ঢাকা, মঙ্গলবার 30 May 2017, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উখিয়া উপজেলা প্রশাসনে ত্রাণ নিয়ে তুলকালাম

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : পবিত্র রমযানের শুরুতেই উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পাহাড়ে ত্রাণ নিয়ে তুলকালাম ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র শত শত মহিলা ত্রাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পাহাড়ে ভিড় জমালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ মাইকিং করে ত্রাণের জন্য আসা মহিলাদের যার যার বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলে মহিলার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ ক্রমে গত রোববার সকাল থেকে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন হতদরিদ্রের ব্যানারে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। গ্লোবাল ওয়ান ও এপিসিডি প্রদত্ত এসব ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, তেল, চিনি, পেয়াজ, রান্নার সরঞ্জাম, লুঙ্গি, জামা কাপড় ও গুড়া দুধ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই উদ্যোগী হয়ে হতদরিদ্রদের মাঝে কার্ড বিতরণ করেন। পরে কার্য প্রাপ্ত হত দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ। ত্রাণ বিতরণের সময় পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধূরী জনপ্রতিনিধিদের পূর্বে অবিহিত না করায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতেও দেখা গেছে।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র মহিলারা ত্রাণ পাওয়ার আশা করে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পাহাড়ে এসে জড়ো হতে থাকে। এসময় ঘিলাতলী পাড়া থেকে আসা মহিলা মরিয়ম খাতুন (৪৫), ছবুরা খাতুন (৫০), আছিয়া খাতুন (৪২)সহ বেশ কয়েকজন মহিলা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের জানান, গত রোববারে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। তাই আমরাও ত্রাণের জন্য এসেছি। এসময় মহিলারা জানান, তারা ত্রাণ ছাড়া বাড়ি ফিরে যাবে না। অবস্থা বেগতিক ভেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব মহিলাদের তাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
মহিলারা ত্রাণের জন্য অনড় অবস্থানে থাকলে প্রশাসন পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে উখিয়া থানা পুলিশ মাইকিং করে মহিলাদের চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে প্রায় ৪ ঘন্টা অবস্থান নেওয়ার পর মহিলারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ত্রাণ দেওয়ার কথা কাউকেও বলা হয়নি। হয়তো মহিলারা গত রোববারে ত্রাণ দেওয়ার কথা শুনে উপজেলা প্রশাসনে জড়ো হয়েছে। তিনি জানান, তার কাছে ২শ প্যাকেট চিড়া, গুড় ও মুড়ি ছিল তা চেয়ারম্যানদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে উপজেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মচারী জানান, এনজিও সংস্থা যেসব ত্রাণ দিয়েছে তা দিয়ে গতকাল সোমবার ত্রাণের জন্য আসা মহিলাদের ত্রাণ দিয়ে বিদায় করা যেত। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ অধিকাংশ ত্রাণ সামগ্রী টেকনাফে নিয়ে যাওয়ার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ