ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

করের বোঝা জনগণের মাথায়

 

 এইচ এম আকতার: দেশের ৪৬ তম আর নিজের ১১ তম বাজেট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সামনে জাতীয় নির্বাচন তাই মেগা বাজেট দিয়েছে সরকার। ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করতে গিয়ে তিনি ধনী-গরিব সবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন এবার। উচ্চহারে আয়করের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের পরও অনেক কষ্টে যারা কিছু অর্থ সঞ্চয় করে ব্যাংকে আমানত রাখছেন, সেখানেও দ্বিগুণ হারে আবগারি শুল্ক বসানো হয়েছে। এভাবে নানা উপায়ে ভোক্তার ওপর শুল্ক, কর ও ভ্যাটের চাপ মেগা বাজেট দিয়ে বাহবাহ নিতে চাচ্ছেন সরকার। এই বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেছে। সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভায় নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল ২০১৭ এবং নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৭ অনুমোদন করা হয়। এর পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এবং ২০১৬-১৭ সালের সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দিয়েছেন।

এবারের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এ ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরিন খাত(ব্যাংক) থেকে ঋণ গ্রহণ করবে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। আর ব্যাংক বহির্ভূত অর্থাৎ জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাতে থেকে ঋণ গ্রহণ করবে ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণ থেকে নেয়া হবে ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর বাহিরেও ঋণ সহায়ত হিসেবে নেয়া হয়েছে ৫ হাজার ২২ কোটি টাকা। ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আর সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।

এবারের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে(এডিপি) ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে অনুন্নয়নমূলক কাজে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, এডিপিতে এক লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। চলতি বছরের এডিপি বাজেটের ১১ মাসে ব্যয় হয়েছে ৫৭ ভাগ। বাকী ৪৩ ভাগ বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে হবে এক মাসে। যা কোনভাবেই সম্ভব নয়। গত ৪৫ টি বাজেটের কোন একটি বাজেটের পুরো টাকা ব্যয় করা যায়নি। তার পরেও কেন এত বড় এডিপি বাজেট সে প্রশ্ন জনমনে থাকছেই।

‘উচ্চাকাক্সক্ষী’ বাজেট প্রণয়নে অভ্যস্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নে আয় ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ আয় ৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। বাকি আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক, আয়কর, করপোরেট কর ও আমদানি শুল্ক খাত থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাকি ৩৯ হাজার ৮০১ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা নিয়েছেন সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি ও টোল থেকে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার। অনুদান যেহেতু ফেরত দিতে হয় না, তাই বাজেট প্রস্তাবে এটিকে আয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈদেশিক অনুদান পাওয়া যাবে, এর কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় একই সঙ্গে এই পরিমাণ অর্থকে ঘাটতি হিসেবেও ধরা হয় বাজেটে। কাক্সিক্ষত মাত্রায় বৈদেশিক অনুদান পাওয়া গেলে নতুন অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ কমে দাঁড়াবে এক লাখ ছয় হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক অনুদান না পাওয়া গেলে ঘাটতি দাঁড়াবে এক লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, একটি দেশের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। গত পাঁচ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবছর সীমা অতিক্রম করে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এ বাজেটে আন্তর্জাতিক তথ্য মানা হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, বাজেট সংশোধনকালে ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই নেমে আসবে। ঘাটতি অর্থায়ন মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের ওপর ভরসা করতে হবে সরকারকে।

বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি। গত এক বছরে দেশে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ হয়েছে। তবে কাক্সিক্ষত মাত্রায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। এ কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে সরকারের যে ভাবনা ছিল, তাও পূরণ হয়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে মাত্র ১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন বাজেটে কর্মসংস্থানের তুলনায় মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে বলে প্রাক্কলন থাকছে বাজেটে। তবে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ দেশীয় অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনের এ তথ্য সঠিক নয়। নতুন অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলছেন হিসাবে কোন গড়মিল নেই। এবারের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরলেও তা অর্জিত হবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আর বিশ^ ব্যাংক আইএমএফ বলছে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট থেকে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জনপ্রশাসনে। এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৬ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৬৭৪ টাকা। যা মোট বরাদ্দে ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। পেনশন এবং গ্র্যাচুইটি দেয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। এটি বরাদ্দে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশি-বিদেশি সুদ পরিশোধে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত। এ খাতে সরকারের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৬৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিবহন খাতে মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ থাকছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার খাতে এবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৭ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দে ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

প্রতিরক্ষা খাতে এবার বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তারপর বরাদ্দ রাখা হয়েছে কৃষি খাতে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে এর পরিমাণ দাড়ায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছ্ েএবার এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। ৫ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এ খাতে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে ২২ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।জ¦ালানি খাতের এবারের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। গৃহায়ন খাতে এবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। যা শতকরা হারে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। বিনোদন,সংস্কৃতিও ধর্ম খাতে এবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। যা বরাদ্দে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। যা শতকারা হারে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

নতুন অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে মোট বাজেটের ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী অপরিবর্তিত রেখে তাঁদের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ১৫ লাখ ভিজিডি কার্ডধারীকে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সঞ্চয়ের জন্য নগদ দেওয়া হবে ২০০ টাকা করে। বয়স্ক ভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে সাড়ে চার লাখ, ভাতাও বাড়ছে ১০০ টাকা করে।

বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ে আয় কর সীমা না বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাখা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আয় কর সীমা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী এবং বয়ঙ্ক নারীদের আয় সীমা ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা।

এবারের বাজেটে ব্যাংকের আমানতের উপর আবগারি শুল্ক ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ হারে। এ ক্ষেত্রে শুল্ক মুক্ত সীমা ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক দিয়ে হবে ৮ শতাংশ হারে। এতে করে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে আমানতে রাখতে উৎস হারাবে। ফলে আগামীতে বিনিয়োগ আরও কমে যাবে।

 বড় বাজেট করতে গিয়ে জনগণের কাছ থেকে নানা কায়দায় রাজস্ব আদায় করার পরিকল্পনা করেছে এনবিআর। সেসব উদ্যোগের সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে ১৫ শতাংশ হার বহাল রেখে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করার উদ্যোগ। এ ভ্যাট হার আগামী ৩ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টির পর ভ্যাটের একক হার কমানোর যে চিন্তা ছিল সরকারের, শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। তবে ভ্যাটমুক্ত টার্নওভারের পরিমাণ ৩০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ নির্ধারণ করা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার বদলে মোট বিক্রির ওপর দেওয়া টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা যেখানে ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা রয়েছে, তা বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা থেকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যবসায়ীরা ১৫ শতাংশ ভ্যাটের চাপ থেকে রেহাই পাবে।

যদিও ব্যবসায়ীদের নজর ছিল ভ্যাটের উপর। কিন্তু অবশেষে ১৫ শতাংশ রেখেই ভ্যাট আইন কার্যকর করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেছিল চূড়ান্তভাবে ভ্যাটের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। এর আগে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে তা কমানো হবে। ভ্যাট সহনীয় পর্যায় আনা হবে। কিন্তু বাজেটের দু দিন আগে তিনি জানিয়েছে দিয়েছেন ভ্যাট হার ১৫ শতাংশই থাকছে। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই’র সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানিয়েছেন,ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ করলে আমাদের তেমন আপত্তি নেই। তবে সবার জন্য এক রেট করা ঠিক হবে না। এতে করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ দিকটি সরকারকে বিবেচনায় আনতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ