ঢাকা, বুধবার 31 May 2017, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার তিন জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

খুলনা অফিস : খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নড়বড়ে বেড়িবাঁধগুলো ভাঙতে শুরু করেছে। এ দুই জেলার প্রায় সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের প্রায় আড়াইশ’ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারণে এসব এলাকার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়রা উপজেলার ঘাটাখালী নামক স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন মেরামত না করার কারণে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চলতি জোঁয়ারে উপচেপড়া নদীর পানির ঢেউ এবং জোয়ারের পানির তোড়ে কয়েকটি পয়েন্টের অবস্থা খুব নাজুক হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতংকগ্রস্ত।
আশাশুনি উপজেলা সদরের জেলেখালী-দয়ারঘাট বেড়িবাঁধ, প্রতাপনগর ইউনিয়ন সুভদ্রাকাঠি, চাকলা এবং শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালীসহ ৩/৪টি স্থান, আনুলিয়া ও বুধহাটা ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে বাঁধের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এসব বাঁধগুলো যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন বলেন, এ এলাকার সুভদ্রাকাটি, ক্লোজার এলাকাসহ কয়েকটি স্থানের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গেল শুষ্ক মওসুমেও বাঁধগুলো মেরামত করা হয়নি। দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজ করা না হলে যেকোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
সাতক্ষীরা পাউবো ডিভিশন ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক জানান, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড দুটি বিভাগের আওতায় ১১টি পোল্ডারে ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ৫০টি পয়েন্টে ১০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ বছরও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পওয়া গেছে, যা দিয়ে এ বিশাল বাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হবে না। এখানে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।
এদিকে খুলনার দাকোপের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের ১৫টি স্থান নাজুক অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার শিবসা, ভদ্রা, ঢাকী, পশুর, মাদুর ছড়া, ঝপঝপিয়া নদীর পানি তিন-চার ফুট বেড়ে বানিশান্তা, আমতলা পুলিশ ফাঁড়ি, পূর্ব খেজুরিয়া, ঢাংমারী, রামনগর, পোদ্দারগঞ্জ খেয়াঘাট, চুনকুড়ি খেয়াঘাটসহ ৩২ নম্বর পোল্ডারের কালীনগর, উত্তর কামারখোলা, জালিয়াখালী, কালিবাড়ী লঞ্চঘাট, গুনারী এবং আরো ১০ স্থানে এবার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পাউবো খুলনা-১ অফিস জানিয়েছে, তাদের অধীনে বেড়িবাঁধ রয়েছে মোট ৩৬৫ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। সংস্কারের অভাবে প্রায় ৩০ ভাগ অর্থাৎ ১০৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা জরাজীর্ণ। পাউবো খুলনা-২ অফিসের অধীনে বেড়িবাঁধ রয়েছে ৫১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩২নং পোল্ডারের ৫ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং ৩৩নং পোল্ডারের ২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে কয়রা উপজেলার গোবরা ঘাটাখালী নামক স্থানটি ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
একই অবস্থা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায়। বাগেরহাটের ৩১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নিচু হয়ে গেছে। ভরা জোয়ারের সময় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
কয়রা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৩ ও ১৪ নম্বর পোল্ডারে কমপক্ষে ২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো হলো- মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা, পূর্ব মঠবাড়ি, দশাহালিয়া, কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, গড়িয়াবাড়ি স্লুইস গেট এলাকা, কয়রা লঞ্চঘাট, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালি, হড্ডা খেয়াঘাট এলাকা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে গাতিরঘেরি, কাশিরহাট ও গাববুনিয়া এলাকা এবং দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চরামুখা, মাটিয়াভাঙ্গা, জোড়শিং ও ছোট আংটিহারা এলাকা। এর মধ্যে ১৩-১৪/২ নম্বর পোল্ডারের লোকা ও পূর্ব মঠবাড়ি এলাকায় সাড়ে তিন কিলেমিটার এবং ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট, গুড়িয়াবাড়ি স্লুইস গেটের পূর্ব পাশে, চরামুখা, মাটিয়াভাঙ্গা ও ছোট আংটিহারা এলাকার সাত কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
পাউবো খুলনা ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো মেরামতে কাজ করা হচ্ছে। প্রাপ্ত অর্থের ভিত্তিতে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর মেরামতে বিশ্বব্যাংকের সাথে চুক্তি হয়েছে। এজন্য পাউবো আর নতুন করে কাজ শুরু করেনি। সেগুলোর কাজও চলমান রয়েছে।
খুলনায় দুই ডাকাতের ১৭ বছর কারাদণ্ড : ডাকাতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার চটকাতলা গ্রামে ডাকাতি মামলার দু’আসামির প্রত্যেককে ৩৯৫ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩৯৭ ধারায় ওই দু’আসামির প্রত্যেককে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পাইকগাছা উপজেলার ধামরাইল গ্রামের মৃত বাছের মোড়লের ছেলে মোক্তার মোড়ল (৩৫) ও কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের আব্দুল মোতালেব গাজীর ছেলে মো. আলি আকবার গাজী (৩২)। এ মামলার অপর ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের গোলজার গাজী ও তার ভাই বেলজার গাজী, বাবুল, মারুফ, বেল্লাল, মুকুল, আজিম শেখ, ফারুক সরদার। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত মোক্তার মোড়ল ও আকবার গাজী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার চটকাতলা গ্রামের মৃত অনন্ত গাইনের ছেলে বিমল চন্দ্র গাইন ২০০২ সালের ১৭ মার্চ রাত ১০টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় পরিবার-পরিজন নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ১২টার দিকে ১৩/১৪জনের একটি ডাকাত দল বিমলের বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৩৮হাজার টাকার মামলার লুট করে নিয়ে যায়। তাদের ডাক-চিৎকারে গ্রামবাসি ছুটে এসে ডাকাত মোক্তার মোড়ল ও আকবার গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় বিমল চন্দ্র গাইন বাদি হয়ে ১১জনের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ৫ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক উথান চো ১০জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি এডভোকেট এনামুল হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ