ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাত্রাহীন করের বোঝায় মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না -ফখরুল

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার পল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত পুস্তক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: লুটপাট করতেই বিশাল আকারের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লুটপাটের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত এই বাজেটে মানুষের ওপর মাত্রাহীন করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মানুষের দুঃখ-কষ্টের কোন সীমা থাকবে না। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে মাসব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। এতে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রকাশনা স্থান পেয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এতে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কবির মুরাদ, মোতাহের পাটোয়ারি, সঞ্জিব চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহির দীপ্তি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের কোনো বৈধতা নেই যে তারা জাতীয় বাজেট দিতে পারে। আজকে প্রত্যেকটি পত্রিকায় দেখবেন, এমনকি সরকারের ঘরানার পত্রিকাগুলো পর্যন্ত বলছে যে, করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে জনগণের ওপরে। করের নেটওয়ার্কে আষ্টে-পৃষ্টে বেঁধে ফেলা হয়েছে জনগণকে এবং ১৫% ভ্যাট আরোপে আজকে গোটা জাতিকে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সকলকে এই করের বোঝার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এই বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো কল্যাণ তো করবেই না, উপরন্ত সাধারণ মানুষের জন্য একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, একটা বার্ডেন হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, নতুন একটি বাজেট এই অনৈতিক সরকার সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। পত্রিকাগুলো দেখলেই দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন কার্টুন ছাপিয়ে বাজেটে যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তা প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিশাল বাজেট জনগণের কোনো কল্যাণ তো আনবে না বরং এটি বিশাল একটি বোঝা। যেভাবে মানুষের ওপর মাত্রাহীন করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে মানুষের দুঃখ-কষ্টের কোন সীমা থাকবে না।

 তিনি বলেন, শিক্ষার জন্য বাজেট বাড়িয়েছে, কিন্তু শিক্ষার যে গুণগত মান বৃদ্ধি বাজেটে তার কোন সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আজকে যে সীমাহীন দুর্ভোগ তা কাটিয়ে ওঠার জন্য কোন বাজেট নেই। অথচ বড় বড় মেগা প্রজেক্টের জন্য বড় বাজেট দিয়েছে। এটা মেগা দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি যেন উচ্চ দরের পকেট মার তৈরির দারুণ সুযোগ।

ফখরুল বলেন, বাজেটে ৩০টি মেগা প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। এই মেগা প্রজেক্টগুলোতে মেগা কস্টিং হবে। সেই মেগা কস্টিংয়ে মেগা দুর্নীতি হবে। মেগা পকেট ভারী হবে। পুরো বাজেটটিই হচ্ছে আজ নিজেদের পকেট ভর্তি করার জন্য। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে জনগণের পকেট কাটবে, নিজেদের পকেট ভর্তি করবে, এই হচ্ছে অবস্থাটা। এটা হচ্ছে খুবই উচ্চুদরের পকেট মারার মতো অবস্থা। ফখরুল বলেন, এই বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো কল্যাণ তো করবেই না, উপরন্তু সাধারণ মানুষের জন্য একটা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। একটা বার্ডেন হয়ে দাঁড়াবে।

স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা ‘অবিশ্বাস্য রকম খারাপ’ হলেও এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আমি কয়েকদিন আগে আমার নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলাম, আমাদের একজন দলীয় নেতা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আমি ঢুকতে গিয়ে আঁতকে উঠেছি- কোথায় এলাম। মনে হয়েছে যেন একটা নর্দমার মধ্যে এসেছি, জেলা হাসপাতালের এই অবস্থা অর্থাৎ এতোটুকু মেইনটেইনেস নেই, কোনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নেই, কোনো ডাক্তারও নেই, কিছুই নেই।

দলীয় নেতা-কর্মীদের বেশি করে বই পড়ে জ্ঞানচর্চার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৬ তলায় স্থাপিত পাঠাগারটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সকলে সেখানে গিয়ে বই পড়বেন। খুব চমৎকার, সুন্দর সুন্দর বই আছে। পত্র-পত্রিকা আছে। শিগগিরই এই পাঠাগারটি বেগম খালেদা জিয়া গুলশান অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে প্রকাশক সাঈদ বারী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোতাহার হোসেন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে শহীদুল ইসলাম শহীদের সম্পাদিত ‘জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও চেতনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান উপদেষ্টা করে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়।

পরিষদের সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ,ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ড. ওসমান ফারুক, শওকত মাহমুদ, প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান, রুহুল কবির রিজভী, মিজানুর রহমান সিনহা, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবু সালেহ, আবদুল হাই শিকদার, মোতাহার হোসেন পাটোয়ারি, আবুল কালাম মারগুব মোর্শেদ, জিএম ফজলুল হক, শাহিন মো, সুলায়মান মোল্লা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ