ঢাকা, বুধবার 31 May 2017, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আপনজন খুন-খারাবির প্রবণতা ॥ জনমনে উদ্বেগ

নরসিংদী সংবাদদাতা: পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে পিতা-পুত্রের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পুত্রের হাতে লাঠির আঘাতে পিতা খুন হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় জেলার শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কারারচর গ্রামে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, দক্ষিণ কারারচরের নিজ বাড়ীতেই বিকেলে পারিবারিক বিষয় নিয়ে পিতা পুত্রের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে। একপর্যায়ে পুত্র হাবিব মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি নিয়ে পিতা রুমান মিয়া (৭০)’র মাথায় পর পর কয়েকটি বারি মারে।
এতে রুমান মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় বাড়ীর লোকজন ও প্রতিবেশীরা বৃদ্ধ রুমান মিয়াকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
বগুড়া অফিস: সৎ ছেলের বেধড়ক মারপিটে গুরুতর আহত মা মর্জিনা বেগম (৫৫) অবশেষে মারা গেলেন। রোববার (২৮মে) দুপুরে বগুড়ার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মর্জিনা বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের রাজবাড়ী গ্রামের রোস্তম আলীর স্ত্রী।
নিহতের ছেলে আব্দুল মজিদ জানান, বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৫মে) বিকেলে মা মর্জিনা বেগমকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে সৎ ভাই ইকবাল হোসেন। একপর্যায়ে লাঠির আঘাত গিয়ে পড়ে মা মজির্না বেগমের মাথায়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় বগুড়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার মা মর্জিনা বেগম মারা যান।
শেরপুর থানার ওসি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুরের রাজবাড়ী গ্রামে সৎ ছেলের লাঠির আঘাতে গত রোববার দুপুরে মা মর্জিনা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজবাড়ি গ্রামের রুস্তুম আলীর প্রথম পক্ষের সন্তান ইকবালকে তার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করতে তাকে অস্বিকার করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলায় পিতা রুস্তম আলী দাবী করেন ইকবাল (৪০) তার সন্তান নন। তার পিতা অন্য একজন, এই মামলার নোটিশ গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে ইকবাল হাতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পিতা রুস্তুম আলীকে মারতে যায়।
কিন্ত তার পিতা বাড়ীতে না থাকায় বাড়ীর বারান্দা ভাঙ্গতে উদ্দ্যত হলে এ সময় ইকবালের সৎ মা মর্জিনা বেগম বাধা দিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাথারি ভাবে বেদম মারপিট করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন জানতে পেরে বাড়িতে এসে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেয়।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানেও কোন উন্নতি না হওয়ায় বগুড়া শহরের একটি বে সরকারি ক্লিনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্ত তিন দিনেও তার জ্ঞান না ফেরায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার দুপুর ২ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মর্জিনা বেগমের ছেলে আব্দুল মজিদ বাদি হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ ব্যাপারে শেরপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন হত্যার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ