ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংসদে সাংবাদিক লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতির ২১ মিনিট অবস্থান

 

সংসদ রিপোর্টার: সাংবাদিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের সখ্যতা সেই পুরনো। বিশেষ করে দীর্ঘদিন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার থাকাকালে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও সেই সম্পর্কের টানে সংসদে সাংবাদিক লাউঞ্জে আসার রেওয়াজ পুরনো। বছরের শুরুতে সংসদের অধিবেশনে ভাষণ কিংবা বাজেট পেশের দিন সুযোগ পেলেই গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। খোশ গল্পে মেতে ওঠেন স্বভাব সুলভভাবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চিরাচরিত নিয়মে ঢু মেরে গেলেন সাংবাদিক লাউঞ্জে। ২১ মিনিট তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশলবিনিময়সহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। তবে এর বেশি সময়ই ছিল হাওরাঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ ভবনের ছয়তলায় অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির বক্সে বসে অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নতুন অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি সংসদে আসবেন। আর সংসদে এলে তিনি সাংবাদিক লাউঞ্জে আসবেন, এটা সবার জানা। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন সাংবাদিক লাউঞ্জে এসে রাষ্ট্রপতি আসার খবর নিশ্চিত করলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অর্থাৎ দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির বক্স থেকে সংসদ ভবনে নিজের চেম্বারে ফেরার সময় জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ তলায় সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে খোঁজখবর নেন সাংবাদিকদের। জিজ্ঞেস করেন কেমন চলছে? কোনো সমস্যা আছে কিনা? সাংবাদিকদের সাথে ভাল মন্দ খোঁজ নেওয়ার নেওয়ার মাঝেই চেয়ারে বসেন। হাওরের মানুষ তিনি। তাই হাওরের মানুষের দুর্দশার চিত্র উঠে আসে তার কথায়। তিনি বলেন, প্রতিবছরই আগাম বন্যা হয় হাওরে। কিন্তু, এবারের আগাম বন্যাটা অনেক আগে হয়েছে। তাই মানুষের এতো দুঃখ ও ক্ষয়ক্ষতি।

জীবনে এতো আগাম বন্যা কখনো দেখেননি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭৪ বছরের এই জীবনে এমন আগাম বন্যা দেখিনি। ১৯২৯ সালে এ রকম আগাম বন্যা হয়েছিল। এ সময় তিনি হাওরবাসীর জন্য সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির আত্মজীবনি লেখার প্রসঙ্গও চলে আসে আলোচনায়। তিনি বলেন, আত্মজীবনি লিখব,তবে প্রিয় লেখকই যে মরে গেছে। ২১ মিনিট সাংবাদিক লাউঞ্জে অবস্থান শেষে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সাংবাদিক লাউঞ্জ ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ