ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আফ্রিকায় রেল-রেনেসাঁ

অনলাইন ডেস্ক : দেশের বাইরের পরিবহণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চীন আফ্রিকায় প্রচুর টাকা ঢালছে৷ এতে এই মহাদেশে রেলের সুদিন ফিরছে৷

আবুজা-কাদুনা দ্রুতগামী রেল

নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজা এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কাদুনা গত জুলাই থেকে ১৭৫ কি. মি. দীর্ঘ একটি রেলপথের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে৷ ৮০০ মিলিয়ন ইউরোতে নির্মিত এই রেলপথের খরচের প্রায় ৪৫০ মিলিয়নের জোগান দিয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক৷

রেললাইনে রাষ্ট্রপ্রধান

ট্রেনের প্রথম যাত্রায় এসেছিলেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহমাদু বুহারি ৷ ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণির টিকেটের দাম ৪ ইউরো, বা প্রায় ৪০০ টাকা৷ তবে সাশ্রয়ী টিকেটের দাম ৩০০টাকারও কম৷

আদ্দিস আবাবায় নগর-ট্রেন

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ট্রেনের নগর সার্ভিস চালু হয় ২০১৫ সালে৷ এটিও নির্মাণ করে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ, অর্থের জোগানও আসে দেশটির এক্সিম ব্যাংক থেকে৷

পূর্ব আফ্রিকার রেল

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে উপকূলীয় শহর মোম্বাসা পর্যন্ত ৪৭২ কি. মি. রেল রাস্তা বানাতে ২৫ হাজার কেনিয়ান এবং ৩ হাজার চীনা শ্রমিক কাজ শুরু করতে যাচ্ছে৷ নির্মাণ ব্যয়ের ৯০ শতাংশের জোগান দেবে চীন৷ যার পরিমান ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউরো৷ পরে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা এবং উগান্ডার রাজধানী কাম্পালাকে যুক্ত করা হবে৷

লিভিংস্টোনে রেলপথ জাদুঘর

আফ্রিকায় রেল যোগাযোগের ইতিহাস বেশ পুরনো৷ ১৮৫৬ সালে সালে আলেক্সান্দ্রিয়া-কায়রো রুট চালু হয়৷ জাম্বিয়ায় এই সব বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের ব্যবহার শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শুরুতে, যা ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চলেছে৷ এগুলো দেশটির দক্ষিণের শহর লিভিংস্টোনের রেলপথ জাদুঘরে প্রদর্শন করা হচ্ছে৷

ঔপনিবেশিক উত্তর যুগে ক্ষয়

আফ্রিকার অনেক রেলপথই নির্মাণ করেছিলো ঔপনিবেশিকরা৷ ইউরোপে নেয়ার জন্য কাঁচামাল এইসব ট্রেন দিয়েই উপকূলে নিয়ে যাওয়া হতো৷ এসব পথের অনেকগুলোই অকেজো হয়ে গেছে৷ এই ছবিটা নামিবিয়ার সোয়েকপমুন্ড-ওয়ালভিস সাগর রুট, যা ১৯১৪ সালে নির্মাণ করা হয়৷ ১৯৮০ সালে এটা পুনস্থাপন করা হয়৷

আফ্রিকার রেল সংযোগ

২০১৫ সালে আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক এক প্রতিবেদনে মহাদেশজুড়ে রেলপথের গুরুত্বের উপর জোর দেয়৷ এতে কম খরচে পণ্য পরিবহণ করা যায়৷ নগরে ভীড় থেকে রেহাই মিলে৷ প্রতিবেদনে রেল যোগাযোগের খারাপ অবস্থার সমালোচনা করা হয়৷ তারা মূলত উত্তর ও দক্ষিণে রেলপথ বিস্তারে গুরুত্ব দিয়েছেন৷

বন্ধ স্টেশন খুলবে তো?

আফ্রিকার অনেক দেশেই বড় হচ্ছে অর্থনীতি৷ ফলে পরিবহণ উন্নয়নের বিষয়টা সামনে চলে আসছে৷ চীনসহ অন্য পৃষ্ঠপোষকরা বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে আদ্দিস আবাবার এই স্টেশনের মতো অন্য বন্ধ স্টেশনগুলো ফের কোলাহলে মুখরিত হবে৷

দক্ষিণ আফ্রিকার রেলপথে

দক্ষিণ আফ্রিকার গৌটেং প্রদেশের আঞ্চলিক রেল ‘গৌট্রেন’ দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রিটোরিয়া ও জোহানেসবার্গকে আফ্রিকার সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরের সাথে যুক্ত করেছে৷ এটাকে ৮০ কি. মি. থেকে বাড়িয়ে আগামী ২০ বছরে ২৩০ কি. মি. করার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ আফ্রিকায় সর্বাধিক ২১ হাজার কি. মি. রেললাইন রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার৷ যেখানে সুদানের রয়েছে ৭ হাজার ৩০০ কি. মি. এবং মিশরের রয়েছে ৫ হাজার ১০০ কিমি.৷

মরক্কোর তাঞ্জিয়ারে সর্বাধিক গতির ট্রেন

মহাদেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেনের পরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলে করা হয়েছে৷ গত জুনে প্রথম ১২টি ফরাসি টিজিভি ট্রেন দেয়া হয়েছে৷ ঘণ্টায় ৩২০ কি. মি. বেগের এই ট্রেনে তাঞ্জিয়ার থেকে কাসাব্লাঙ্কা যেতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট লাগবে৷ একই পথ পার হতে বর্তমানে পৌনে পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় হয়৷ এই লাইন পরে আলজেরিয়া এবং টিউনিশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ