ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 June 2017, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দেশকে ধর্মহীন করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদমুক্ত সমাজ গঠনে সিয়ামের তাৎপর্য শীর্ষক উলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঈমান, ইসলাম ও ইসলামী জীবন বিধান, শরয়ী আইন হেফাজত ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৭ দফা প্রস্তাবনা ঘোষণা করেছে ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ। প্রস্তাবনাগুলো হলো-অবিলম্বে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণসহ দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান থেকে সকল প্রকার মূর্তি সরাতে হবে; মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় অধিগ্রহণের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে; ধর্মহীন জাতীয় শিক্ষা নীতির ইসলাম বিরোধী ধারাসমূহ সংশোধন ও কুরআন সুন্নাহ বিরোধী নারীনীতি বাতিল করতে হবে; কওমী ও আলিয়া মাদরাসাসমূহের অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের দাবি সমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে; ৭২’র সংবিধানে ফিরে যাওয়ার নামে দেশকে ধর্মহীন করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে; ঈমান, আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক সকল কালাকানুন বাতিল করতে হবে; জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সাথে জিহাদকে একাকার করে ফেলার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। 

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়। সংগঠনের পক্ষে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামি এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর আল্লামা শাহ আবু তাহের জিহাদী। 

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহি উদ্দীন, আরও বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী,ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মুফতি ফজুল্লাহ, হেফাজতে ইসলাম সাংগঠিনক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন উলামা মাশায়েখ নেতা ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী,বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, খেলাফতে রব্বানী বাংলাদেশের আমীর মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, ইসলামী জনতা ঐক্য পরিষদ মহাসচিব মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ মহাসচিব মুফতি ফয়জুল হক কাসেমী, টেকেরহাটের পীর সাহেব মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মীরের সরাই দরবার শরীফের পীর মাওলানা আব্দুল মোমেন নাসেরী, কুরআন সুন্নাহ গবেষণা পরিষদ আমীর মাওলানা ফখরুদ্দীন ও মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দীন হেলালী,বেফাক জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি এনামুল হক, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল আহাদ সিলেট,অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, জাতীয় মুফাসিসর পরিষদ সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম বেলালী, জাতীয় খতীব পরিষদ আমীর মুফতি মাসউদুর রহমান,অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম,মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা কামরুল ইসলাম, মুফতি মাওলানা শাখাওয়াত,শায়খুল হাদীস মাওলানা আবু তালহা, অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমীন,মুফতি আহমদ উল্লাহ আশরাফ, মুফতি মিজানুর রহমান, ড. এনামুল হক, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ মাদানী, মাওলানা হাবীবুর রহমান খান বি.বাড়িয়া, মুফতি শামসুল আলম, মুফতি কামরুজ্জামান রোকন, মাওলানা শফিক বিন বাহাউদ্দীন নরসিংদী, মাওলানা উবাায়দুল্লাহ বিন তাহের বি.বাড়িয়া, মাওলানা আতিকুল্লাহ বিন রফিক প্রমুখ। 

আলমগীর মহিউদ্দীন বলেন, বৃটিশরা মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করার জন্য মাদরাসা শিক্ষাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। তাই বর্তমানে মুসলিম উম্মার কুরআন-হাদীসের উপর গভীর চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যথায় ধর্মদ্রোহী প্রেতাত্মারা ইসলামকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। 

 মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত আমাদের প্রিয় এ বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানদের দ্বীনি চেতনা,ধার্মিকতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। ইসলামী দলসমূহের খেদমত, মসজিদ, মাদরাসা, ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগ, পীর-মুরিদীও লেখনীর মাধ্যমে মুসলমানদের অন্তরে ইসলামের শিকড় অত্যন্ত মজবুত ভাবে গেঁথে রয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের নৈতিক ও আধ্যাতিক প্রভাব শহর-গঞ্জ থেকে শুরু করে সুদূর পল্লী পর্যন্ত বিস্তৃত। দেশী-বিদেশী ইসলামী দুশমনদের এটাই গাত্রদাহ। তাই কি করে এদেশ থেকে ইসলাম নির্মূল করা যায় সে লক্ষে তারা নানাবিধ ষড়যন্ত্র করেই চলেছে। ইসলামী দল,ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের কৃষ্টি-কালচার, তাহজীব-তামাদ্দুন ও সভ্যতা -সংস্কৃতিতে বারবার আঘাত হানা হচেছ। জাতীয় ঈদগাহ ও সুপ্রিমকোর্ট প্রাংগনে বসানো হয়েছে দেবী মূর্তি। বেসামাল হয়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ধর্মহীন জাতীয় শিক্ষানীতি। প্রণয়ণ করা হয়েছে কুরআন বিরোধী নারী নীতি। সংবিধানের মূলনীতি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ইসলাম বিরোধী চক্রের শেকড় অনেক গভীরে, দেশী-বিদেশী, সরকারী-বেসরকারী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ ধারাবাহিক চক্রান্ত মোকাবেলা করা বিশেষ কোন শ্রেণীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ইসলামের প্রতি গভীর আস্থা-বিশ্বাসীদের,সুশীল সমাজ, পেশাজীবী, ছাত্র-শিক্ষক, রাজনীতিক ও উলামা-মাশায়েখের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের প্রয়োজন। অতীতে ইসলামী দল ও ব্যক্তিত্বদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টা-সাধনায় তাদের মিশন বারবার ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন প্রয়োজন সুচিন্তিত কর্মসূচী গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে যে কোন ত্যাগ স্বীকারের দৃঢ় সংকল্প।

ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, জঙ্গিবাদ সংন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে সকলকেই কুরআন সুন্নাহর আলোকে জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণআস্থা ও বিশ্বাস পুন:স্থাপন। কুরআন বিরোধী নারীনীতি ও ধর্মহীন শিক্ষানীতি সংশোধন ও ইসলাম বিরোধী সকল কালা-কানুন বাতিল করতে সরকারের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। 

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস করা হচ্ছে, জঙ্গি শব্দের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ধর্মীয় মিডিয়া, ধর্মপ্রাণ আলেম সমাজ এবং লেখক, শিক্ষাবিদদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

মুফতি ফজুল্লাহ বলেন, গ্রিক আইনানুযায়ী ঈসা (আ:) কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তাই গ্রিক দেবী আদর্শ বাংলাদেশের মুসলমানের বিচার ব্যবস্থার প্রাণ কেন্দ্র হাইকোর্টের সামনে এবং আশেপাশে কোথাও গ্রিক দেবীমূর্তি রাখার সুযোগ নেই। 

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, প্রধান বিচারপতিকে এই সম্মেলন থেকে জানানো যাচ্ছে যতই টালবাহানা করেন না কেন তৌহীদি জনতার নিকট আপনার ষড়যন্ত্র উম্মোচন হয়ে গেছে। 

সভাপতির বক্তব্য মাওলানা আবু তাহের জিহাদী বলেন, আমাদের দেশ থেকে ইসলাম ধ্বংস করার জন্য আমাদের কৃষ্টি কালচার আকিদা বিশ্বাসে আঘাত হানা হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এর মোকাবেলা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ