ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কয়রা দাকোপ ও পাইকগাছায়  স্যানিটেশন নাজুক

 

খুলনা অফিস : খুলনার ৯টি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল। উপজেলা তিনটি হলো পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা। উপজেলা তিনটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়। তখন আবার নতুন করে স্যানিটেশন ব্যবস্থা করতে হয়। এদিকে নগরীর বিভিন্ন বস্তিতে নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে নিজেদের জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করেছে। অনেকে ৩০ বছর ধরে বসবাস করছে। তারাও এখনও নিজস্ব স্যানিটারি পায়নি।

খুলনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজ বলেন, তাদের কাজ শহরের বাইরে। তাদের কাজের মধ্যে খুলনার ৯টি উপজেলা রয়েছে। আর এই উপজেলাগুলোর মধ্যে তিনটির স্যানিটেশন ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জিং। আর বাকি উপজেলাগুলোতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা সন্তোষজনক। তবে পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করছি।

বেসরকারি সংস্থা কারিতাস খুলনার প্রোগ্রাম অফিসার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তাপস সরকার বলেন, তারা বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা করে থাকে। এখন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর ৫টি ওয়ার্ডে ৮টি স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হবে। যার কার্যক্রম দু-এক দিনের মধ্যে শুরু হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর রেলওয়ে কলোনী, বসুপাড়া বস্তি, টুটপাড়া বস্তি, মহির বস্তি, স্বর্ণালী বস্তি গুলোতে স্যানিটেশন ব্যবস্থাই নেই। এর ফলে বস্তিবাসী প্রয়োজনে যেখানে সেখানে মল-মূত্র ত্যাগ করেন। যা বস্তির সামগ্রিক পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। বসুপাড়ার অবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন বস্তির কয়েকজন। তারা স্ব উদ্যোগে টয়লেট স্থাপন করেছেন।

রেলওয়ে কলোনীর বেলাল হোসেন বলেন, এই বস্তিতে কোন পায়খানা ঘর নেই। এজন্য তাদের অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়। এর ওপর রয়েছে বস্তির পাশে রাখা সারের গুদামের দুর্গন্ধযুক্ত পানি। যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত বস্তির মো. আব্দুর রায়হান (৮) বলেন, তারা জন্মের পর থেকে কখনো পায়খানা ঘর দেখতে পায়নি। তাদের কোন পায়খানা ঘর নেই। তারা নদীর পাড়ে পায়খানা করে। একটা পায়খানা ঘর স্টেশনের পাশে ছিল তাও তালা মেরে দিয়েছে। 

জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে ২২০ সেট টয়লেট, ফান্ড ও রিং মজুদ রয়েছে। এছাড়া বিআরডব্লিউএসএসপি প্রকল্পের আওতায় ৮০০টি লোকজ স্যানিটারি দেয়া হয়েছে। আর ৯টি উপজেলার প্রতিটিতে ১০০ সেট করে রিং দেয়া হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার মো. আনিছুর রহমান বলেন, নগরীর বস্তিগুলোতে আপাতত কোন টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। শহর কর্মকর্তারা এসে এগুলো দেখবেন। তারা কোথাও সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার না করলে ও নোংরা থাকলে নোটিশ প্রদান করে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ