ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 June 2017, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৫ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২০ জন বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে চিহ্নিত রাজাকারদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য করেছেন। বর্তমান তিনি মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে উপরি মহলে দৌঁড় ঝাপ শুরু করেছেন। গত সোমবার বিকেলে কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে বর্তমান কমান্ডার আনিছুর রহমান খান আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিবার্তাসহ সরকারী গেজেটভুক্তদের ভেতর থেকে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীসহ ২০ জন বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে নিজেকে যুদ্ধকালীন কমান্ডার দাবী করে আনিছুর রহমান খান বলেন,  মোহাম্মদ আলীদের গডফাদার কাজী রফিক একজন ভূয়া যুদ্ধাহত ও ভূয়া যুদ্ধকালীন কমান্ডার। তারা উভয়েই ঘোলাপানিতে মাছ ধরার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। তিনি সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীকে শ্রম আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামী উলে¬খ করে আরও বলেন,  মোহাম্মদ আলী কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই কমিটির অনুমোদন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে,  দেয়ার আশ্বাস দিয়ে উপজেলার চিহ্নিত ৭৯ জন রাজাকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা অর্থ বাণিজ্য করেছেন। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে ওই যাচাই বাছাইয়ের পরিশিষ্ট “ক” তালিকায় সহি স্বাক্ষর না করায় মোহাম্মদ আলীর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারই পরিপ্র্রেক্ষিতে মোহাম্মদ আলী গত ২২ মে যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কতিপয় সহকমান্ডার ও সদস্যদের ভেতর থেকে ১০ জনকে রাজাকার ও ৪৭ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে তালিকা প্রকাশ করে নিজের অপকর্মকে আড়াল করার অপচেষ্ট চালিয়েছেন। যার কারণে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুক্তিবার্তাসহ সরকারী গেজেটভুক্তদের ভেতর থেকে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীসহ ২০ জন বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকমান্ডার সাংগঠনিক অধ্যাপক অসিত কুমার মোদক,  সহকমান্ডার অর্থ শেখ ফরিদ আহম্মেদ,  কার্যকরী সদস্য বাবুর আলী,  অশোক কুমার ঘোষ,  আব্দুল মান্নান খান প্রমুখ। 

এ ব্যাপারে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  তিনি যে ২০ জনের নাম ঘোষণা করেছেন তারা প্রকৃত মুত্তিযোদ্ধা কিনা তা কেশবপুরের মানুষ জানেন। তিনিসহ ২০ জনই ভারতীয় তালিকা,  লাল মুক্তিবার্তা ও ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের জাতীয় তালিকাভুক্ত। ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত সনদ ও কল্যাণ ট্রাস্ট সনদ প্রাপ্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ