ঢাকা, মঙ্গলবার 30 May 2017, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সেই বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়ালেন এমপিসহ উপজেলা প্রশাসন

ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি : ফুলবাড়ীয়ায় শতবর্ষী সেই অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় এমপি ও উপজেলা প্রশাসনসহ অনেকেই। গতকাল সোমবার বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, স্থানীয় এমপি মোঃ মোসলেম উদ্দিনসহ অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশ বিদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ প্রতিবেদককে মুঠো ফোনে অসুস্থ বৃদ্ধার খোঁজ খবর নেন।
গতকাল সোমবার সকালে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার ছুটে যান বৃদ্ধা মরিয়ম নেছার বাড়িতে। এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপতালে ভর্তি করান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, ডাঃ হারুন আল মাকসুদসহ তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন হাসপতালে দেখতে যান অসুস্থ মরিয়ম নেছাকে। শারীরিক খোঁজ খবর নেয়ার পর নগদ অর্থ প্রদান, চিকিৎসা ও পরবর্তীতে সকল দায়িত্বভার নেন তিনি। এসময় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বৃদ্ধা মরিয়ম নেছার জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড, ইউএনও, উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল হালিম চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ তুলে দেন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদারের কাছে।
দুপুর একটায় অসুস্থ বৃদ্ধা মহিলাকে দেখতে ফুলবাড়ীয়া আসেন মুক্তাগাছা আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহামেদ মুক্তি। তিনি আসার আগেই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপতালে। সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি সাংবাদিকদের বলেন, পত্রিকার খবর দেখার পর বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ এমপি বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার সমস্ত দায় দায়িত্ব নিবেন বলে আমাকে পাঠিয়েছেন। এখানে এসে জানতে পারলাম স্থানীয় এমপি মোসলেম উদ্দিন ইতোমধ্যে অসুস্থ বৃদ্ধার সকল দায়িত্ব নিয়েছেন, এ বিষয়টি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রীকে জানানো হবে।
গতকাল সকাল সোয়া দশটায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার তেজপাটুলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গোয়াল ঘরে শিয়ালের কামড়ে অসুস্থ বৃদ্ধা মরিয়ম নেছাকে বাড়ির উঠানে শুয়ে রাখা হয়েছে। পাশে বসে রয়েছেন ইউএনও লীরা তরফদার। শত শত নারী পুরুষের ভিড়। এসময় দেখা গেল উপস্থিত সকলে ধিক্কার দিচ্ছে বৃদ্ধা মহিলার সন্তানদের এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছে। পরে ইউএনও উপস্থিত থেকে এ্যাম্বুলেন্স খবর দিয়ে নিয়ে আসেন। সকাল সাড়ে ১১টায় বৃদ্ধার বাড়িতে আসেন সমাজ সেবা অদিধপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ময়েজ উদ্দিন তরফদার বলেন, বৃদ্ধার ঘটনাটি জানার পর রবিবার রাতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আখালিয়া হেলথ সেন্টার লিমিটেড চেয়ারম্যান এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম হাসপতালে বৃদ্ধাকে দেখতে গিয়ে ঘোষনা দিয়েছেন, যতদিন মরিয়ম নেছা বেঁচে থাকবেন ততদিন পর্যন্ত তার চিকিৎসার সকল ওষুধপত্র সরবরাহ করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প, কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা মহিলার শারিরীক অবস্থা ভাল না, খাবারের অভাবে তিনি শারিরীকভাবে দুর্বল হয়ে পরেছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মচিমহায় রেফার্ড করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার বলেন, সত্যিই একজন মায়ের সাথে সন্তানদের এমন নিষ্ঠুরতা পৃথিবীর সব নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছে, অসুস্থ বৃদ্ধা মহিলার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে, যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। হাসপতালে সাংবাদিকদের প্রবীণ আ’লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন এমপি বলেন, সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জানতে পারি সন্তানরা একজন অসুস্থ্য বৃদ্ধা মাকে গোয়াল ঘরে রাখার পর, শিয়ালে কামড়িয়ে মাংস খেয়ে ফেলেছে এ কথা বলতে তিনি কেঁদে ফেলেন, আজ (সোমবার) থেকে বৃদ্ধা মরিয়ম নেছা চিকিৎসাসহ সকল দায় দায়িত্ব আমার।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের তেজপাটুলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী ৫ সন্তানের জননী অসুস্থ মরিয়ম নেছা (৯৮) গত ৮ দিন ভাঙ্গা গোয়াল ঘরে গরুর পাশে রাখে সন্তানেরা। গত বুধবার রাতে গোয়াল ঘরে অসুস্থ বৃদ্ধার পায়ের মাংস অনেকটা কামড়িয়ে খেয়ে ফেলে শিয়ালে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ