ঢাকা, রবিবার 28 May 2017, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা

শাহেদ মতিউর রহমান : আগামী বাজেটে পোশাক শিল্পের  রফতানির উপর কর বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। একই সাথে ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান আর্থিক প্রণোদনাও কমিয়ে দেয়ার কথা চাউড় হয়েছে। এমন অবস্থায় তৈরি পোশাক মালিকরা পড়েছেন মহা সংকটে। তারা তাদের ব্যবসা ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গতকাল শনিবার নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারের এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিষয়টি পুন:বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। 

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের  বাজেটে গার্মেন্টসহ সব ধরনের রফতানির কর বিদ্যমান শূন্য দশমিক ৭০ (০.৭০%) থেকে বেড়ে এক শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। অর্থাৎ রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করের উপর আরো প্রায় ৪৩ শতাংশ বাড়ছে কর। আগামী পহেলা জুন বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমন ঘোষণা দিতে পারেন বলে ইতোমধ্যে আভাস পাওয়া গেছে।  এছাড়া রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রণোদনাও কিছু ক্ষেত্রে কমতে যাচ্ছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও এক আলোচনা অনুষ্ঠানে রফতানি কর বাড়তে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সরকারের এমন মনোভাবের কারনে শংকায় রয়েছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। তারা আগামী দুই বছর তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এই শিল্পের কর্পোরেট ট্যাক্স হার ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। 

বিজিএমইএ’র  সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, পোশাক শিল্পকে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ইউরোর দরপতন, বেক্সিট এবং গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এ খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আশানুরূপ ফল আমরা পাচ্ছি না। ব্যাপক প্রচষ্টা সত্ত্বেও জাপানের বাজারে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বাজারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সব মিলিয়ে গত ১০ মাসে নতুন বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছর এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছিল। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আগামী ২ বছরের জন্য এই খাতে উৎসে কর প্রত্যাহারসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন সিদ্দিকুর রহমান।

সূত্র জানায়, দেশের মোট রফতানির ৮২ শতাংশই আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। বিজিএমইএ ইতিমধ্যে সরকারের কাছে তাদের নানামুখী সংকটের কথা তুলে ধরে রফতানির কর বিদ্যমান ০.৭০ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। রফতানির প্রণোদনাও বাড়িয়ে যে কোনো বাজারের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া স্থিতিশীল কর কাঠামোও দাবি তাদের। তারা বলছেন, বছর বছর কর কাঠামো পরিবর্তন হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। 

এদিকে চলতি অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ হাজার ৭শ’ কোটি মার্কিন ডলার। তবে বছর শেষে রফতানি আয় ৩ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছর রফতানির ক্ষেত্রে উৎসে কর বাবদ দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি আদায় হতে পারে। এর উপর দশমিক ৩০ শতাংশ কর বাড়ানো হলে আরো ৮শ’ কোটি টাকা বাড়তি কর পেতে পারে সরকার।

রফতানির মূল্যের উপর (এফওবি) উৎসে কর ধার্য করা হয়ে থাকে। বর্তমানে রফতানি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে মোট প্রায় ৬০টি খাত থেকে উৎসে কর কর্তন করা হয়ে থাকে। মোট আহরিত করের ৫৭ শতাংশ আসে উৎসে কর্তনের মাধ্যমে।

তবে রফতানিতে উৎসে কর বাড়ানো হলে তা আত্মঘাতী হবে বলে মনে করছেন রফতানিকারকরা। গার্মেন্ট উদ্যোক্তা ও এফবিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন  বলেন, রফতানিতে কর কী পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে বা আদৌ বাড়ানো হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে এ খাতে করারোপ করা হলে তা হবে আত্মঘাতী। রফতানির প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের দর আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত কমছে। অন্যদিকে দেশে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে রফতানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে কর কমানো দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ