ঢাকা, মঙ্গলবার 23 May 2017, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিকল্প খাতে গ্রাহকের আগ্রহ বাড়াতে  সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর ইঙ্গিত

 

স্টাফ রিপোর্টার : বেশি লাভের আশায় ব্যাংকে টাকা না রেখে গ্রাহকরা এখন আমানত রাখছে ব্যাংক বহির্ভূত ভিন্ন খাতে। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্রের সুদ বেশি থাকায় সেখানেই বিনিয়োগ করছে অনেক গ্রাহক। আর এই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মাসেই টার্গেটের প্রায় দ্বিগুণ অর্থ সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের ভিন্ন খাতে আকৃষ্ট করতেই সরকার এবার বাজেটে কৌশল অবলম্বন করার ঘোষা দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে আসন্ন বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকার সেভিং সার্টিফিকেট-এর সুদের হার কমানোর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। তবে নতুন রেট বিদ্যমান বাজারদরের চেয়ে কম হবে না।

একইসাথে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আরো জানিয়েছেন, স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য দেশের সব বন্দরে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ খালাস প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণ করা হবে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা বাড়ানোর লক্ষ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর সব ধরনের চার্জ উল্লেখযোগ্যহারে কমানো হবে।

সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমানোর বিষয়ে যুক্তি হলো সরকার চলতি অর্থবছরে বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ৯ মাসেই টার্গেটের দ্বিগুণের বেশি অর্থ সঞ্চয়পত্র থেকে ধার করেছে। এতে সুদসমেত আসল পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ার করেছেন অর্থনীতিবিদরা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর জানিয়েছে প্রতিদিন এখন গড়ে দুইশ’ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল, নয় মাসেই তার দ্বিগুণ নিয়ে ফেলেছে। গড়ে প্রায় প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচেছ। সঞ্চয়পত্র বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই সরকারকে এ ঋণ বহন করতে হচ্ছে; গুণতে হচ্ছে সুদ। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত।

এদিকে সূত্র জানায়, সরকার চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। কিন্তু জুলাই-মার্চ সময়েই ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই উল্লম্ফনে উদ্বেগ রয়েছে খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে এই নয় মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়েছে ৬৩ শতাংশের মত।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মার্চ মাসে ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হয়েছিল ৪ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে বিক্রি হয় ৩ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। নবেম্বরে বিক্রি হয় ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। একক মাস হিসেবে যা ছিল রেকর্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ