ঢাকা, বুধবার 31 May 2017, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপি-জামায়াতের নৃশংসতা তুলে ধরতে প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত International Conference on the Technical Cooperation Programme : Sixty Years and Beyond Contributing to Development of IAEA সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -বাসস

ভিয়েনা থেকে বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে বিএনপি-জামায়াতের নির্মমতা তুলে ধরার জন্য ইউরোপে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নিজ এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ রাখতে এবং দেশে বিএনপি-জামায়াতের নৃশংসতা ও দুর্নীতি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের নৃশংসতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরীহ মানুষ হত্যা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের জন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত লবিং করছে।
নিরীহ লোকদের হত্যা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং হত্যা ও আগুন সন্ত্রাসের জন্য দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে।
অষ্ট্রিয়ার রাজধানীতে গত সোমবার রাতে একটি হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির দেয়া এক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ভিয়েনায় পৌঁছান।
গ্রান্ড হোটেলে আওয়ামী লীগ অষ্ট্রিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খন্দকার হাসিবুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আইসিটি ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অল-ইউরোপ আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত, আওয়ামী লীগ ইউকে চ্যাপ্টার সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, অল-ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম এ নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।
দেশের প্রতিটি সংকটকালে প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।
শেখ হাসিনা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইসিটি ও বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নসহ অর্থনীতি জোরদারে তাঁর সরকারের ব্যাপক সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ প্রত্যেক মানুষের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি নিয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সুবাদে দেশ ওই সংকট উতরে গেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে এবং এর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশেরও বেশি।
শেখ হাসিনা বলেন, আলোচিত সমাজ গঠনে বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সার্বিক শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুবাদে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়- এমন কোন দল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না।
বিএনপি হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে উসকানি দেয়ার জন্য দায়ী- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্ররোচণায় হেফাজত ২০১৩ সালে ঢাকায় তান্ডব চালায়। জঙ্গিদের ব্যাপারে তার (খালেদা) সহানুভূতিতে তাদের সঙ্গে তার সম্পর্কনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা বিরোধিতার নামে মূলতঃ নাটক করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়নে বাধা দেয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম এবং ২০৪১ সালের অনেক আগেই উন্নত দেশে রূপান্তরের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ