ঢাকা, সোমবার 22 May 2017, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৫ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শেখ জামাল প্রাইম ব্যাংক ও কলাবাগানের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে শেখ জামাল, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। শেখ জামাল ১ উইকেটে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবকে। আর মোহামেডানকে হারিয়ে দলটি উঠেছে সুপার লিগে। ১১ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে সুপার লিগে উঠল শেখ জামাল। সমান ম্যাচে মোহামেডানের পয়েন্ট ১২। সমান পয়েন্ট লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের। কিন্তু মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ায় ছিটকে পড়ল রূপগঞ্জ। হেরেও সুপার লিগে  মোহামেডান। মোহামেডান জিতলে সুপার লিগে উঠত রূপগঞ্জ। তখন শেখ জামালের পয়েন্ট থাকত ১২। গতকাল আগে ব্যাট করে মোহামেডান তুলেছিল ৩৩৯ রান। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে অপরাজিত ১৪৪ রান করেছেন শামসুর রহমান। দারুণ সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন রনি তালুকদার। শেখ জামালের সেঞ্চুরি করেনি কেউ। তবে ছিল ঝড়ো কিছু কার্যকর ইনিংস। জিতেছে তারা ২ বল বাকি থাকতে এক উইকেটে।  মোহামেডান ৩৩৯ রান করার পর শেখ জামালের আশার শেষ  দেখছিলেন অনেকেই। আর রুপগঞ্জের আশার পালে লেগেছিল হাওয়া। অসাধারণ রান তাড়ায় সেই হাওয়ার পালে নিজেদের তরি তীরে ভেড়াল শেখ জামাল। পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকা শেষ সময়ে ছিল এমন এক মোড়, একটি বলই শেষ করে দিতে পারত  শেখ জামালের আশা। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২ রান, উইকেটে শেষ জুটি। ৪৯তম ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বির দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মারলেন ইলিয়াস সানি, বাকি সব বলে সিঙ্গেল। এনামুল হক জুনিয়রের করা শেষ ওভারে প্রথম ৩ বলে এলো ২ রান। চতুর্থ বলে শেষ ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেনের বাউন্ডারিতে জয়। উদ্বোধনী জুটিতেই শেখ জামাল বুঝিয়ে দেয়, বড় রানেও তারা হাল ছাড়ছে না। ফজলে রাব্বি ও ভারতীয় প্রশান্ত চোপড়া ৩৯ বলে তোলেন ৫৮ রান। ২০ বলে ২৮ রান করা ফজলে রাব্বিকে ফেরানোর পর ওই ওভারে রাসেল আল মামুনকে তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। তবে দমে যায়নি শেখ জামাল। পরের জুটিতেই গতি পায় রান তাড়া। ইদানিং  বোলিংয়ের চেয়ে ব্যাটিংটাই ভালো করেন সোহাগ গাজী। এদিনও চারে নেমে দুর্দান্ত  খেললেন। ভারতীয় প্রশান্ত চোপড়া চালিয়ে খেলছিলেন শুরু থেকেই। দুজনের জুটি ৭০ বলে ৯৬ রানের। ৬০ বলে ৮৬ রান করেছেন প্রশান্ত, যার ৭০ রানই বাউন্ডারিতে। ১০টি চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা। মিডল অর্ডারে রাজিন সালেহ ও বিগ হিটার জিয়্উার রহমান সুবিধে করতে পারেননি। এই সময়টায় দলকে টেনেছেন গাজী। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে আগের ৩ অর্ধশতকে সর্বোচ্চ রান ছিল ৫৯। এবার গাজী করেছেন ৬৪ বলে ৮৯। গাজী  ফেরার সময় রান ৬ উইকেটে ২৩৩। মোহমেডান হয়ত আশা করছিল একটু স্বস্তির। কিন্তু শেখ জামাল যে হাল ছাড়লো না! সপ্তম উইকেটে ৮২ বলে ৮৭ রানের জুটিতে আবার দলকে পথে ফেরান তানবির হায়দার ও ইলিয়াস সানি। ক্যারিয়ার সেরা ৭২ বলে ৭৭ করে ফিরেছেন তানবির। লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে শেষের বৈতরণী পার করেছেন ইলিয়াস সানি। সকালে মোহামেডানের শুরুটাও ছিল ভালো। শামসুর রহমান ও সৈকত আলি গড়েন ৭৬ রানের জুটি। ২৮ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন সৈকত। দ্বিতীয় উইকেটে শামসুর ও রনি তালুকদারের ম্যারাথন জুটি। ১৭৭ বলে দুজন তোলেন ১৭৩ রান। ৯৯ বলে ১১০ রান করে ফিরেছেন রনি। শামসুর ব্যাট করে গেছেন শেষ পর্যন্ত। সেঞ্চুরি ছুঁতে খেলেছিলেন ১৩৪ বল। পরের ১৮ বলে করেছেন ৪৪ রান। ৭টি করে চার ও ছক্কায় ক্যরিয়ার সেরা অপরাজিত ১৪৪। দিন শেষে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন শামসুর। আছে হেরেও সুপার লিগে ওঠার স্বস্তি। তবে দিনটি শেখ জামালের!

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রাইম ব্যাংক ৭ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে। লিগের শেষ মুহূর্তে এসে অচেনা যেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। টানা ৯ ম্যাচ জেতা দলটি প্রথম পর্বের শেষ দুই ম্যাচ হেরে গেল। অবশ্য টানা দুই ম্যাচ হারলেও ১১ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে গাজী গ্রুপ। আর ৭ উইকেটের এ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এলো প্রাইম ব্যাংক। আগে ব্যাট করতে নামে গাজী গ্রুপ। ৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা। প্রাথমিক ওই ধাক্কা গাজী গ্রুপ সামলে ওঠে মুমিনুল হক ও জহুরুল ইসলামের ব্যাটে। তাদের দুজনের ফিফটিতে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে শীর্ষ দলটি। ১০৬ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৭৯ রানে মুমিনুল আউট হলে আবার ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। গাজী গ্রুপেরশেষ ৭ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছেন ৬২ রানের ব্যবধানে। জহুরুল ৬৬ রানে রিটায়ার্ড আউট হন। এছাড়া অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী (২৬) ও সোহরাওয়ার্দী শুভ (১৫) কেবল দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন। ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২১৪ রান করে গাজী গ্রুপ। প্রাইম ব্যাংকের নাজমুল ইসলাম ৩ উইকেট নেন। ২টি করে পান আল-আমিন হোসেন ও তাইবুর রহমান।

 খুব সহজে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় প্রাইম ব্যাংক। ৪৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে তারা করে ২১৮ রান। জাকির হাসান ও অভিমন্যু ঈশ্বরণের ফিফটি সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে প্রাইম ব্যাংকের জয়ে। জাকির ৬৬ রানে রিটায়ার্ড আউট হন, ম্যাচসেরা তিনি। ৫২ রান করেন ঈশ্বরণ। আল-আমিন ৪১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নেন। এছাড়া তাইবুর করেন ৩৩ রান।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। কলাবাগান ৫ উইকেটে হারিয়েছে  খেলঅঘর সমাজ কল্যানকে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ২০৪ রান করে প্রথম বিভাগ  থেকে উঠে আসা খেলাঘর। জবাবে ৪৭ ওভার ৫ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কলাবাগান। ফলে জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটে ভর করে জয় নিয়ে রেলিগেশন লিগ এড়িয়েছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। প্রথম ৮ ম্যাচে মোটে একটি জয় পাওয়া দলটি শেষের টানা তিন জয়ে নয় নম্বরে থেকে লিগ শেষ করেছে। আগেই রেলিগেশন লিগ নিশ্চিত হয়েছে একটি করে জয় পাওয়া পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের। তিনটি জয় পাওয়া খেলাঘর  যোগ দিয়েছে তাদের সঙ্গে। তারা একটি ম্যাচ জিতলেই প্রথম বিভাগে নেমে যাবে অন্য দুই দল।  ছোটো লক্ষ্য তাড়ায় তাসামুল হকের সঙ্গে ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে  দেন ম্যাচ সেরা জসিমউদ্দিন। আশরাফুলের সঙ্গে ১০৪ রানের আরেকটি চমৎকার জুটিতে  খেলাঘরের আশা অনেকটই শেষ হয়ে যায়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা জসিমউদ্দিন ফিরেন ৮৯ রান করে। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের ১০৫ বলের ইনিংসটি গড়া ১১টি চারে। তুষার ইমরান, সাদ নাসিমের দ্রুত বিদায়ের পর তাদের অনুসরণ করেন আশরাফুল। ১০৬ বলে তিনটি চারে তার ৫৬ রানের ইনিংসে দল যায় জয়ের খুব কাছে। মেহরাব  হাসেন জুনিয়রকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন মুক্তার আলী। খেলাঘরের লঙ্কান স্পিনার সুরজ রনদিভ ৩ উইকেট নেন ৩১ রানে। এর আগে শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় খেলাঘর। 

দলটির বিপদ আরও বাড়ে মন্থর ব্যাটিংয়ে। ২৪তম ওভারে ৭২ রানের মধ্যে ফিরেন ৫ ব্যাটসম্যান। আরিফুজ্জামান সাগরের সঙ্গে রাফসান আল মাহমুদের ১১৩ রানের চমৎকার জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে  খেলাঘর। তাদের লড়াইয়ে কোনোমতে দুইশ ছাড়ায় দলের সংগ্রহ। ৯৮ বলে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৭১ রান করে ফিরেন রাফসান। আরিফুজ্জামান তিনটি চারে ৪৬। দলের আর কেউ যেতে পারেননি ত্রিশের ঘরে। ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কলাবাগানের সেরা বোলার সাদ নাসিম। নাবিল সামাদ ২ উইকেট নেন ৩০ রানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ