ঢাকা, রবিবার 28 May 2017, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গণভবনের গেটে গুলীবিদ্ধ এসপিবিএন নায়েক  আতিকুরের মৃত্যু 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের গেটে গুলীবিদ্ধ এসপিবিএন সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শাহবাগ থানার ওসি মো. আবুল হাসান জানান, নায়েক আতিকুর রহমানকে শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, গণভবনের উত্তর ফটকে মসজিদের কাছে দায়িত্বরত অবস্থায় রাত পৌনে ১২টার দিকে গুলীবিদ্ধ হন আতিকুর। তিনি কীভাবে গুলীবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ওসি মো. আবুল হাসান বলছেন, এই পুলিশ সদস্য নিজের অস্ত্রের গুলীতে আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।

রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গঠিত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়নে (এসপিবিএন) কর্মরত ছিলেন আতিকুর।

অস্ত্র যাচ্ছে সিআইডিতে

আতিকুর রহমানের (২৮) মৃত্যু তার নিজের অস্ত্রের গুলীতেই হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অসাবধানতাবশত তা নিশ্চিত হতে তার আগ্নেয়াস্ত্রটি পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্তের পর নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দফতর তিন সদস্যের এবং এসপিবিএন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল শনিবার বিকালে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস ও এসপিবিএন-২-এর কমান্ডিং অফিসার ইকবাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (২৬ মে) রাত পৌনে ১২ টার দিকে গণভবনের উত্তর গেটের (মসজিদ সংলগ্ন) এলাকায় গুলীবিদ্ধ হয় আতিকুর। এ সময় তার দশ/বারো গজ পেছনে আরও এক এএসআই ছিল। তিনি তাকে দ্রুত উদ্ধার করে অন্যদের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঢামেক হাসপাতালে নেয়ার পর রাত পৌনে ২ টার দিকে নায়েক আতিকুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঢামেক পুলিশ বক্সের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বাবুল মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিকুরকে মৃত ঘোষণা করেন।’ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মিনহাজ উদ্দিন।

নিহত আতিকের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চরকিং গ্রামে। তার বাবার নাম মো. বাহার। মা সুফিয়া বেগম। তার স্ত্রীর নাম শারমীন আক্তার। এক মাত্র মেয়ে তিসি বয়স দেড় বছর।

গতকাল শনিবার দুপুরে তার ময়নাতদন্ত শেষে সহোযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, গুলীতে নিহত হয়েছেন আতিকুর। গুলী সামনে দিয়ে ঢুকে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়।

নিহতের ভাই মাহমুদুল বলেন, ‘আমরা তার লাশ নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি। সেখানেই দাফন করা হবে। পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে।’

ওসি জি জি বিশ্বাস বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পর নিহতের পরিবারের কাছে আমরা লাশ হস্তান্তর করেছি। এই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও একজন এএসআই ছিলেন। সার্বিক পরিস্থিতি ও ঘটনা প্রবাহ আমরা বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, তার অস্ত্রের গুলীতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এখানে অন্য আর কোনও কারণ নেই। এখন দেখার বিষয় হলো, এটি আত্মহত্যা নাকি অসাবধানতবশত। তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা আতিকের অস্ত্রটি সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছি। ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছিল তা নিশ্চিত হতে পারব অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর।’

এসপিবিএন-২-এর কমান্ডিং অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি পুলিশ সদর দফতরের কমিটিতে রয়েছি। আমাদের এসপিবিএন থেকেও একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পাঁচজন রয়েছেন। তারা তদন্ত শুরু করছেন। তবে পুলিশ সদর দফতরের কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি।’ তিনি বলেন, ‘তদান্তাধীন বিষয় নিয়ে এখন আসলে কোনও কিছু বলা ঠিক হবে না। যারা তদন্ত করছেন, তাদের তদন্ত শেষ হোক। আশা করছি দুই দিনের মধ্যেই আমরা রিপোর্ট পাব।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ