ঢাকা, রবিবার 28 May 2017, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ১ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ই’তিকাফ ও শবেকদরের রাতে ইবাদত-বন্দেগী

ই’তিকাফ: ই’তিকাফ তাক্বওয়া অর্জনের একটি বড় মাধ্যম। এতে লায়লাতুল ক্বদর অনুসন্ধানের সুযোগ হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে নববীতে রামাযানের শেষ দশকে নিয়মিত ই’তিকাফ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রীগণও ই’তিকাফ করেছেন।

২০শে রামাযান সূর্যাস্তের পূর্বে ই’তিকাফ স্থলে প্রবেশ করবে এবং ঈদের আগের দিন বাদ মাগরিব বের হবে। তবে বাধ্যগত কারণে শেষ দশদিনের সময়ে আগপিছ করা যাবে। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ই’তিকাফকারী নিজ বাড়ীতে প্রবেশ করবে না (বুখারী হা/২০২৯)।

ক্বদরের রাত্রিগুলিতে ও ই’তিকাফ অবস্থায় ইবাদত করার নিয়মাবলী:

 (ক) দীর্ঘ রুকু ও সিজদার মাধ্যমে বিতরসহ তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করা। (খ) প্রয়োজনে একই সূরা, তাসবীহ ও দো‘আ বারবার পড়ে ছালাত দীর্ঘ করা। (গ) অধিকহারে কুরআন তেলাওয়াত করা (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩)। (ঘ) একনিষ্ঠ চিত্তে দো‘আ-দরূদ ও তওবা-ইস্তেগফার করা। ক্বদরের রাত্রিতে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দো’আÑ ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন তুহিববুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী’ (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর) দো’আটি বেশী বেশী পাঠ করা। (ঙ) তারাবীহ’র ৮ রাক’আত ছালাত জামা’আতের সাথে আদায় করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ইমামের সাথে ক্বিয়ামকারী সারা রাত্রি ছালাত আদায়ের নেকী পেয়ে থাকে’।

জামা’আতের সাথে তারাবীহ শেষে খাওয়া-দাওয়া ও কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াতের পর ঘুমিয়ে যাবেন। অতঃপর শেষ রাতে উঠে টয়লেট সেরে এসে তাহিইয়াতুল ওযূ ও তাহিইয়াতুল মসজিদ বা অন্যান্য ছালাত যেমন ছালাতুত তওবাহ, ছালাতুল হাজত, ছালাতুল ইস্তিখারাহ ইত্যাদি নফল ছালাত শেষে ৩ অথবা ৫ রাক’আত বিতর পড়বেন। অতঃপর সাহারী শেষে ফজরের দু’রাকআত সুন্নাত পড়বেন। অতঃপর জামাআতে এসে ফজরের ছালাত আদায় করবেন। এরপর ঘুমিয়ে যাবেন।

 ঘুম থেকে উঠে টয়লেট ও গোসল সেরে মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাকআত তাহিইয়াতুল ওযূ ও দু’রাকআত তাহিইয়াতুল মসজিদ আদায় করবেন। এভাবে যতবার টয়লেটে যাবেন, ততবার করবেন। অতঃপর বেলা ১২-টার মধ্যে ২ থেকে সর্বোচ্চ ১২ রাক’আত পর্যন্ত ছালাতুয যোহা বা চাশতের ছালাত আদায় করবেন। প্রতি ছালাতের শেষ  বৈঠকে নিজের ও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও জাতির কল্যাণ চেয়ে আল্লাহর নিকটে দো’আ করবেন। উক্ত নিয়তে আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আযা-বান্না-র’। অথবা আল্লা-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া...। ‘হে আল্লাহ্! হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতে মঙ্গল দাও ও আখেরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, এ দো’আটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অধিকাংশ সময় পড়তেন (বুখারী হা/৬৩৮৯)। এ সময় দুনিয়াবী চাহিদার বিষয়গুলি নিয়তের মধ্যে শামিল করবেন। কেননা আল্লাহ বান্দার অন্তরের খবর রাখেন ও তার হৃদয়ের কান্না শোনেন (মুমিন ৪০/১৯)। দো’আর সময় নির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়ের নাম না করাই ভাল। কেননা ভবিষ্যতে বান্দার কিসে মঙ্গল আছে, সেটা আল্লাহ ভাল জানেন (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১২২ পৃ.)। রোগ আরোগ্যের জন্য বা অন্যান্য দো’আ সমূহের জন্য দেখুন- ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘যরূরী দো’আ সমূহ’ অধ্যায় ২৬৭-৩০০ পৃ.।

দিন-রাত কুরআন তেলাওয়াত, তাফসীর বা অন্যান্য দ্বীনী কিতাব সমূহ অধ্যয়নে রত থাকবেন। বিশেষ করে এবং তাফসীরুল কুরআন (৩০তম পারা) থেকে কমপক্ষে সূরা ফাতিহা, নাবা, আছর ও সূরা তাকাছুর-এর তাফসীর পাঠ করুন। (ঝ) উচ্চ শব্দে ইবাদত করবেন না। অন্যের ইবাদতে বিঘœ ঘটাবেন না।

ক্বদরের রাত্রিগুলিতে মসজিদে দীর্ঘ ওয়ায মাহফিলের ও বিশেষ খানাপিনার আয়োজন করবেন না। যাতে ইবাদতের পরিবেশ বিঘিœত হয়। (সংকলিত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ