ঢাকা, শুক্রবার 02 June 2017, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৬ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চকরিয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরা তান্ডবে ২ জন  নিহত ॥ ১০ সহ্রাদিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত

শাহজালাল শাহেদ, চকরিয়া : চকরিয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরার তান্ডবে উপজেলার বিভিন্নস্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে ১০ হাজার ২২৮টি বসতবাড়ি। সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে গেছে ১ হাজার ২৯৩টি বসতঘর। তার মধ্যে ১৮ ইউনিয়নে ভেঙ্গে গেছে ১ হাজার ১৯৩টি বসতঘর এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভেঙ্গে গেছে ৮০টি বসতবাড়ি। সড়কের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে প্রায় দুইঘন্টা ধরে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। গত বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন রয়েছে পৌরসভাসহ গোটা উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ। এ সংযোগ পেতে আরও কিছুদিন জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে চরমভাবে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা তান্ডবে উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে সড়ক এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতঘরের লক্ষাধিক গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে হাজার হাজার বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক এবং গৃহস্থালী গাছ পড়ে বিদ্যুতের সংযোগ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় গতকাল সকাল থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। অনেক এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবে গাছ চাপা পড়ে উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে এক নারী ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নে একজনসহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে সিকদারপাড়া গ্রামের ছায়েরা খাতুন (৬২) ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্বডুমখালী গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে রাহমত উল্লাহ (৪০)। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব চলাকালে বসতঘর রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি কমবেশি আহত হয়েছে।

ঢেমুশিয়ার জনৈক রুহুল কাদের জানিয়েছেন, ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউনিয়নের নতুন বাজারে অন্তত বিশটি দোকান উড়ে গেছে ঝড়ো হাওয়ায়।

চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দা এইম.এম আবু হানিফ জানিয়েছেন, তার ১নং ওয়ার্ড ছোবহানিয়ারকুম এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেছে। আব্দুলবারীপাড়া আবুতালেব স্টোরের চালা সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। একাধিক ঘরের চালে গাছ ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কোন মানুষ হতাহত হয়নি। 

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা তান্ডব মোকাবেলায় আগের দিন সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা পরিষদে অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। সেখান থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দুর্গত এলাকার খবরা-খবর নেয়া হয়। ইউএনও বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা এলাকার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছেন। তালিকা মতে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে উপজেলায় ১০ হাজার ২২৮টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তারমধ্যে ১হাজার ১৯৩টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে বিধস্ত এবং ৯ হাজার ৩৫টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ বসতঘর কাঁচা ও আধাপাকা। তিনি আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতা জানিয়ে আগেরদিন এলাকাজুড়ে মাইকিং করার পর উপজেলার প্রায় শতাধিক সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয় ৭৪ হাজার ৭৩০ জন নারী-পুরুষ। ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবে গাছ চাপা পড়ে উপজেলায় দুইজন নিহত হয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ তান্ডবে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার জনবসতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে বিপুল পরিমাণ গাছপালা। পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলরদের দেয়া তালিকা মতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে অন্তত এক হাজার বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তারমধ্যে ৮০টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে মাটির সাথে লেপ্টে গেছে। তাছাড়া পৌর এলাকার একাধিক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে জনসাধারণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি, দ্রুত বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগসহ সামগ্রীক ভোগান্তি লাঘবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ