ঢাকা, রবিবার 28 May 2017, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খোশ আমদেদ  মাহে রমযান

 

শাহেদ মতিউর রহমান : আজ পহেলা রমযান। আত্মশুদ্ধি, আত্মউন্নয়ন আর তাকওয়া অর্জনের রমযান মাসের প্রথম দিন। অফুরন্ত রহমত,বরকত,মাগফিরাত, নাজাত ও ফজিলতপূর্ণ এই মাসেই নাযিল হয়েছে আল কুরআন। ফলে আল কুরআনের মর্যাদার বদৌলতে এই মাসের মর্যাদাও অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। রমযান শুরু উপলক্ষে সব ক্ষেত্রেই ইসলামী ভাবধারায় শুরু হয়েছে আমাদের জীবনাচার। পরিবর্তন এসেছে দৈনিক কাজের রুটিনেও।

পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই রমযান মাসের মর্যাদা রক্ষায় বদলে গেছে পুরো দেশের সামগ্রিক দৃশ্যপট। তবে সরকারের নজরদারি আর ইসলামী আইন-কানুনের যথাযথ প্রয়োগ থাকলে রমযান মাসে এদেশের পরিবেশ আরো উন্নত হতো বলেই রোজাদারগণ মনে করেন। 

গতরাতে বাদ এশা পড়া  হয়েছে শুরু হওয়া রমযানের প্রথম তারাবীর নামায। এ উপলক্ষে দেশের সব পাড়া-পহল্লার প্রতিটি মসজিদেই মুসুল্লীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক মসজিদেই পড়া হচ্ছে খতম তারাবী নামায। একমাসে তারাবী নামাযে ৩০ পারা কুরআন খতম করা হবে। আবার অনেক মসজিদে পড়া হচ্ছে সূরা তারাবী। 

এদিকে রমযানে  বিক্রি বেড়েছে ইসলামী বইয়ের। বিশেষ করে রোজা, নামায ও মাসয়ালা মাসায়েল বই বিক্রি হচ্ছে বেশি। বাইতুল মোকাররম, কাঁটাবন মসজিদ, বাংলাবাজারসহ অন্যান্য এলাকার বইয়ের দোকানেও ভিড় বেড়েছে। টুপি জায়নামাযের বিক্রিও বেড়েছে সমানতালে। বিভিন্ন মসজিদে রমযান উপলক্ষে পবিত্র কুরআন ক্লাসেরও আয়োজন চলছে। অনেক মসজিদে শুরু হয়েছে শুদ্ধ কুনআন পাঠ ।  

বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রমযানের পবিত্রতা রক্ষার আদেবন জানিয়ে প্রচারপত্রও বিলি করা হচ্ছে। দেশের ইসলামী সংস্কৃতি মোতাবেক নিকট আত্মীয়দের বাসায় ইফতারির নানা আইটেমও পাঠানো হচ্ছে। চলছে রমযানের শুভেচ্ছা বিনিময়।    

ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানেরও কাজের দৈনিক রুটিনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে সাধারণ লোকজনের প্রাত্যহিক কাজকর্মের রুটিনেও। 

রমযান মাসকে যারা আত্মউন্নয়ন আর আত্মগঠনের মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারাও নিজেদের দৈনন্দিন কাজের রুটিনে আসছেন আমূল পরিবর্তন। নিয়মিত  ৫ ওয়াক্ত নামাযের সময়সূচি ছাড়াও সেহরী, ইফতার ও  তারাবী নামাযের  সময়কে  অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের দৈনিক কাজের রুটিনে আনতে হচ্ছে পরিবর্তন। দিনের কাজের ফাঁকে  বিশ্রামের সুযোগ নিয়ে রাতের ইবাদতের সময়ও বের করে নিচ্ছেন অনেক রোযাদার।  

রমযান মাসে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাইরের কাজের রুটিনের ক্ষেত্রে যেমন একটি পরিবর্তন আনছেন, ঠিক তেমনি পরিবারের নারী সদস্যরাও তাদের দৈনিক কাজের একটি আলাদা রুটিন সাজিয়ে নিচ্ছেন। পরিবারের সব সদস্যদের জন্য পছন্দসই  সেহরী রান্না করা, আলাদা একটু বেশি সময় নিয়ে বাহারী ইফতার তৈরিতেও সময় পার করবেন তারা। এছাড়া নিয়মিত নামায বন্দেগী ছাড়া তারাবী ও অন্যান্য সফল ইবাদতেও মশগুল থাকবেন পরিবারের মা ও বোনেরা। অনেকে আবার রমযানকে ইবাদতের মোক্ষম সময় ধরে নিয়ে কুরআন খতমেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  অনেক মা বাবা পরিবারের তাদের ছোট সন্তানদের জন্য আয়োজন করছেন কুরআন বা আরবি শিক্ষার আসর।  

সরেজমিনে দেখা গেছে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই সরগরম ছিল রাজধানীর বিভিন্ন ইফতারি তৈরির আইটেমের বাজার। বিশেষ করে চিনি, ছোলা, ডাল, পেয়াজ, বেগুন, সয়াবিন, বেসন বিক্রি হয়েছে সবচে বেশি। অনেকে কিনেছেন নানা আইটেমের ফল। হোটেলে রেস্তোয় ইফতারি আইটেম বিক্রির জন্য  পৃথক ও  সুসজ্জিত ডেকোরেশন করা হয়েছে। 

 রোযায় সরকারি অফিসের সময়সূচী পরিবর্তন করে সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক বীমার গ্রাহকদের জন্য লেনদেনর সময়সূচী সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া  দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো রোযার পুরো একমাস বন্ধ দেয়া হয়েছে। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচীতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ