ঢাকা, মঙ্গলবার 30 May 2017, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৩ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বিএনপি নেতা মিঠু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃরিত অস্ত্র উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ৮

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু হত্যাকান্ডে ব্যবহৃরিত একটি শর্টগান সহ একজন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে তার দুই দেহরক্ষী ও স্থানীয় দুই বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এ মামলায় মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার বিকেলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে দুই আসামী ১৬৪ ধরায় জবানবন্দী দিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ জবানবন্দী প্রদানের কথা স্বীকার করলেও তদন্তের স্বার্থে তথ্য দিতে অপারগতা জানিয়ে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলতলার কলোনী পাড়া এলাকা থেকে রনি (২৪) নামে এক যুবককে একটি শর্টগান সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী মাশার্ল ভূঁইয়া, মোতাহার হোসেন কিরন ও নিহত মিঠুর দেহ রক্ষী সাদ্দাম ও শিমুল হাওলাদার নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় আটকের সংখ্যা দাড়ালো ৮ এ। এদিকে হত্যাকান্ডের পর দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার মুশফিকুর নামে একজন  রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দী রেকর্ড করেন। হত্যাকান্ডের আগে থেকেই সে তথ্য আদান প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এর আগে সন্দেহভাজন মোঃ ইমরুল শেখ ওরফে ইমু (২৭) ও মোঃ রকিবুল (২৫) নামের দু’জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। হত্যার প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি।
ফুলতলা থানার ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান মুন্সী জানান, হত্যা মামলায় ব্যবহৃরিত একটি শর্টগান সহ রনি নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডের রহস্য বেরিয়ে আসছে। হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী ও মদদ দাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে নিহত আলাউদ্দিন মিঠুর ভাই ও মামলার বাদী রাজ সরদার বলেন, অস্ত্রসহ গ্রেফতার কৃত রনি দামুদার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমার পিতা আবুল কাশেম সরদার হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শিবলু ভূইয়ার সহযোগী। হত্যাকান্ডটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করলে পুলিশ আসল খুনিদের চিহ্নিত করতে পরবে।
মিঠু হত্যার বিচার দাবিতে স্মারকলিপি 
খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু ও তার সহযোগী নওশের গাজী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসক ও রেঞ্জ ডিআইজির মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান ও দুপুর ১২ টায় রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহম্মেদ এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি স্মরাকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, ডা. গাজী আব্দুল হক, শেখ মোশারফ হোসেন, মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, মহিবুজ্জামান কচি, জি এম কামরুজ্জামান টুকু, ইউসুফ হারুন মজনু, কে এম হুমায়ুন কবির, শামসুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জেলার জনপ্রিয় নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু ও নওশের গাজীকে ২৫ মে বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পোশাক পরিহিত খুনীরা তার বাসভবনের সামনে অফিসে ঢুকে শত শত রাউন্ড গুলী চালিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাকান্ডের নারকীয় ও বিভৎসতায় ফুলতলাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মী জনগণ আতংকিত। ভয়ার্ত পরিবশে সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে তিন মটর সাইকেলে আসা ৯ খুনী হত্যাকান্ড ঘটিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়। এরআগে এই খুনীরা মিঠুর পিতা সরদার আবুল কাশেম, পরে তার ভাই আবু সাঈদ বাদলকেও গুলী করে হত্যা করে। এই দুই হত্যা মামলার বাদী ছিল সরদার আলাউদ্দিন মিঠু। সরকারি দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা খুনীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং সর্বশেষ তারা মিঠুসহ দুই জনকে হত্যা করে। ধারবাহিক এই হত্যাকান্ডকে একটি জনপ্রিয় পরিবারকে শেষ করার জন্য ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করা হয়। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অস্ত্র উদ্ধার, খুনীদের বিচার ও মিঠুর পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সেই সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রভাবমুক্ত থেকে নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ