ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের  রায় অপেক্ষমান

 

স্টাফ রিপোর্টার : উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের রায় ঘোষণা হবে যে কোনো দিন। এই আপিলের ওপর একাদশতম দিনের শুনানি শেষে আপিলটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের শুনানিতে আদালত নিযুক্ত ১২ জন এমিকাস কিউরির (আইনগত ব্যাখ্যা দিয়ে সহায়তাকারী) মধ্যে ১০ জন বক্তব্য রাখেন। এরমধ্যে ১ জন বাদে ৯ জন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি হলো বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ন্যস্ত করা স্বাধীন বিচার বিভাগের পরিপন্থী। এতে করে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের সুযোগ হবে। সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দেয়া ৯ আইনজীবী হলেন-সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খান, সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এম আই ফারুকী এবং এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। বাকী এক এমিকাস কিউরি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ষোড়শ সংশোধনীকে বৈধ আইন বলে মত দেন। 

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ন্যস্ত ছিল। তবে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে নেন বঙ্গবন্ধু। এরপর পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান ন্যস্ত করা হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীতে সরকার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদে ন্যস্ত করে। বিচারপতি অপসারণের ষোড়শ সংশোধনী গত বছর ৫ মে হাইকোর্ট বাতিল ঘোষণা করেন। হাইকোর্টে এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পর আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আদালতে শুনানির শেষ দিনে সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রিটকারীদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ষোড়শ সংশোধনী বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদসমূহ বলতে, ১৯৭২ সালের ৪ নবেম্বর বাংলাদেশের গণপরিষদে যে সংবিধান গৃহীত হয়েছিল সেই অনুচ্ছেদসমূহকেই বুঝাবে। সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদসমূহ ভাল বা মন্দ বা তাতে মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটা রক্ষিত হয়েছে বা হয়নি সে কথা বলার এখতিয়ার বিচার বিভাগের নেই। কারণ বিচার বিভাগ সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট। সৃষ্টি তার ¯্রষ্টার ভাল-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা রাখে না। সংবিধানের মূল অনুচ্ছেদসমূহ সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কেবলমাত্র যখন তা সংশোধন হয় তখন সে সংশোধন সংবিধানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কি না তা বিচার করার এখতিয়ার উচ্চ আদালতের আছে।

তিনি বলেন, বিচারপতিদের অপসারণ বিষয়ে কী পদ্ধতি গৃহীত হবে তা একটি নীতি-নির্ধারণী বিষয়। এই নীতিনির্ধারণের বিষয়টি আদালতের বিচার্য বিষয় হতে পারে না।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি আপনার সঙ্গে আছি। আপনি যদি অধঃস্তন আদালত বিষয়ক আদি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

এটর্নি জেনারেল বলেন, আমি তো আইন প্রণেতা নই। সংবিধানের ৯৬ (৩) এ বলা নেই যে, বিচারকদের অপসারণের বিষয়টি সংসদ তদন্ত করবে। ষোড়শ সংশোধনীর ফলে প্রতিস্থাপিত অনুচ্ছেদ ৯৬ (৩) এর প্রেক্ষিতে যে আইন প্রণীত হবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই আইনের বিধান বিবেচনা করে বোঝা যাবে যে, অপসারণের বিধান তদন্তের বিষয়ে কোন ব্যক্তিদের সংযুক্ত করা হবে, তদন্ত নিরপেক্ষ হবে কি না বা সে আইনের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হবে কি না। কাজেই ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত ৯৬ (২) এবং ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের পরিপন্থী কিনা তা বিচার করার অবকাশ নেই।

মাহবুবে আলম বলেন, বিচার বিভাগ সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ। নিজেদের বিচার নিজেরা করাটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। এ পদ্ধতিতে প্রধান বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যান্য বিচারপতিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। বিচারপতিরা যেহেতু একসাথে বহুদিন কাজ করছেন, একে অপরের পরিচিত সেহেতু তাদের অসদাচরণ ও অসমতা বিচারের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের পক্ষে তাদের আবেগ অনুভূতির ঊর্ধ্বে ওটা সম্ভব নাও হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্তে বিএমডিসির ব্যর্থতার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বা শর্ত ভঙ্গের কারণে আজ পর্যন্ত এমন নজির নেই। তাই আইন করার আগে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা সমীচিন হবে না।

জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ক্ষমতা যদি নিয়ে যান তাহলে জাজদের কে তদারকি করবে। কোনো বিচারপতিই প্রধান বিচারপতির অধীন না। তারা স্বাধীন। কেউ মানবে না।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কয়দিন আগে ভারতে কি হয়েছে? হাইকোর্টের একজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে। কারণ ওই বিচারক জানে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেই।

এটর্নি জেনারেল বলেন, আপনারা কেন এত শঙ্কাবোধ করছেন?

বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া বলেন, ১২টায় বেঞ্চে বসবে, দুই তিন বছর পর রায় লিখবেন তখন বুড়ো আঙুল দেখাবে। তখন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ গঠন ছাড়া কিছু করতে পারবেন না।

এটর্নি জেনারেল বলেন, মার্শাল ল’ প্রোক্লেমেশন দ্বারা যেই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান করা হয়েছে তা যদি রাখা হয় তা হবে ইতিহাসের বিরাট ভুল। ইতিহাস যেমন বিচারপতি মুনিমের কথা বলে তেমনি আপনাদের কথাও বলবে। আপনারা কেন সংসদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না?

প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরণের বক্তব্য দেয়া ঠিক না।

এটর্নি জেনারেল বলেন, আপনারা যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে আমার কাছে এটাই মনে হচ্ছে।

এই পর্যায়ে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, মার্শল ল’ যদি বাদ দেন তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন। তাহলে তো চতুর্থ সংশোধনীতে গিয়ে দাঁড়াতে হবে তাই নয় কি?

এটর্নি জেনারেল বলেন, কেন চতুর্থ সংশোধনী কেন, আমরা তো আদি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদেই যাব।

এর আগে সরকার পক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, জাতীয় সংসদের ওপর কেন এত অবিশ্বাস?...সামরিক শাসনের কারণে একটি কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তখন আমরা সুপ্রিম কোর্টের কোনো সাহায্য পাইনি। একজন প্রধান বিচারপতি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন। সেই কালো অধ্যায়ের সময়ের করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্ট রেখে দিল।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা কোনোভাবেই মার্শাল ল’র অধীনে ফিরে যেতে চাই না।

তখন মুরাদ রেজা বলেন, তখন তো বিচার বিভাগের কেউ সাহস করে বলেনি কেন জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে বলবো না?।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ে আদি সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছি।

মুরাদ রেজা বলেন, কিন্তু এই মামলায় হাইকোর্ট তো বলেছে আদি সংবিধানে ফিরে যাওয়া যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট সবসময়ই সংবিধানের সঙ্গে ছিল। যখনই কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ হয়েছে আপনারা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ৯৬ অনুচ্ছেদে আপনারা মার্জনা করেছেন। বৈধ হলে কি সেটা মার্জনা করার প্রয়োজন ছিল? সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অবৈধ ছিল বলেই আপনারা মার্জনা করেছেন। ওই সংশোধনী যদি মৌলিক কাঠামোর অংশ হতো তাহলে মার্জনা করার প্রয়োজন হতো না।

তিনি বলেন, সংসদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আপনাদের আরও বেশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সংসদকে চ্যালেঞ্জ বা অপমান করার ক্ষমতা কারো নেই। বিচার বিভাগেরও নেই। সংসদকে অপমান করবেন না।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কে অপমান করেছে বলুন।

তখন মুরাদ রেজা বলেন, এমিকাস কিউরিদের একজন বাদে সবাই বলেছেন। তারা তো আদালতের বন্ধু। তাদের আলোচনা হওয়ার দরকার ছিল সাবজেক্টটিভ, অবজেক্টটিভ না। তারা উন্নত মানের এডভাইস দিলে আপনারা উন্নত মানের রায় দিতে পারতেন।

বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, এমিকাস কিউরিরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি এটা বলা ঠিক না। তারা ভুল না ঠিক বলেছে সেটা আমরা দেখব।’

এরপর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে কিছু অভিমত নিয়ে সরকার পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। কিন্তু ৯৬ অনুচ্ছেদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে সরকার পক্ষকোনো রিভিউ আবেদন করেনি। শর্তসাপেক্ষে মার্জনা করেছে বলে সরকার পক্ষ যা বলছে তা সঠিক না। সরকার পক্ষ জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে রিভিউই করেনি। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে বিধান এটি ১৬ কোটি জনগণ না হলেও ১০ কোটি লোক এর পক্ষে আছে।

শুনানি শেষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মার্শাল ল’ অনুযায়ী বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা যদি আপিল বিভাগের মাধ্যমে আবার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ফিরে যায় তবে তা হবে ঐতিহাসিক ভুল। দুপুর ২টার দিকে এটর্নি জেনারেলের নিজ কাযার্লয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদি সংবিধানে যদি সংসদ সদস্যদের হাতে বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা থাকতে পারে এখন কেন পারবে না? আগে মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে ছিল তাহলে হঠাৎ এমন কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো এখন এই অনুচ্ছেদকে সাংঘর্ষিক বলা হচ্ছে।

এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে মার্শাল ল’ অনুযায়ী বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা আবার যদি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে যায় তা হলে এটা হবে ঐতিহাসিক ভুল। তিনি বলেন, সংসদ যদি ভুল আইন করে বা সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা করে তা দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর। কিন্তু বিচারকরা ভুল করলে তাদের দায়বদ্ধতা জনগণের উপর নির্ভর করে।

গত ৮ মে পেপার বুক থেকে রায় পড়ার মাধ্যমে এই মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। এরপর ৯ এবং ২১, ২২ ও ২৩ ও ২৪,২৫ ও ২৮, ২৯ ও ৩০ মে এ মামলার শুনানি হয়েছে। 

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আপিল শুনানিতে সহায়তার জন্য ১২ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ।

১২ আইনজীবী হচ্ছেন- প্রবীণ আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও এম আই ফারুকী। তবে 

গত বছর ৫ মে ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের নিষ্পত্তি করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায় হওয়ায় ষোড়শ সংশোধনী আইনটি বাতিল হয়ে যায়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয় বলাতে দ্বিধা নেই ষোড়শ সংশোধনী একটি  মেকি আইন (কালারেবল লেজিসলেশন) এবং এটা রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের (নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৯৪ (৪) এবং ১৪৭(২) অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এই দুটি অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। এই সংশোধনী সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের (খ) দফাকে আঘাত করেছে। কেননা সংবিধানের ৭-এর ‘খ’ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক স্তম্ভ পরিবর্তন করার কোনো বিধান নেই এ কারণে রুলের সারবত্তা রয়েছে এবং রুলটি সফল। রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো কোন ব্যয় ছাড়া। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আইন ২০১৪ (এ্যক্ট নম্বর ১৩, ২০১৪) মেকি, বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হলো।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ (১৬তম) সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালের ৫ নবেম্বর হাইকোর্টে ৯ জন আইনজীবী এই রিট করেন। তারা হলেন-এডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, এডভোকেট একলাস উদ্দিন ভুঁইয়া, এডভোকেট ইমরান কাউসার, এডভোকেট মাসুম আলীম, এডভোকেট মো.সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, এডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম, এডভোকেট নুরুল ইনাম বাবুল, এডভোকেট শাহীন আরা লাইলী, এডভোকেট রিপন বাড়ৈ। রিটে দাবি করা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম অংশ। তাই ওই সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ