ঢাকা, বুধবার 24 May 2017, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৭ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আলাদা করে কিছু করার চেষ্টা

জাফর ইকবাল : মানুষ নিজের ইচ্ছে পূরণে কতো কিছুই না করে থাকে। অনেক সময় এগুলো হয়ে থাকে কিছুটা বিলাসিতা। আবার কখনো কখনো থাকে স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছে। সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেগুলো সম্পর্কে জানার পর অনেকেরই ইচ্ছে হবে নিজেও কিছু করতে। 

৫০ ঘণ্টা চুমুর পুরস্কার গাড়ি : ভাগ্য পরীক্ষা করতে অনেকেই জীবনে একবার হলেও লটারির টিকিট কিনেছেন। এছাড়া পুরস্কারের আশায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও হয়তো নাম লিখিয়েছেন। সম্প্রতি তেমনি এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে টেক্সাসের রেডিও স্টেশন ‘৯৬.৭ কিস এফএম’। তাদের এই আয়োজন অদ্ভুতই বটে! সেখানে দীর্ঘ সময় চুমু খেয়ে পুরস্কার জেতার সুযোগ রাখা হয়েছিল। আপনি হয়তো এটুকু পড়েই রোমাঞ্চের শিহরণ পাচ্ছেন! কিন্তু চুমুটা খেতে হবে গাড়ির বডিতে। জিতলে পুরস্কার পাবেন সেই গাড়ি। কর্তৃপক্ষ  প্রতিষ্ঠানটির নামের সাথে মিল রেখে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীকে টানা ৫০ ঘণ্টা গাড়িটিতে ঠোঁট লাগিয়ে চুমু খেয়ে যেতে হবে। প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট করে বিরতি দেওয়া হয়। এই ১০ মিনিটে প্রতিযোগীরা তাদের খাওয়া, গোসল বা বাথরুমের কাজ সারতে পারবেন। বিরতির সময় বাদে যদি কোনো প্রতিযোগী গাড়ি থেকে ঠোঁট বিচ্ছিন্ন করেন তাহলে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বেন। এভাবে টানা ৫০ ঘণ্টা যিনি চুমু খেতে পারবেন তাকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হবে। তবে একাধিক প্রতিযোগী যদি বিজয়ী হন সেক্ষেত্রে লটারি করে একজনকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হবে। ‘৯৬.৭ কিস এফএম’-এর এই প্রতিযোগিতায় প্রাথমিকভাবে ২০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৫ জন প্রতিযোগিতার নিয়ম ভঙ্গের কারণে বাদ পড়েন। বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছায় নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। প্রতিযোগীদের মধ্যে ২১ বছর বয়সি অ্যালিকা সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অংশগ্রহণের কিছুক্ষণ পরেই ঠোঁটে ফোস্কা পড়তে শুরু করে। ফলে আমি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেই। অন্য একজন বলেন, আমার নাক খুব লাল হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক আই হার্ট মিডিয়ার পরিচালক জেচারি ওয়েলস্ট্যান্ড বলেন, শুরুতে এটা বেশ মজার মনে হলেও আসলেই অনেক ধৈর্যের কাজ। যারা টিকে থাকেন তারা নানা রকম পন্থা অবলম্বন করেন। কেউ কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শোনেন, কেউ স্মার্ট ফোনে সময় কাটান, আবার কেউ বা চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকেন। প্রতিযোগিতার ৫০ ঘণ্টা যখন শেষ হয় তখন সাত জন প্রতিযোগী শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল। তাদের মধ্যে থেকে লটারি করে ডিলানি জয়সুরিয়া নামক এক নারীকে ভাগ্যবান বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে যারা রানার্সআপ হয়েছেন তাদেরকে একেবারেই হতাশ না করে একটি করে কনসার্টের টিকিট দেওয়া হয়।

লাখ টাকার বালিশ : ঘুমানোর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো বালিশ। আর বালিশ যদি আরামদায়ক না হয়  তাহলে রাতের ঘুম যে হারাম হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আকার ও তুলার  মানভেদে আমাদের দেশে একটি বালিশের দাম দুইশ থেকে সাধারণত হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে নেদারল্যান্ডের এক  ফিজিও থেরাপিস্ট একটি বালিশ তৈরি করেছেন যার দাম ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় যার দাম পড়বে ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা! থিস ভ্যান ডার হিস্ট নামের এই ফিজিও থেরাপিস্ট গত পনের বছর পরিশ্রম করে এই বালিশটি তৈরি করেছেন। বালিশটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে জগদ্বিখ্যাত মালবেরী রেশম, মিশরের তুলা, ডাচ মেমরি ফোম, চব্বিশ ক্যারেট গোল্ড ফেবরিক এবং বালিশটির চেইন তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে সাড়ে বাইশ ক্যারেটের নীল রতœ।

বালিশটি তৈরি করা প্রসঙ্গে থিস ভ্যান বলেন, ‘একজন ফিজিও থেরাপিস্ট হিসেবে আমি আমার রোগীদের সবসময় ভালো বালিশ ব্যবহারের পরামর্শ দিই। কিন্তু কার জন্য কোন বালিশটি উপযোগীতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ মানুষের শরীরের প্রত্যেকটা  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভিন্ন ভিন্ন রকমের। এমনকি তাদের শোয়ার ধরণও আলাদা। সুতরাং প্রত্যকের উপযোগী বালিশ যে আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। ফলে আমি এমন একটি বালিশ তৈরি করতে চেয়েছি যা যে কোনো ধরণের মানুষের জন্যই উপযোগী ও অত্যন্ত আরামদায়ক হবে। অতি সূক্ষ্ম মাপজোকের মাধ্যমে উন্নতমানের রোবোটিক মিলিং যন্ত্র ব্যবহার করে বালিশটি তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং এটি যেকোনো মানুষের জন্যই উপযোগী। এছাড়া এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, চাইলেই আপনি এটি আপনার সুবিধামতো যেকোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন।

বালিশের দাম শুনে অনেকেই হয়ত ভাবছেন একটি বালিশ এত দাম দিয়ে কে কিনবে? তাদের উদ্দেশ্য  থিস ভ্যান বলেছেন, ‘এই পৃথিবীতে এমনো মানুষ রয়েছে যারা এক রাতের খাবারের জন্য দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে বা বিশ দিনের বিশ্ব ভ্রমণের জন্য চৌদ্দ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে অথবা একটি বেল্টের জন্য আধা মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে কার্পণ্য করে না। মূলত এই মানুষগুলোই আরামের জন্য একটি বালিশের পিছনে মাত্র ৫৭ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করতে একটুও দ্বিধা করবে না।’ বালিশটির ত্রিমাত্রিক ছবি ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আগামী মাসে দুবাইতে হোম ইন্টেরিয়র মেলায় বালিশটি প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে মেলায় বালিশটি হবে অন্যতম আকর্ষণীয় বস্তু।

কুড়াল দিয়ে চুল কাটা! : কুড়াল দিয়ে কি মানুষের চুল কাটা যায়? হ্যাঁ, যায়। রাশিয়ার এক হেয়ার স্টাইলিস্ট সেই কাজই করে চলেছেন। ড্যানিইল ইসতোমিন নামের ওই লোক কাঁচির পরিবর্তে তার ক্লায়েন্টদের চুল কাটেন ধারালো এক কুড়াল দিয়ে! দেখতে খুবই নৃশংস লাগে। তবে এতে কিন্তু তার নারী ক্লায়েন্টরা ভীত নন। যেহেতু হেয়ার স্টাইলিস্টরা সবাই একে অপরের চেয়ে আলাদা কিছু করতে চান, তাই সে প্রতিযোগিতায় ড্যানিইল সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা যোগ করলেন।

প্রাচীন কালে মানুষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দাঁড়ি- গোঁফ কাটতেন, তেমন গল্প শোনার পর দুই বছর আগে থেকে অনেকটা সেই কায়দায় মেয়েদের চুল কাটার কাজটি করছেন তিনি। আর দিনে দিনে তার দক্ষতাও বাড়ছে। প্রথমে মেয়ে পুতুলের চুল কাটার মাধ্যমে কঠিন এই কাজটি শুরু করেন ড্যানিইল। ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এরপর মেয়েদের তিনি প্রথমে জিজ্ঞেস করেন তাকে কুড়াল দিয়ে তাদের চুল কাটতে অুনমতি দেবে কি না তারা। যারা তারই মতো অনেকটা অদ্ভুত মানসিকতার, তারা সে প্রস্তাবে রাজি হয়। এরপর শুরু হয় তার অভিনব চুল কাটা। ড্যানিইল  বলেছেন- ‘কুড়ালটা সব কাজ সহজ করে দিয়েছে। কারণ কাঁচি দিয়ে দশবারের চেষ্টায় যতোটুক চুল কাটা যায়, কুড়ালের এক কোপেই তা সম্ভব।’ তবে এক্ষেত্রে সুন্দর চুল কাটতে হলে কুড়ালটিকে খুব ধারালো রাখতে হয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। এক বছর ধরে তার এই অদ্ভুত দক্ষতা বিভিন্ন হেয়ার ড্রেসিং ইভেন্ট ও ট্যালেন্ট শোতে দেখিয়ে আসছেন ড্যানিইল। তাই রাশিয়ায় তাকে নিয়ে এখন চলছে আলোচনা।

ড্রোন থেকে লাফ : ড্রোন এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক, ব্যক্তিগত এমনকি সিনেমা তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উড়ন্ত ড্রোন থেকে মানুষের লাফ দেয়ার ঘটনা এই প্রথম। ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেস তাদের এক ভিডিওতে দেখিয়েছে কীভাবে ইনগাস অগাস্টকানস ড্রোন থেকে ১ হাজার ৮২ ফুট উপর থেকে লাফ দিয়েছেন। লাটভিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ২৮টি প্রপেলারের ড্রোন ব্যবহার করে এ অভিনব কাজটি করা হয়েছে। উঁচুতে উঠে পরে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নিচে নেমে আসেন অগাস্টকানস। এই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের জীবনে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ড্রোনের এমন নতুন সুবিধা দেখে আমার বন্ধুরা এমনকি বিশ্বের স্কাই ডাইভাররা খুব উৎফুল্ল হবে।’

ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি। তবে চূড়ান্তভাবে কাজটি করার আগে প্রায় ৬ মাস প্রস্তুতি নিতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জেনিস পুটরামস বলেছেন উঁচু ভবনে অগ্নিকা-ের পর নিচে নেমে আসার মতো জীবন রক্ষাকারী কাজে এই ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। ড্রোনটির আয়তন ৩৪ ফুট, ওজন ১৫৪ পাউন্ড। এটি ২০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। অ্যারোনেসের তৈরি বিশাল এই ড্রোনগুলোর প্রতিটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৩৭ হাজার ডলার। প্রাথমিকভাবে ব্যাটারির মাধ্যমে ড্রোনটি আকাশে ১০ মিনিটের মতো উড়তে পারবে।

বাড়ি যখন উল্টো নৌকা : ইকুইহেন প্লেগ, ইংলিশ চ্যানেলের পার্শ্ববর্তী ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি সমুদ্র তীরবর্তী ছোট্ট গ্রাম। যেখানে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও গ্রামটি জেলে পাড়া হিসেবে পরিচিত ছিল। কেননা, তখনো সেখানকার মানুষ কাঠের গুঁড়ি দিয়ে নৌকা বানিয়ে সমুদ্রে মাছ শিকার করত। কিন্তু আজ তা পরিণত হয়েছে একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে। ছুটির দিনে অসংখ্য মানুষ শুধুমাত্র গ্রামটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে যায়। গ্রামটির প্রধান আকর্ষণ উল্টো নৌকার আদলে গড়া বাড়িঘর। আগের দিনে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় পুরোনো নৌকা উল্টিয়ে ডেরা (আশ্রয়স্থল) বানিয়ে বসবাস একটি সাধারণ ব্যাপার ছিল। ইকুইহেন প্লেগের মৎসজীবী মানুষরাও নৌকা উল্টিয়ে তা ডেরা হিসেবে ব্যবহার করত। নৌকার তলানিকে ব্যবহার করত ছাদ হিসেবে।

কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিধ্বস্ত হয়ে যায় ইকুইহেন প্লেগ। ধ্বংস হয়ে যায় ওই গ্রামের পুরোনো ঐতিহ্য। তবে বসে থাকনেনি সেখানকার অধিবাসীরা। দীর্ঘ ৬০ বছর পর ১৯৯০ এর দশকে গ্রামের বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। এবার তারা উল্টো নৌকার ডিজাইনে গড়ে তোলেন কংক্রিটের বাড়িঘর। এরপর তা হয়ে ওঠে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ