ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 June 2017, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুপার সাইক্লোন ‘মোরা’য় ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের ৩ লাখ মানুষ

সাদেকুর রহমান : সুপার সাইক্লোন ‘মোরা’র তা-ব চালিয়ে বাংলাদেশ সীমানা গত মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে অতিক্রম করলেও ক্ষত-বিক্ষত করে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জনপদগুলোতে। মহাবিপদ কেটে যাওয়ার পরদিন গতকাল বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী ও শিশুসহ প্রায় ৭০ জনের প্রাণহানি ছাড়াও ‘মোরা’র ছোবলে ১৬টি জেলার ৩১টি উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে আইএসপিআর জানায়, নৌবাহিনী কুতুবদিয়ার কাছে গভীর সমুদ্রে বিকল হওয়া ডুবন্ত নৌকা হতে ২০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। 

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর গতকাল দুপুর আড়াইটায় আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে বলেছে, রাঙ্গামাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল গভীর নি¤œচাপটি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর ও দুবর্ল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। 

ঘণ্টায় একশ’ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। থাই আবহাওয়াবিদদের দেয়া এ নামটির অর্থ হলো ‘সাগরের তারা’। এরপর প্রায় ছয় ঘণ্টা উপকূলীয় এলাকায় তা-ব চালিয়ে দুর্বল হয়ে সেটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। গতকাল বুধবার সেটি ভারতের নাগাল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়। 

‘মোরা’য় দেশের উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ঝড়ের বিপদ কেটে যাওয়ার পরদিন সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা জানান, সরকারি হিসেবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও রাঙামাটির ৩১ উপজেলার ১০৬টি ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার ৫৪ হাজার ৪৮৯টি পরিবারের ২ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৫ জন মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারে চারজন এবং রাঙামাটিতে দুই জন। নিহত সবার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ভোলার মনপুরা উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় মায়ের কোলে থাকা এক বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে এলেও সে বিষয়ে কোনো তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে দেয়া হয়নি। 

অতিরিক্ত সচিব জানান, ঝড়ের সময় ৬১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জনই কক্সবাজারের; আর একজন রাঙামাটির বাসিন্দা। 

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কক্সবাজার। ‘মোরা’য় ক্ষতিদের এ পর্যন্ত এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ১৭শ’ মেট্রিক টন চাল, ৩শ’ বান্ডেল টিন এবং প্রতি বান্ডেল টিনের জন্য ৩শ’ টাকা হিসেবে মোট ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সরকারি হিসেবে এছাড়া ১৯ হাজার ৯২৯টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩৯ হাজার ৫৯৯টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৫৯২ একর জমির পানের বরজের।

অতিরিক্ত সচিব জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ সোমবার সন্ধ্যায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর চার লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৯ জনকে ১১ হাজার ৮২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যেখানে যা দরকার আমরা সাহায্য দেব। ডিসিদের বলা হয়েছে, আরও চাহিদা থাকলে জানাবেন, আমরা বরাদ্দ দেব। 

নৌবাহিনীর তৎপরতায় ২০ জেলে জীবিত উদ্ধার : এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপি) ওয়েবসাইটে গতকাল জানানো হয়, ঝড়ের পরপরই বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে নৌবাহিনীর ১৫টি জাহাজ, ১টি হেলিকপ্টার ও ১টি টহল বিমান কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন্স, টেকনাফ, চট্টগ্রাম ও খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলসহ গভীর সমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশী কার্যক্রম শুরু করেছে। ৫টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ বাংলাদেশের পুরো সমুদ্রসীমায় একযোগে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে, ১ম গ্রুপে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর ও তদসংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনী জাহাজ ‘অপারেজয়’, ‘অতন্দ্র’ ও ‘অদম্য’ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ২য় গ্রুপে কুতুবদিয়া ও তদসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ‘মধুমতি’, ‘শাপলা’ ও ‘সুরভি’। কক্সবাজার ও তদসংলগ্ন এলাকায় ৩য় গ্রুপে রয়েছে নৌবাহিনী জাহাজ ‘সাঙ্গু’, ‘দূর্জয়’ ও ‘কে জে আলী’। ৪র্থ গ্রুপে সুন্দর বনের ফেয়ারওয়ে বয়া ও তদসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ‘ধলেশ¡রী’ ও ‘স্বাধীনতা’। এয়াড়া, ৫ম গ্রুপে গভীর সমুদ্রে রয়েছে ‘আবু বকর, ‘ওসমান’, ‘বিজয়’ ও ‘সমুদ্র অভিযান’। আকাশ হতে জেলেদের খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১টি হেলিকপ্টার ও ১টি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট। এছাড়া কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন্স ও তৎসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য নৌবাহিনীর একাধিক কন্টিনজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে যারা ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণসহায়তাসহ নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

ঝড়ের পরপরই নৌবাহিনী জাহাজ সমুদ্র অভিযান ও খাদেম জরুরী উদ্ধার অভিযানে কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উদ্ধার অভিযানকালে বানৌজা খাদেম কুতুবদিয়ার কাছে গভীর সমুদ্রে বিকল হওয়া ডুবন্ত নৌকা হতে ২০ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই সুস্থ আছেন।

এছাড়া ঘুর্ণিঝড় মোরার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ সেন্টমার্টিন ও কুতুবদিয়ার দুর্গত এলাকায় সকাল থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছে নৌবাহিনী জাহাজ সমুদ্র অভিযান ও খাদেম। জরুরী ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে ৫ টন চাল, ২ টন ডাল, ৩ টন মুড়ি, ৮ টন চিড়া, ২ টন গুড়, ৩ হাজার পিস মোমবাতি, ৩শ কেজি পলিথিন ব্যাগ, ১শ প্যাকেট ম্যাচ বক্স ও ২০ টন বিশুদ্ধ খাবার পানি। এছাড়া, দুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ২৩ সদস্যের দুটি বিংশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সকাল থেকে সেন্টমার্টিনের নৌ কন্টিনজেন্টে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম দুর্যোগ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। 

আবহাওয়ার পূর্বাভাস : এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ দুর্বল হয়ে বর্তমানে স্থল সুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপে ন্যাগাল্যান্ড এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। লঘু চাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপর অবস্থান করছে, যা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ- পশ্চিম মওসুমী বায়ু চট্টগ্রাম উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দম্কা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবতির্ত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবজনিত বৃষ্টিতে তাপপ্রবাহের দাপট কমে এসেছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সাতক্ষীরায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য। এদিন ঢাকা ছাড়াও ফরিদপুর, মাদারীপুর,নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, সীতাকুন্ড, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মাইজদীকোর্ট, ফেনী, হাতিয়া, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, ডিমলা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও পটুয়াখালীতে বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের ৫ হাজার বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে ॥ জোয়ার

ও অতি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নি¤œাঞ্চল প্লাবিত

চট্টগ্রাম অফিস : গত মঙ্গলবারে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রাণহানি না ঘটলেও কাঁচা বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। তৎন্মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রায় আড়াই হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

 গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ঝড়ে জেলার মোট দুই হাজার ৭৪৫টি ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়েছে। এর বাইরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ৫৯৬টি ঘর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বাঁশখালী উপজেলায়। উপজেলার উপকূলীয় খানখানাবাদ, শেখেরখিল, ছনুয়া ও গণ্ডামারা ইউনিয়নে কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে তুলনামূলক বেশি। 

বাঁশখালীর ইউএনও কাজী মো. চাহেল তস্তরী বলেন, উপজেলায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট আড়াই হাজার ঘরবাড়ি। এখন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কাজ চলছে।

সন্দ্বীপ উপজেলার ইউএনও গোলাম মো. জাকারিয়া বলেন, ৫০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া ছয়শ কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সংবাদদাতারা বলছেন, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ ও আনোয়ারায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে জেলার কোথাও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে জোয়ার ও অতি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে স্থবির হয়ে পড়েছে নগর জীবন। রাতভর বৃষ্টির কারণে নগরীর নি¤œাঞ্চলে পানিতে থৈ থৈ করছে। নগর জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলজট। নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা চাক্তাই, খাতুনগঞ্জে ও রেয়াজউদ্দিন বাজারে দোকানে পানি উঠেছে। পানিতে ভিজে প্রচুর পরিমাণ পণ্য সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে।

 মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ৩১ মে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২২৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা বিশ^জিৎ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ রূপ বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়া আরো দু একদিন থাকবে বলেও তিনি জানান। গত ২৪ ঘন্টার বৃষ্টির পানিতে জলজটের সৃষ্টি হয়েছে নগরীতে। প্লাবিত হয়েছে নগরীর নি¤œাঞ্চল। নগরীর ২নং গেইট, বাদুর তলা, হালিশহর, চকবাজার, জিইসি, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, সিডিএসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি থৈ থৈ করছে। এসব এলাকায় বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় জন জীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এসব এলাকার লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা একে আজাদ জানান, সকাল থেকেই পানি বন্ধি হয়ে পড়েছি। হালিশহরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, বাসার সামনে এখনো কোমর সমান পানি। সকাল থেকে বের হতে পারছেন না অফিসেও যেতে পারছেন না বলে জানান তিনি। নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় জলজটের কারণে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকা পড়েছিল অফিসগামী লোকজন। নগরীর নি¤œাঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল।

এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবলবর্ষণ চলাকালে অতিমাত্রায় বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের সময় আওয়াজে নগরীতে লোকজনের মাঝে আতংক দেখা দেয়। শিশুরা ভয়ে কেঁদে উঠে। বয়স্ক নগরবাসীরা বলছে এ ধরনের অতি মাত্রায় বজ্রপাতের ঘটনা নগরীতে প্রথম লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে রেলসেতুতে মাটি ধ্বসে পড়ায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ভারী বর্ষণে বেঙ্গুরা স্টেশনের কাছাকাছি বোয়ালখালী-পটিয়া সীমান্তবর্তী বোয়ালখালী খালের উপর ২৪ নং রেলওয়ে সেতুতে মাটি ধস নামে। ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলের (পূর্বাঞ্চল) ডিভিশনাল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, এতে বুধবার সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে দোহাজারী থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী রেল পটিয়া ধলঘাট স্টেশনে আটকা পড়ে। পরে সাময়িক মেরামতের পর বেলা ১টা ৩৩ মিনিটে আটকা পড়া ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। গোমদন্ডী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. জাফর বলেন, রাতে প্রবল বৃষ্টির কারণে কোন এক সময় বোয়ালখালী ২৪নং সেতুতে মাটি ধসে পড়ে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে উক্ত সেতু। এ কারণে রেল চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এর কাজ শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ