ঢাকা, মঙ্গলবার 30 May 2017, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ঝুঁকিপূর্ণ ফেরিতেই পারাপার

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি যোগে চলাচলরত যানবাহন ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ফেরি দিয়েই পারাপার হচ্ছে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন। অদক্ষ চালকের হাতে ফেরি চলাচলের কারণে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। ক্ষতি হচ্ছে যানবাহনের। দুটি ফেরির মধ্যে একটি পুরোই বিকল ও আরেকটি লক্করঝক্কও অবস্থায় চলছে। প্রায়ই সময়ই চলাচলরত ফেরিটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে। এসময় ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পড়ে থাকতে হয় যাত্রী সাধারনের। প্রতিদিন দেশের পুর্বাঞ্চলের প্রায় ১৭টি জেলা থেকে আগত যাত্রীরা শীতলক্ষ্যা নদীর এ ফেরি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্রগ্রাম সড়ক যোগে আসা প্রায় ১৭টি জেলার সাধারন যাত্রীরা মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরি যোগে পারাপার হয়ে এয়ারপোর্টসহ রাজধানীতে প্রবেশ করছে । বিশেষ করে কুমিল্লা, দাউদকান্দি, চাঁদপুর, মতলব, নোয়াখালী, ফেনি, চট্রগাম, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, মৌলিবাজার, আশুগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ ১৭ জেলার যাত্রীরা এ পথ ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া ভুলতা ফ্লাইওভারের কাজ চলাচলের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে না গিয়ে ফেরি পথ ব্যবহার করছে অনেক যানবাহন। অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীতে প্রবেশ পথ হিসেবে যাত্রীসাধারন শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ফেরি যোগে চলাচল করে থাকেন। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এ পথ দিয়ে। এ কারণেই সড়ক ও জনপদ বিভাগ মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ওই ফেরি প্রতি বছর ইজারা দিয়ে থাকে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ফেরি দুটির রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এ বছর ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ৫’শ টাকায় ইজারা নিয়েছে সুমন এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া-রূপগঞ্জ সদর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পারের রাস্তাটি প্রসস্থ্য অনেকটা কম। প্রসস্থ্য কম থাকায় রাস্তাটি দিয়ে বড় ধরনের যানবাহন আসতে পারেনা।
বিভিন্ন সমস্যার কারণে ফেরি দিয়ে এসব যানবাহন সময় মতো পারাপার করতে না পারায় বেশির ভাগ সময়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে। নদীর দুই পারের ফেরি লাগানো গ্যাংঅয়ে ও পল্টুনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ষ্টীলের সিট গুলো খসে খসে পড়ছে। পল্টুনের তলায় পানি প্রবেশ করে ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। সেলু মেশিন দিয়ে সেচেও পানি কমাতে পারছেননা। এছাড়া বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তার সঙ্গে লাগানো গ্যাংঅয়ে বেশির ভাগ অংশ টুকু ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া অংশ ও ভাঙ্গা স্থান দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন গুলোর। ফেরির উপরের পিচ উঠে গিয়ে স্টীলের সিট বের হয়ে গেছে। এতে যানবাহন গুলো স্লিপ করে। দুটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি প্রায় ২৮ বছর আগের, অপরটিও একই সময়ের। ইঞ্জিন ও ফেরির বডি মেরামত করে এখন পর্যন্ত চালানো হচ্ছে ওই দুটি ফেরি। দুটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি সব সময় নষ্ট বা বিকল অবস্থায় থাকে। ওই ফেরিতে ইঞ্জিন পাল্টানো হলেও কোন কাজে আসছেনা। যানবাহন নিয়ে ফেরি ছাড়লে সময় মতো ওই পার না পৌছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল স্রোতে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পড়ে অপর ফেরির সহযোগিতা নিয়ে টেনে আনতে হয়।
অপর যেই ফেরিটি রয়েছে, সেটির তলার অংশ জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বেশ কয়েক স্থান দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। অতিরিক্ত পানি ঢুকে ফেরি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা হয়ে যায়। যাত্রীরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। এসব বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষ গড়িমশি করছে বলে অভিযোগ যানবাহন চালকদের।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মজিদ, নুর হোসেন ও আব্দুল আলীম ফেরি দুটির ইঞ্চিন ধোয়া-মোছার দায়িত্বে রয়েছেন। অথচ তাদেরকেই ফেরির চালক হিসেবে ব্যবহার করছে সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ।
ভোগান্তির শিকার বেশ কয়েকজন যানবাহন চালক বলেন, সরকারী নিয়মানুযায়ী ফেরির ভাড়া দিচ্ছি, আমরা ভোগান্তির শিকার হবো কেন ?
রূপগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুইয়া রানু বলেন, ফেরির পরিস্থিতি খুব খারাপ, দুটি নতুন ফেরি, গ্যাংঅয়ে ও পল্টুন গুলো নতুন দিলে ভালো হতো। এছাড়া ফেরির দুই পারের সড়ক গুলো সংস্কার করা অতি জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, ফেরির নানা সমস্যা ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের ম্যাকানিকেল বিভাগের (ফেরি) নির্বাহী প্রকৌশলী সুভাস বাবু বলেন, ইজাদার সমস্যা গুলো আমাদের জানিয়েছেন। কিছু সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বাকি সমস্যা গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ