ঢাকা, সোমবার 22 May 2017, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৫ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র ও জাতীয় নির্বাচন

মাহমুদুল হক আনসারী : দেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণতান্ত্রিক রাজনীতি চালু থাকুক তা চায়। স্বাধীনতার পর থেকেই গণতান্ত্রিক ধারায় সরকার পরিচালিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। সভা সমাবেশ, মিছিল, মিটিং না থাকলে দেশ স্বাধীন করা যেতো না। সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। বাংলাদেশের প্রচলিত সংবিধানে সেটা লিখা আছে। জনগণের বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি আর দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র না থাকলে রাজনীতি ও দলের কি প্রয়োজন। দেশে বর্তমানে রাজনীতির চর্চার উপর কঠোর ভাবে নজরদারী চলছে। বিভিন্ন মত ও আদর্শের অনুসারী রাজনীতিবিদরা তাদের বক্তব্য বিবৃতি মিটিং মিছিল ও সভা সমাবেশ করতে পারছেনা। রাজনৈতিক দলের অফিস বাড়ি, ঘর, কড়া নজরদারীতে রাখা হচ্ছে। নেতা কর্মীর যোগাযোগ নজরদারীর মধ্যেই আছে। জনগণের অধিকারের কথা বলার জন্য গঠিত রাজনৈতিক অফিস এখন তালাবদ্ধ। নেতা কর্মীরা অফিসে যেতে পারেনা। ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বিরোধীদলের কর্মসূচী নেই  বল্লেই চলে। বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা রাজনৈতিক ভাবে অলস সময় পার করছে তাদের জীবনে। সরকারের সমর্থনপুষ্ট কতিপয় সুবিধাবাদী দল ছাড়া কেউ-ই মাঠে নামতে পারেনা। বলা যায় একদলীয় শাসন দেশে বিদ্যমান। মুখে বহু  দলীয় গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে একদলীয় শাসনে বাংলাদেশ চলছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘায়ু করার যত কৌশল সরকারের করা দরকার তাই করা হচ্ছে। সরকারের মদদপুষ্ট দল ও ব্যক্তি দিয়ে আগামী নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিস্থিতি এখন দেখা যাচ্ছে। ভোটার ও ভোটের অধিকার আদৌ জনগণ পাবে কিনা সেটাও বড় প্রশ্ন। নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশে কয়েকটি পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন হয়েছে। মোটামোটি ভাবে সুষ্ট নির্বাচন হয়েছে। তেমন বেশি বিশৃঙ্খলা, হাঙ্গামা হয়নি। প্রার্থী ভোটার সকলেই এক ধরনের সন্তুষ্ট হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের তেমন মাথা ব্যাথা দেখছিনা। জনগণের চিন্তা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে, কেমন হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন তখন কি ধরনের নির্বাচন উপহার দিবে। সুষ্টু নিরেপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবে কিনা। এ সব বিষয়ে জনগণের প্রশ্নের শেষ নেই। আসলে নির্বাচন কালীণ সরকার কি ধরনের হবে? কে থাকবে তখন সরকার প্রধান, তার কেমন ভুমিকা হবে? তিনি বা নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবে কিনা এ সব বিষয়ে জনগণের সন্দেহের কোন শেষ নেই। এ সব বিষয়ে সঠিক এবং বিশ্বাসযোগ্য সমাধান কার কাছে মিলবে তারও কোন উত্তর এখন জনগণের সামনে নেই। নির্বাচন ভোট, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে জনগণের সন্দেহ ও সংশয়ের কোন শেষ নেই। অন্ধকার অবস্থার মধ্যেই জাতি হিম শিম খাচ্ছে। বর্তমান সরকার খুবই পাওয়ারফুল সরকার। তারা ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত অনেক ধরনের বড় বড় ইস্যু সম্পন্ন করেছে। জনগণের সাথে দ্বিধা বিভক্ত ইস্যু এ সরকার বাস্তবায়ন করেছে। সরকার যেটা চায় সেটা করার মত পরিস্থিতি তাদের আছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামত তাদের মুখ্য নয়। ৫ জানুয়ারীর মত আরো একটি জাতীয় নির্বাচন সরকার করতে চাইলে তাও করতে পারবে। সেখানে বর্তমান বিরোধী দলের প্রতিরোধ করার মত শক্তি দেখাতে পারবে এমনটাও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে পারছেনা। নির্বাচন ভোট কি ধরনের হবে সেটা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কালীন সরকার বলতে পারবে। এখানে জনগণের প্রশ্ন হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা? বর্তমানে যে ভাবে রাজনীতিকে কন্ট্রোল করা হচ্ছে সে ভাবে যদি রাখা হয় তাহলে নির্বাচন ও ভোট কি ধরনের হবে সেটা জনগণ বুঝতে আর বাকী থাকবে না। এ ধরনের নির্বাচন আর ভোটের মাধ্যমে জনগনের পাওয়ার আর কিছু থাকবেনা। বাস্তবে দেশের জনগণ চায় তাদের স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করার ক্ষমতা। ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং আসা, পছন্দমত প্রার্থী ও দলকে জয়ী করা, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়া। ভোটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এ দেশের জনগণের আনন্দ হচ্ছে, ভোট ও নির্বাচন নিয়ে আনন্দ করা, খুশিমত মতামত ব্যক্ত করা। সন্ত্রাস হানাহানি মুক্ত নির্বাচন দেখা। কারচুপি, জালভোট, ব্যালট পেপার চিনতাই মুক্ত নির্বাচন দেখা। গণতন্ত্রের দাবীদার ভক্ত মানুষেরা সেটাই রাষ্ট্র থেকে দাবী করে। সে ধরনের গণতন্ত্র  ফিরে পেতে চায়। আসলে কি সে গণতন্ত্র দেশে আবার ফিরে আসবে? জনগণকি বাস্তবে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে? ঐতিহ্যবাহী ভোটের এ আনন্দপুর্ণ পরিবেশ জনগণ আগামীতে কামনা করছে। জনগণের ভাগ্যে যদি লেখা থাকে তাহলে সঠিক ভাবে ভোট প্রয়োগের অধিকার পেতেও পারে। আবার ভাগ্য খারাপ হলে নাও পেতে পারে। এটা জনগণের ভাগ্যের উপর নির্ভর করছে। সরকারের স্বদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে আগামী নির্বাচন কী ধরনের হবে। জনগণের সম্পৃক্ততা সরকার কি ধরনের চায় সব কিছু সরকারের পলিসির উপর নির্ভর করছে। 

এখনে জনগণের আশা আকাংখা হচ্ছে, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করা। ইচ্ছেমত পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়া, পছন্দের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাওয়া সব কিছু যদি ঠিক থাকে তা হলে ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ হবে। আর যদি নির্বাচন ৫ জানুয়ারির অনকুরণে হয়, তাহলে সেখানে এত বেশি লাফালাফি করার দরকার আছে বলে আমার মনে হয়না। দেশ এখন যেভাবে চলছে সেভাবে চলুক, চলতে দিন। কারণ গণতন্ত্র ভোট ও অধিকার যদি না থাকে তাহলে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে লাভ কি? নির্বাচন সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ করার জন্য সব ধরনের অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী আচরণ পরিহার করতে হবে। অগণতান্ত্রিক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশ, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাবোধ রেখে দেশ চালাতে হবে। আর যদি দেশের মানুষের মতামতের চিন্তা না করে আরেকটি ৫ জানুয়ারীর মত নির্বাচনের পরিকল্পনা হয়, তাহলে সেটাও ইতিহাসে লিখা থাকবে। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্র এক নয়। গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থাকে। আর স্বৈরতন্ত্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা আর ক্ষোভ জম্ম গ্রহণ করে। ক্ষোভ থেকে মানুষ বিদ্রোহী হয়। সমাজে হানাহানি, হাঙ্গামা বৃদ্ধি পায়। আশান্তি দানা বাঁধে। আর সুশাসনের মাধ্যমে দেশে শান্তি শৃংখলা, উন্নতি অগ্রতি অর্জিত হয়। মানুষের মঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়। দেশ এগিয়ে যেতে থাকে। জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ভোট নিয়ে জালিয়াতি আর কারচুপি কখনো জনগণ ভালভাবে দেখে না। জনগণ অধিক আগ্রহ করে আছে। আগামীর নির্বাচন হবে জনগণের মতামত প্রতিফলনের নির্বাচন। সুষ্ঠ অবাধ নির্বাচন করার জন্য বৈধ সকল রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হউক। অহেতুক রাজনৈতিক হয়রানী বন্ধ করা হউক। সঠিক গণতন্ত্র চর্চা চালু হউক। তাহলেই দেশ আরো উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। 

# লেখক : মাহমুদুল হক আনসারী, সংগঠক ও প্রাবন্ধিক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ