ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোজা কীভাবে রাখব? [দুই]

মূল: মাওলানা মুজাম্মিল সিদ্দিকী 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আবুল হুসাইন

[লেখক একজন ইমাম এবং ইসলামিক সোসাইটি অব অরেঞ্জ কান্ট্রি, কেলিফোর্নিয়া, ইউএস’এর একজন ডিরেক্টর। এছাড়া তিনি ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট।]

যেসব কাজে রোজা ভঙ্গ হয়

রোজা রাখা অবস্থায় এমন কোন কাজ করা উচিত নয় যা আমাদের রোজা নষ্ট করে দেয়। 

যেসব কাজে রোজা নষ্ট হয় এবং কাজা করতে হয় সেগুলো হল:

১. ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া, পান করা কিংবা ধূমপান করলে রোজা নষ্ট হবে। এছাড়া নাক, মুখ বা পায়ুপথে অপুষ্টিকর কোনকিছু প্রবেশ করালেও রোজা নষ্ট হবে এবং কাজা করতে হবে।

২. ইচ্ছাকৃতভাবে নিজে নিজে বমি করলে রোজা নষ্ট হবে।

৩. নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হলে অথবা সন্তান জন্ম দেয়ার পর রক্তপাতের সময়। ইফতারের আগ মুহূর্তেও যদি মাকিস শুরু হয় তাহলেও রোজা নষ্ট হবে এবং পরে কাজা করে নিতে হবে।

৪. যৌন সঙ্গম অথবা অন্য কোন ভাবে যৌন তৃপ্তি লাভ করা। যেমন পুরুষের ক্ষেত্রে হস্তমৈথুন, যার ফলে বীর্যপাত হয় এবং নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথ থেকে কিছু নিঃসরণ হলে।

৫. এখনও ফজরের সময় হয়নি এরকম ভূল ধারণা করে ফজরের পরে খাদ্য-পানীয় গ্রহণ, ধূমপান কিংবা যৌনসঙ্গম করলে। অনুরূপভাবে ইফতারির সময় হয়েছে মনে করে সূর্যাস্তের পূর্বেই উপরোক্ত কাজ গুলো করলে। উভয় অবস্থায় রোজা ভঙ্গ হবে এবং কাজা করতে হবে।

৬. রোজা অবস্থায় যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ এবং কবিরা গুনাহ। কাজেই যারা এ কাজে লিপ্ত হবে তাদের উভয়ের রোজা তো ভাঙবেই ; কাজা এবং কাফ্ফারা আদায় করতে হবে এবং অবশ্যই তওবা করতে হবে। এই কঠিন অপরাধের কাফফারা হল রমজান মাসের পর প্রত্যেককে একটানা ৬০টি রোজা রাখতে হবে অথবা ৬০ জন গরীব লোককে ১ দিনের খাদ্য বা সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে। এটি হল এভাবে ইচ্ছাকৃতভঅবে একটি রোজা ভাঙ্গার শাস্তি। একাধিক হলে শাস্তিও এই অনুপাতে বেশি হবে। ইমাম আবু হানিফর মতে ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে রোজা ভাঙলে তার জন্যও একই ভাবে কাফ্ফারা প্রযোজ্য হবে।

যেসব কাজে রোজা ভঙ্গ হয় না

রোজা অবস্থায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বৈধ:

১) গোসল করা বা শরীর ধোয়া। বেশিরভাগ ফেকাহবিদদের মতে, রোজা রাখা অবস্থায় সাঁতারকাটা বৈধ। তবে ডুব দেয়া পরিহার করা ভাল; কেননা তাতে মুখ বা নাক দিয়ে পেটের ভিতর পানি চলে যাওয়ার আশংকা থাকে। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভিতর পানি চলে গেলে তাতে রোজা নষ্ট হবে না।

২) সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করা, চোখে কন্টাক্ট লেন্স পড়া এবং আই ড্রপ দেয়া যাবে।

৩) ইনজেকশন নেয়া কিংবা রক্ত পরীক্ষা করানো যাবে।

৪) মিশওয়াক, টুথপেস্ট সহ টুথ ব্রাশ এবং গরগর না করে কুলি করা এবং সতর্কতার সাথে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা যাবে। অজুর সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে কুলি কিংবা নাকে পানি দেয়ার সময় গলার ভিতর পানি চলে না যায়।

৫) ভুলে খাদ্য, পানীয় গ্রহণ বা ধূমপান করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে রোজা রাখার কথা মনে হওয়ার সাথে সাথে খ্যাদ্য, পানীয় গ্রহণ কিংবা ধূমপান বন্ধ করতে হবে এবং রোজা অব্যাহত রাখতে হবে।

৬) দিনের বেলা ঘুমালে কিংবা স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভঙ্গ হয় না।

৭) ফজরের পূর্বে গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় গোসল করতে না পারলে রোজা ভঙ্গ হবে না, তবে দেরি না করে নামাজের পূর্বে অবশ্যই গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে।

৮) রাতের বেলা যদি কোন নারীর হায়েয বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তিনি রোজা রাখতে পারবেন। তবে নামাজের আগে অবশ্যই গোসল করতে হবে।

৯) সহবাসের পর ঘুমিয়ে গেলে এবং ঘুমের কারণে সেহরি এমনকি ফজরের নামাজ কাজা হলেও রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে এমনটি রোজার স্পিরিটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

১০) সংযমি হতে পারলে রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর চুম্বন নিষিদ্ধ নয়; তবে সংযমি হতে না পারলে এটি পরিহার করাই শ্রেয়, কেননা রোজা অবস্থায় সহবাস একেবারেই নিষিদ্ধ।

চলব-

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ