ঢাকা, শনিবার 27 May 2017, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ৩০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অভিমত


পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন
মাহমুদুল হক আনসারী : নগরকে ক্লিন ও নান্দনিক রাখতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। জনগণের নগরী জনগণকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কেউ কাউকে দোষারোপ করে লাভ হবে না। শহরের সৌন্দর্য রক্ষা, বৃদ্ধির দায়িত্ব প্রশাসনের সাথে নগরবাসীর রয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বসবাসকারী নগরবাসী যদি চায় নিজ এলাকাকে সুন্দর, নান্দনিক রাখতে, তাহলে সেটা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্যসম্মত নগরী করতে প্রশাসনের সাথে নগরবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা যোগ করতে হবে। একতরফা প্রশাসন চাইলে কখনো সম্ভব না। নগর প্রশাসন নগরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চেষ্টার কোন ত্রুটি করছে না। নগরবাসীর বাসাবাড়ি থেকে এলাকায় এলাকায় আবর্জনা-ময়লা সংরক্ষণ ও ফেলার ব্যবস্থা করেছে। সে ক্ষেত্রে নগরবাসী কতটা দায়িত্ববানের পরিচয় দিচ্ছে সেটাও দেখার বিষয়। যত্রতত্র ময়লা বা আবর্জনা ফেলতে পুরনো অভ্যাস আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা পিছনে আছি। নগরীর প্রায় এলাকায় দেখা যায় ময়লা ডাস্টবিনে না রেখে নালা ও রাস্তায় ফেলা হয়। ডাস্টবিন খালি পড়ে আছে। ময়লার কারণে নালার পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। যত সব আবর্জনা আছে সবই নালায় ফেলা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় সংখ্যক নগরবাসী এ ক্ষেত্রে সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে, বাকি সিংহভাগ মানুষ আগের মতো রাস্তা ও নালাতেই ফেলছে ময়লা ও যতো আবর্জনা। কিন্তু জনগণের অভিমত এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার স্পট থাকার পরও অনেকেই তা ব্যবহার করছে না। সেটা মানসিক রোগ, আইনের প্রয়োগ দিয়েও কোন লাভ দেখা যাচ্ছে না। নিজের মালিকানা জমির উপর ইঞ্চিয়ে ইঞ্চিয়ে ঘর তৈরি করে বাস করছি, ভাড়া দিচ্ছি। সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ’র অনুমোদন নিয়েই করেছি, রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয় নাই। সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘœ ঘটিয়ে বাড়িঘর মার্কেট নির্মাণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনকে তোয়াক্কা করা হয় না, নগরীর নালার উপর দোকান মার্কেট নির্মাণ করে জমিদার হয়ে যাচ্ছে। সে অর্থ দিয়ে রাজার হালতে চলছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বসানো হয়েছে, সেখান থেকে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা উঠানো হচ্ছে। রাস্তার উপর অবৈধ বাজার-হাট বসানো হচ্ছে। সেখানে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আমরাই আমাদের জীবন চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছি। সিটি কর্পোরেশন তার সাধ্য মতে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও বৃদ্ধিতে চেষ্টা চালাচ্ছে, সেটা দেখা যায়। এক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসী কতটুকু সচেতন হয়েছে সেটাও দেখতে হবে। প্রশাসনের সঠিক নির্দেশ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কার্যকর হচ্ছে কিনা তার তদারকি বাড়াতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আবর্জনা নালার উপরে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়, যে ময়লাগুলো চতুর্দিকে ছিটিয়ে যায়, আবার সবখানে মিশে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার নজরদারী ও ব্যবস্থা রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মচারীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে সহযোগিতা করতে হবে। আইনকে শ্রদ্ধা, নগরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। সমালোচনা আর দোষত্রুটি খুঁজে একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা যায়, কাজ হয় না। কাজ করতে হবে আন্তরিকতা ও ভালবাসা দিয়ে। আইনকে শ্রদ্ধা ও বাস্তবায়নের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। রাস্তা ফুটপাত দখল ছেড়ে দিতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব পালন আরো জোরদার করতে হবে। ঘরে ঘরে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা কেন্দ্রে নগর ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা বৃদ্ধি করতে হবে। এলাকায় এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। মসজিদের ইমাম-খতিবদের এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাস্তায় ময়লা না ফেলতে গৃহকর্মীদের আরো সচেতন করতে হবে। দু’একটি স্থানে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে অন্যরা সচেতন হতে পারে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নগরবাসীর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গ্রিন ও ক্লিন শহর বাস্তবায়ন সফল হতে পারে।
লেখক : সংগঠক ও প্রাবন্ধিক
ই-মেইল : mh.hoqueansari@gmail.com


শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বেড়েই চলেছে
মো. তোফাজ্জল বিন আমীন : শিশুর প্রতি মায়া মমতা স্নেহ ভালোবাসা কার না হৃদয়ে জাগে বুলন? মহান আরশের অধিপতি শিশুর প্রতি পৃথিবীর সব মায়া ভালোবাসার পরশ ঢেলে দিলেও মানুষ রূপী হায়েনাদের ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরা। একটা সময় তো আরবে এমন ছিল যে কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করলেই তাকে হত্যা করা হতো। অন্যান্য স্থানেও কন্যা সন্তানকে অশুভ হিসেবে দেখা হতো। ইসলাম এই খারাপ চর্চাকে শুধু বন্ধই করেনি বরং কুরআন একে সরাসরি খুন বলে ঘোষণা করেছে এবং মানুষকে এই ধারণায় দীক্ষিত করেছে যে, পুত্র-কন্যা দুই ধরনের সন্তানই আল্লাহর দান। ভাবতে গা শিউরে ওঠে যখন দেখি সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ কোমলমতি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করছে? শিশুর প্রতি এই নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। শিশু কেন প্রতিনিয়ত খুন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এই বিষয়টি বোঝা অত্যন্ত দুরূহ বলে মনে হচ্ছে। শিশুর মিষ্টি কথা আর অপলক দৃষ্টি চোখে পড়লে কোলে টেনে নিতে মন অস্থির হয়ে উঠে,সেখানে কী করে মানুষরূপী নরপশুরা শিশুকে খুন করে? শিশুরা বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনের আনন্দের খোরাক। শিশু হত্যার ঘটনার সংবাদ পত্রিকার পাতায় দেখলে দ্রুত উল্টিয়ে ফেলি। কারণ আমি একজন শিশুর পিতা। আমার কলিজার টুকরা মেয়ে যখন একটু আড়ালে যায় তখন কী যে কষ্ট অনূভূত হয় তা লিখে বুঝানো মেলা ভার। আর এতগুলো শিশু সহিংসতার শিকার হচ্ছে তাদের বাবা মায়ের অবস্থা কেমন তা সহজে অনুমেয়।
এই নিষ্ঠুর পৈশাচিক হত্যাকান্ডগুলো রীতিমত বাবা মাকে অস্থির করে তুলছে। সন্তানকে স্কুলে পাঠাইতেও আজ ভয় পাচ্ছে অভিভাবকেরা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই দেশ শিশু হত্যার দেশে পরিণত হয়েছে। গুম,খুন, অপহরণ ধর্ষণের মহাউৎসব সবর্ত্র বিরাজ করছে। দেশের কোথাও আজ এতটুকু জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে নির্ভয়ে শিশুরা আপন মনে আনন্দে মেতে উঠতে পারে। বেলকিবাজির উন্নয়নের কথা যেভাবে চারদিকে শুনা যায় সেভাবে যদি শিশু হত্যা বন্ধের শাস্তির কথা শুনা যেত তাহলে নদী, নালা, খাল, বিল, ঝোপঝারের পরিত্যক্ত ভাগাড়ে কোমলমতি শিশুদের গলিত অর্ধগলিত বীভৎস লাশ দেখতে হতো না। কবি গুকান্ত ভট্টাচার্য তার ‘ছাড়পত্র’ কবিতায় শিশুর কাছে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি তার বিপরীত স্রোতে ভাসছে। যে সময়ে শিশুর সহিংসতা নিয়ে লিখছি সে সময়েও সংবাদের শিরোনামে শিশু অপহরণ আর খুনের ভয়াবহতার নির্মম কাহিনীর সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। আর এই লেখাটি যখন প্রকাশিত হবে, তখনো হয়তো সামিউল, রাব্বি, তক্কীর মতো শিশুদের নিহত বা অপহরণের সংবাদেরই কথা আমাদের শুনতে হবে। প্রতিকার ও প্রতিরোধহীন নির্বিকার অকৃতজ্ঞ রাষ্ট্রকে ধিক্কার দিচ্ছে গলিত অর্ধগলিত শিশুর বীভৎস লাশের ছবিগুলো। সভ্যসমাজের মানুষেরা যেখানে শিশুদের জন্য বাস উপযোগী পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে একশ্রেণীর মানসিক বিকারগ্রস্থরা নিষ্পাপ শিশুদেরকে নির্মমভাবে খুন করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বর্বরভাবে একের পর এক শিশুহত্যার ঘটনা বিবেকবান মানুষকে কাঁদিয়ে চলেছে। শিশু রাজন, রাকিব, তক্কী, আব্দুল্লাহর খুনের স্মৃতি এখনো মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে সর্বশেষ করুণতম দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল নরসিংদীর আলোকবালির পূর্বপাড়া গ্রামের তিনটি নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকদিন ধরেই নাজুক। নাগরিক নিরাপত্তার বলে কিছু নেই। প্রতিনিয়ত গুম, খুন, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধ, সংঘাত সংঘর্ষ, দুর্ঘটনা সংবাদ জনমনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সমাজ বা রাষ্ট্রে আমরা কেউ নিরাপদ নয়। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে নিষ্পাপ শিশুর জীবন বিপন্ন হচ্ছে সে সমাজকে আর যা-ই হোক সভ্য সমাজ বলা যায় না।
দেশে শিশু হত্যা আশংকাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। চলতি বছরের প্রথম দেড়মাসে ৪৫ জন শিশু নির্মম হত্যার শিকার হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন নিহত হয়েছে বাবা মা’র হাতে। এর অর্থ প্রতিদিন গড়ে একটি শিশু খুন হয়েছে। শিশুরা কেবল হত্যার শিকার হচ্ছে তা কিন্তু নয়! কখনও কখনও ধর্ষণসহ নানাবিধ অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নিকট অতীতে নরসিংদীর আলোকবালির চরে আপন ভাই তার তিন ভাই-বোনকে হত্যা করেছে-তাও গলা টিপে এবং শ্বাস রোধ করে। কেন সে এটা করেছে,তার কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। বাবার আদর সোহাগ মায়ের ভালোবাসার পরশ যেখানে শিশুর জন্য ছিল অফুরন্ত সেখানে আজ ছিপ ছিপ রক্তের দাগ। এর চাইতে নিষ্ঠুরতা আর কী হতে পারে। সংবাদে প্রকাশ যে ৪২ জনের মধ্যে পাঁচ শিশুকে হত্যা করেছে তাদেরই বাবা-মা। কারো কারো কাছে শিশু হত্যার এ ঘটনা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে! কোনো বাবা কিংবা মা তার নিজের সন্তানকে হত্যা করতে পারে- এ কথা কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে কল্পনা করা যেতো না। কিন্তু আজকাল সেটাও অহরহর ঘঠছে। কক্রবাজারের পোকখালির পূর্ব গোমতলিতে রশিদ নামের এক ব্যক্তি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বড় ভাইকে এবং তার আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে। সামান্য এক ভরি সোনার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে খুন করা হয়েছে দুই শিশুকে। ২৬৯টি সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশে শিশু অধিকার ফোরাম ১০টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে শিশু হত্যার পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। তাদের হিসাবমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৭ শিশু এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ শিশু খুন হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ শিশু খুন হয়। শিশু নির্খোজের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেশি ঘটছে। দেড় মাসে এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৭ টিতে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে,২০১৬ সালে ধর্ষণের ঘটনা ৭২৪টি। এর মধ্যে ৩০৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৭টি শিশুর বয়স ১২ বছরের কম। ৬ বছরের নিচে আছে ৪৬টি শিশু। আটটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য পেয়েছে। অপরদিকে শিশু অধিকার ফোরাম বলছে,অপহরণের পর হত্যা,পিটিয়ে হত্যা,রাজনৈতিক বা পারিবারিক দ্বন্দ্ব,খেলা নিয়ে সংঘর্ষ ও অন্যান্য বিরোধের কারণে শিশুরা নির্মম খুনের শিকার হচ্ছে। বাবা মায়ের কাছে শিশুরা সব থেকে নিরাপদ থাকবে এটা স্বাভাবিক কথা। কিন্তু এখন বাবা মায়ের হাতেও শিশুরা খুন হচ্ছে। এগুলো কোনো স্বাভাবিক বিষয়ের মধ্যে পড়ে না। সমাজ বা রাষ্ট্রের নৈতিক অধঃপতের ফসল ভোগ করতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের। নরপিচাশের হাত থেকে শিশুদের জীবনকে রক্ষা করার প্রয়াসে সবার সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন। সমাজ এবং রাষ্ট্রকে অবশ্যই শিশুর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর প্রতি এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করার জন্যে নতুন কোন আইনের প্রয়োজন নেই, দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই খুনীদের বিচার করা সম্ভব। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এর ৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকার অধিকারকে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহ স্বীকৃতি দেবে। অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র শিশুর বেঁচে থাকার এবং উন্নয়নের জন্য যথাসম্ভব সর্বাধিক নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করবে। শিশু আইন ২০১৩ ধারা ৭০ এ উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তি যদি তাহার হেফাজতে,দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা কোন শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যার কাজে ব্যবহার বা অশালীনভাবে প্রদশন করে এবং এইরূপভাবে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যা বা প্রদর্শনের ফলে উক্ত শিশুর অহেতুক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্থাস্থ্যের এইরূপ ক্ষতি হয়, যাহাতে সংশ্লিষ্ট শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, শরীরের কোন অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি হয় বা কোন মানসিক বিকৃতি ঘটে, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গ্যু হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদন্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। একাত্তরের অঙ্গীকার ছিল নারী-পুরুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে নিজেদের জাহির করে তারা কি পেরেছেন শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে? একটি শিশু নিপড়ীনে রক্তাক্ত হলে গোটা সমাজই রক্তাক্ত হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশু হত্যার অশুভ খেলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ