জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কাজ করে একটি সমাধানের পথ বের করা।’

ম্যাটিস অভিযোগ করেন,  পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কথা শুনছে না। তবে উত্তর কোরিয়াকে চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং সতর্ক করে দিয়ে বলেছে,  ওয়াশিংটন শত্রুতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ না করা পর্যন্ত এ ধরনের পরীক্ষা চলতেই থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ