ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে লিচুর ভাল ফলন সিংড়ার সোনাপুর বটতলায় লিচুর জমজমাট আড়ত

 

আবু জাফর সিদ্দিকী, সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা : চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আর মৌসুমী ফল লিচুকে কেন্দ্র করে উপজেলার চামারী ইউনিয়নের সোনাপুর বটতলায় বসেছে লিচুর জমজমাট আড়ত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আড়তে লিচু কেনাবেচা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ৮-১০টি মিনি ট্টাকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লিচু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে করে অর্থনীতিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে লিচু ব্যবসা। এদিকে তীব্র তাপমাত্রা অনেক বাগানে ফেটে গেছে লিচু। এতে লোকসানের আশংকায় রয়েছে লিচু চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ৯৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছিল। উপজেলার চামারী ইউনিয়নে ৭৫ হেক্টর,হাতিয়ানদহ ইউনিয়নে ২০ হেক্টর, কলম ইউনিয়নে ৫ হেক্টর, লালোর ইউনিয়নে ২ হেক্টর সহ পৌরসভার বিভিন্ন জায়গা ও বাড়ির আঙিনায় লিচু চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে মোজাফ্ফর জাতের লিচু।

সরেজমিনে ঘুরে সিংড়া উপজেলার চামারী, কলম, হাতিয়ানদহ ইউনিয়নে লিচু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। অনেক জায়গায় লিচু গাছ থেকে নামানোও তা বাজারজাত করার জন্য বাগানের লোকজনের পাশাপাশি দিনমজুর হিসেবে পুরুষ-নারী সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষদের কাজ করতে দেখা গেছে। 

এই লিচুকে কেন্দ্র করে সিংড়া উপজেলার চামারী সোনাপুর সহ চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে মৌসুমী ফলের আড়ত বসিয়েছে ব্যবসায়িরা। এসব আড়তে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বাহির থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়িরা ভিড় জমিয়ে লিচু কিনছেন। বাজারে এক হাজার লিচু ১৫শ থেকে ২৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ধুলিয়াডাঙ্গা গ্রামের আঃ আজিজ জানায়, তিনি দীর্ঘ ৭বছর যাবত লিচু চাষের সাথে জড়িত। এক বিঘা জমিতে ২০টি মোজাফ্ফর জাতের লিচুর গাছ আছে। এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। আগে লিচু নাটোরের স্টেশন বাজারে বিক্রি করতাম। সেখানে খরচ বেশি হত। বর্তমানে স্বল্প খরচে এখানে বেচাকেনা করি। এ বছর রোদের তীব্র তাপমাত্রার কারনে লিচুর গায়ে দাগ দেখা দিচ্ছে। এতে লাভের পাল্লাটা একটু হালকা হবে।

গাজীপুরের মানিক বেপারী জানান, এখানে অত্যন্ত ভালো মানের ফরমালিনমুক্ত লিচু পাওয়া যায়। গত কয়েক বছর এখান থেকেই পাইকারি দরে লিচু কিনছি। ক্রয়কৃত লিচু মিনি ট্টাক যোগে পরিবহন করা হয়।

সোনাপুর বাজারে লিচু ব্যবসায়ি বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের পরিচালক আঃ মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এ এলাকার চাষিদের উৎপাদিত লিচুকে কেন্দ্র করে সোনাপুর বাজারে আড়ত বসে। সকাল থেকে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত এই আড়তে কেনাবেচা হয়। তবে বিকেল থেকে জমজমাট হাট লাগে। ঢাকা, যাত্রাবাড়ি, গাজিপুর চৌরাস্তা, ফেনী, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার পাাইকারি ব্যবসায়িরা প্রতিদিন ৮-১০টি মিনি ট্রাকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লিচু নিয়ে যায়।

গুটিয়া মহিষমারী গ্রামের আবুল কালাম বলেন, লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় এই এলাকার কৃষকরা বাগান করে সহজে স্বাবলম্বী হচ্ছে। বাগানে এক থেকে দেড় হাজার টাকার বালাইনাশক প্রয়োগ করলেই হয়। এক একর জায়গা একটি লিচুর বাগান করেছি। গত বছর দেড় লাখ টাকায় লিচুর বাগান বিক্রি করেছিলাম। এ বছর ২লাখ টাকায় বিক্রি করেছি।

সোনাপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানায়, গত বছর ৩ বিঘা জমির লিচু ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলাম। এবার এক লাখ দশ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা বাগান পরিচর্যা করি। লিচু চাষে এ এলাকার কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই লিচু চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রতি বছর উপজেলায় লিচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এবার উপজেলায় মোজাফফর জাতের লিচুর চাষ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। রোদের তীব্র তাপমাত্রায় অনেক বাগানে লিচু ফেটে গেছে জেনেছি। কৃষকদের সব রকম ফল চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন সময় বালাইনাশক ঔষধ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ