ঢাকা, বুধবার 31 May 2017, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৪ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জুন থেকে আবারো বাড়ছে গ্যাসের দাম

কামাল উদ্দিন সুমন : আসছে ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ আগামি সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদালত। এর ফলে ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে আপাতত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের করা লিভ টু আপিলের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

আদালতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপাতত ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের দাম বাড়াতে কোন বাধা নেই।

দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছিল হাইকোর্ট। ২৮শে ফেব্রুয়ারি এই স্থগিতাদেশ দেয়া হয়।

‘আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে’ দেয়া গণবিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে ছিল আদালত। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

ক্যাবের পক্ষে প্রকৌশলী মোবাশ্বের হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। সেখানে গ্যাসের দাম বাড়ানো সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতার উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ২৩শে ফেব্রুয়ারি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল। ১ মার্চ থেকে প্রথম ধাপ এবং ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে গ্যাসের দাম কার্যকর হওয়ার কথা। তখন বলা হয়েছিল আদালতের নতুন করে আদেশ না আসা পর্যন্ত প্রথমধাপে অর্থাৎ ১ মার্চ থেকে যে দাম বাড়ানো হয়েছে শুধু তাই কার্যকর হবে। তবে গতকাল আদালতের আদেশ দেয়ার পর জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে ২য় দফা গ্যাসের দাম।

সূত্র জানায়, প্রথমধাপে আবাসিক গ্রাহকদের একচুলা ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলা ৮০০ টাকা করা হয়েছে। আর জুন থেকে হওয়ার কথা ছিল একচুলা ৯০০টাকা ও দুই চুলা ৯৫০ টাকা। সিএনজি ১ মার্চ থেকে ছিল প্রতি হাজার ঘনমিটার ৩৮ টাকা ও ১ জুন থেকে ৪০ টাকা।

গড়ে ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বিইআরসির নতুন কমিটি। আবাসিক ও সিএনজিসহ সব ধরণের গ্যাসের দামই বাড়ানো হয়েছে। দুই ধাপে এই দাম কার্যকর শুরু হয়। প্রথম ধাপ ১ মার্চ থেকে এবং দ্বিতীয় ধাপ ১ জুন থেকে।

মার্চ মাস থেকে এক চুলা ব্যবহারকারীদের ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে । জুন মাসে এক চুলায় ৯০০ এবং দুই চুলায় ৯৫০ টাকা। এক চুলায় গড়ে বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং দুই চুলায় বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। আবাসিকের মিটার ব্যবহারকারিদের প্রতি ঘনমিটার এখন দাম সাত টাকা। এটা প্রথম ধাপে বাড়তি দিতে হবে ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১১ টাকা ২০ টাকা।

প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে ১ মার্চ থেকে ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ টাকা এবং ১ জুন থেকে ৪০ টাকা করা হয়েছে।

বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। প্রতি ঘনমিটারে ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ মার্চে ২ টাকা ৯৯ পয়সা এবং ১ জুন থেকে ৩ টাকা ১৬ পয়সা করা হয়েছে। ক্যাপটিভে বাড়ানো হয়েছে ১৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ মার্চে ৮ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১ জুন থেকে ৯ টাকা ৬২ পয়সা।

সারে বাড়ানো হয়েছে ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। ১ মার্চ থেকে ২ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬৪ পয়সা এবং ১ জুন থেকে ২ টাকা ৭ পয়সা। শিল্পে ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে ১ মার্চ থেকে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ২৪ পয়সা এবং ১ জুন থেকে ৭ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। চা বাগানের ক্ষেত্রে ১৫ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং বাণিজ্যিকে ৫০ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

গত বছরের আগস্ট মাসে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের ওপার গণশুনানী করে বিইআরসি। সেই সময় বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশিরভাগ কোম্পানিই লাভ করছে, ফলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর দরকার নেই।

২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর আবাসিকসহ কয়েকটি শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। সে সময় দুই চুলায় ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ৬৫০ এবং এক চুলায় ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছিল। তার আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এদিকে গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএল এর সঞ্চালন চার্জও ১০ পয়সা বাড়িয়েছে বিইআরসি। দশমিক ১৫৬৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে দশমিক ২৬৫৪ পয়সা করা হয়েছে। এদিকে এই গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে কোম্পানিগুলোর বছরে আয় বাড়বে চার হাজার ১৫ কোটি টাকা। সব কোম্পানিই এখন লাভ করছে। এতে লাভ আরও বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ