ঢাকা, রবিবার 28 May 2017, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতির কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই সরকারকে আসলে চালাচ্ছে কে?

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকা-ের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার আসলে চালাচ্ছে কে? এটা আজকে জাতির কাছে বড় প্রশ্ন। সবাই জানতে চায়, রাজনৈতিক নেতারা, আওয়ামী লীগের লোকেরা, নাকি গোয়েন্দা বাহিনীর লোকেরা এই সরকার চালাচ্ছে। এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই এই সরকারের দেয়া উচিৎ, ওবায়দুল কাদেরের দেয়া উচিৎ। 

‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে’ বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে পুলিশের ‘নিষ্ফল তল্লাশি’ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারকে কারা চালাচ্ছে তা নিয়ে গতকাল শনিবার প্রশ্ন তুলে এমন কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গত ২০ মের ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য পেয়েই গিয়েছিল বলে পরদিন এক অনুষ্ঠানে বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেই তল্লাশির পর পুলিশ কর্মকর্তারা বের হয়ে সাংবাদিকদের সামনে বললেন যে, তল্লাশির প্রাপ্তি হচ্ছে শূন্য- ওইখানেই প্রশ্নটা। তাহলে তারা কারা, তারা কোন গোয়েন্দা- যারা সরকারকে বিভ্রান্ত করছেন, পুলিশকে বিভ্রান্ত করছেন। এই সরকার আসলে চালাচ্ছে কে? রাজনৈতিক নেতারা, আওয়ামী লীগের লোকেরা নাকি গোয়েন্দা বাহিনীর লোকেরা- এটা আজকে জাতির কাছে বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই এই সরকারের দেওয়া উচিৎ, ওবায়দুল কাদেরের দেয়া উচিৎ।

নিষ্ফল ওই তল্লাশির পর সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছে তার ব্যাখ্যা দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে তথ্যের ভিত্তিতে দেশের জনপ্রিয় নেতা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রীর কার্যালয়ে একটা হীন অভিযোগ নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়, সেই অভিযোগ যখন মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তখন এই সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, জনগণ তা জানতে চায়। আসলে জনগণকে জানানোর তারা প্রয়োজন বোধ করে না। তাদের জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা নেই। তাদের জন্মই হয়েছে বেআইনিভাবে, তারা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় নাই।

‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণার পর থেকে সরকার বিএনপি ফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ‘বেআইনি গ্রেফতার’ অভিযান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ভিশন ২০৩০ দেয়ার পরেই আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারপর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতানেত্রীরা এমন এমন কথা-বার্তা বলছেন, অনেকে সন্দেহ করছে তারা আদৌও সুস্থ আছে কিনা। সরকার বিএনপি ফোবিয়াতে ভুগতে শুরু করেছে। যেকারণে আবার নতুন করে বেআইনি গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, আমি আসার আগেই মৎস ভবনের কাছে আমাদের আটজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতিদিন আমাদের নয়া পল্টনের অফিসের সামনে থেকে ৪/৫ জনকে তারা ধরে নিয়ে চলে যায়। এটা কোন গণতন্ত্র, কোন দেশে আমরা বাস করছি। সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনকে কব্জা করার অভিযোগ এনে মিডিয়াকে কব্জা করার জন্য বিভিন্নভাবে বিভিন্ন আইন তৈরি ও বিচার বিভাগকে কব্জা করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন মির্জা ফখরুল।

জনগণকে বোকা বানানোর জন্য সরকার উন্নয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যানের ভুল ব্যাখ্যা ও ভুলভাবে উপস্থাপন করছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স কমে গেছে, মারাত্মকভাবে প্রায় ২২ পার্সেন্টের নিচে নেমে এসেছে। রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে, বিনিয়োগ নাই, মানুষ চাকরি পায় না, গ্রামের কৃষকরা ধানের দাম পাচ্ছে না। আর মোটা চালের দাম ৫০ টাকায় উঠে গেছে। কাল থেকে রোজা, প্রতিটি জিনিষের দাম বাড়তে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সব মনে হচ্ছে এখনই সিঙ্গাপুর হয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি কথা মনে রাখবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেতন হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। যে সমস্ত উচ্চবিলাসী কর্মকর্তা মনে করছেন এই সরকারই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, যারা বেআইনিভাবে আইনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তাদেরকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে এমন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেশের সকল কিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ সরকার বেআইনি ও অনৈতিক। অনৈতিকভাবে তাদের জন্ম। তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করার অধিকার নেই। এরা (সরকার) অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সকল সম্ভাবনা বিনষ্ট করে দিচ্ছে। তাই এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে দেশের মানুষের ততবেশি ক্ষতি হবে। মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা চুরমার হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ