ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফিলিপিন্সে বিমান হামলায় নিজ দেশেরই ১০ সৈন্য নিহত

 

১ জুন, রয়টার্স : ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের দখল থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহরকে মুক্ত করতে ফিলিপিন্সের সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় চালানো বিমান হামলায় সরকারি বাহিনীর ১০ সেনা নিহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেলফিন লোরেঞ্জানা এ খবর জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পর্কিত ওই বিদ্রোহীদের পরাজিত করার সরকারি উদ্যোগ একটি বড় ধাক্কা খেল।

বুধবার ফিলিপিন্স বিমান বাহিনীর দুটি এসএফ-২৬০ বিমান বিদ্রোহীদের দখল থাকা মারাউয়ি শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি লক্ষ্যে বোমাবর্ষণ করে, এতে বিদ্রোহীদের বদলে সরকারি বাহিনীর ১০ সেনা নিহত ও অপর সাতজন আহত হয়, জানিয়েছেন লোরেঞ্জানা।

“নিজেদের সেনাদের আঘাত করা খুব দুঃখজনক। কোথাও কোনো একটা ভুল হয়েছে, হয়তো নিচে থেকে কেউ নিন্দেশনা দিচ্ছিল অথবা পাইলটের কারণেই,” বলেন তিনি।

মারাউয়ি শহরে মউত গোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ২৩ মে বিদ্রোহীরা শহরটি দখল করে নেয়। শহরের দখল করে নেওয়া ভবনগুলো থেকে বিদ্রোহীদের হটাতে স্থল অভিযান ও হেলিকপ্টার থেকে রকেট হামলা শুরু করে ফিলিপিন্সের সশস্ত্র বাহিনী।

এই অভিযানে বুধবার প্রথমবারের মতো এসএফ-২৬০ বিমান ব্যবহার করা হয়। এই বিমানের হামলায় নিহত সেনাদের নিয়ে এ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৮ সেনা নিহত হল।

গত নয় দিন ধরে মারাউয়িতে চলা অস্থিরতা ও লড়াইয়ে আরো ১৯ বেসামরিক ও ১২০ বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে আটজন বিদেশি জঙ্গি এবং তারা সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইয়েমেন ও চেচেনিয়া থেকে এসেছে বলে জানিয়েছেন লোরেঞ্জানা।

ইতোমধ্যেই আইএসপন্থি মউত গোষ্ঠী নিজেদের ভয়ঙ্কর একটি বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কয়েকদিন ধরে রকেট হামলা সত্বেও মারউয়ি শহরটির কেন্দ্রস্থল দখল করে রেখেছে তারা। অপরদিকে বিদ্রোহীদের পরিচিত লক্ষ্যস্থলে ‘সার্জিক্যাল’ হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ফিলিপিন্সের সামরিক বাহিনী।

শক্তিশালী একটি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ধরে লড়াই করে টিকে আছে মউত বিদ্রোহীরা। এতে গোষ্ঠীটির লড়াই করার সামর্থ্য সম্পর্কে নতুন করে ধারণা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গোষ্ঠীটি মধ্যপ্রাচ্যের আইএস নেতৃবৃন্দের স্বীকৃতি পেতে পারে এবং তাদের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় শাখায় পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ