ঢাকা, মঙ্গলবার 30 May 2017, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেউ নির্বাচন করবে আর অন্যরা দেখবে-সেটা এবার হবে না

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও নেতাকর্মীদের নামে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, আপনারা সবাই মহাআনন্দে নির্বাচন করবেন আর আমরা কারাগারের ভেতর থেকে অথবা আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে শুধু দেখব, সেটা হবে না। এরকম নির্বাচন এদেশে আর হবে না। আমরা নির্বাচন চাই। সেটা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশমররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি,বেগম সেলিমা রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, উত্তরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, শ্রমিকদলের আনোয়ার হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবকদলের শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের রাজীব আহসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সরকার ‘মিথ্যাচার’ করে জনগণকে প্রতারিত করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে প্রবৃদ্ধির হার বলতে গিয়ে মানুষকে যে বোকা বানানো হচ্ছে, সেই বোকা বানানোর মূল বিষয়টা হচ্ছে, আসলে পরিসংখ্যানকে বানিয়ে বানিয়ে তারা বিভিন্নভাবে কথা বলছে। এর কোনোটাই ঠিক নয়। প্রত্যেকটাই গরমিল আছে।

 দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে সরকার অর্থনীতির কথা খুব বলে, এখন নাকি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এতো অর্জন করেছে, প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। তার প্রমাণ পত্রিকা খুললে পাবেন- বলা হচ্ছে যে, ১০ বছর আগে প্রতিবছর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো ১৩ লাখ। এখন হচ্ছে ৯ লাখ। তাহলে প্রবৃদ্ধিটা কার হচ্ছে?

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধিটা হচ্ছে শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীদের, এই সরকারের মন্ত্রীদের। তারা আজকে হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন খাত থেকে লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচার করছে। কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখেছেন, কত হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। কানাডাতে বেগম পল্লী নামে নতুন পল্লী তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সব জায়গায় এখন বাড়ি-ঘর তৈরি করছে এই নতুন নব্য সব ধনীরা।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনাদর্শ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, জিয়াউর রহমান সাহেবের অবদান যেখানে নেই। তাকে সবসময় আমাদের শুধু স্মরণ নয়, অনুকরণ করতে হবে। তার কাজগুলো যদি আমরা এগিয়ে নিয়ে আসি, সেভাবে চলতে চাই, চলতে পারি, তবেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে দেশের কোটি কোটি মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানকে খাট করতে চায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার ভূমিকা এত ব্যাপক যে সেখানে আওয়ামী লীগ ম্লান হয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে বাকশাল করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছিল, আজকে তারা গায়ের জোরে বিনা ভোটে সরকার গঠন করে গণতন্ত্রকে ধবংস করেছে। সেজন্য তারা ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী আচরণ করছে। দেশের জনগণ আর এই সরকারকে দেখতে চায় না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদেরকে আন্দোলনের প্রস্তত নিতে হবে।

খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, খালেদা জিয়ার রূপরেখার ভিত্তিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনে জনগণ অতিষ্ঠ। তারা আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ধর্ম নিরপেক্ষতা একটা ক্যাচি ওয়ার্ড। আসলে তারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে না। দেখেন, তারা পঞ্চদশ সংশোধনী করেছে, সংবিধানকে ওলোট-পালট করে দিয়েছে। কিন্তু সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ মুছে ফেলতে পারেন নাই এবং ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম সেটাও সংবিধান থেকে বাদ দিতে পারে নাই। তাহলে কী ধরনের ধর্মনিরপেক্ষতার কথা আপনারা বলেন? আর বর্তমানে এখন যা দেখছি, ভোট পাওয়ার জন্য এখন আবার হেফাজতেরসাথে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করছে। তাতে কোনো লাভ হবে না। ২০০৬ সালে নির্বাচনের আগে এরকম একটি দক্ষিণপন্থি, ডানপন্থি কট্টর রাজনৈতিক দল খেলাফতে মজলিশের সঙ্গে ৫ দফা চুক্তি করেছিল।

মির্জা আব্বাস বলেন, এভাবে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করা যাবেনা। প্রয়োজন রাজপথের আন্দোলন। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ দলের সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। আন্দোলন ছাড়া এ সরকারকে কোনভাবেকই সরানো যাবেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ