ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে রকেট লাঞ্চারসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ॥ আটক ৩

গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারূদ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৫নং সেক্টরের একটি লেক থেকে ৬২টি চাইনিজ এসএমজি রাইফেল, ৫টি ৭.৬২ পিস্তল, ২টি রকেট লাঞ্চার, ৪৯টি মটারসেল, ২টি ওয়ারলেস, ১৫২৭ পিস গুলী, ৬০টি ম্যাগজিন, ৪৯টি গ্রেনেড ও ৪৯টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। 

অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে এক পর্যায়ে বেলা ১১টায় সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিচালক (আইজিপি) শহিদুল হক বলেন, একটি চক্র বড় ধরনের নাশকতার লক্ষ্যে এসব অস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে চক্রটিকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

বিকেলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ শাখার এআইজি সহেলী ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বাগলা এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শরীফ মিয়ার বাড়িতে বড় ধরনের অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে পুলিশের কাছে সংবাদ আসে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ শরীফ মিয়ার বাড়ি থেকে একটি এলএমজি রাইফেল উদ্ধার করে। তবে শরীফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর পরের দিন বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া এলাকা থেকে শরীফ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। 

শরীফ মিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র ওসি মাহমুদুল ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৫নং নম্বর গুতিয়াবো আগারপাড়া এলাকার বালুচর থেকে প্রথমে দুটি এসএমজি চাইনিজ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। 

পরে দ্বিতীয় দফায় ভুইয়া বাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন লেকের পানি থেকে পর্যায়ক্রমে ৬২টি চায়না এসএমজি, ৫টি ৭.৬২ পিস্তল, ২টি রকেট লাঞ্চার, ৪৯টি মর্টারশেল, ২টি ওয়ারলেস, ১৫২৭ পিছ গুলী, ৬০টি সাময়িকী, ৪৯টি গ্রেনেড ও ৪৯টি ডেটোনেটর উদ্ধার করে। 

এদিকে, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন পুর্বাচল উপশহরের আশ-পাশে বসবাসরত এলাকাবাসী। এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুর্বাচল উপ-শহর এলাকাটি এক সময় জনবহুল এলাকা ছিল। রাজধানীর অতি কাছের এ এলাকাটিতে হাজার হাজার মানুষের বসবাস ছিলো। পুর্বাচল উপশহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক পুরো এলাকাটিকে অধিগ্রহণ করে নেয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে দেয়া হয়। বর্তমানে পুরো পুর্বাচল উপশহরটি ফাঁকা ও নির্জন অবস্থায় রয়েছে। অপরাধীরা নিরাপদ স্থান হিসেবে পুর্বাচল উপশহরকে বেঁচে নিয়েছে। এখানে প্রায় সময়ই লাশ উদ্ধারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে। বিশেষ করে ৫নং সেক্টরের লেকটি একেবারেই নির্জন ও দুর্গম জায়গা। হয়তো নিরাপদ ভেবে অপরাধীরা এখানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রেখেছে। 

পূর্বাচল উপশহরের আদিবাসি গুতিয়াব এলাকার মাজহারুল ইসলাম জানান, এই এলাকা লোকজন না থাকায় নিরব পড়ে থাকে। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন দামী গাড়ি করে অচেনা লোকজন যাতায়াত করে থাকে। ফলে এই এলাকায় নানা অপরাধ ঘটে থাকে। 

স্থানীয়দের দাবী এই এলাকার দিন-দুপুরে কালো গ্লাস ব্যবহারকারী দামি গাড়ির আনাগোনা থাকে। ফলে কে বা কারা এখানে নিত্য নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। 

এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের খবর পেয়ে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সকাল সাড়ে এগারোটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, এআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) মো. মনিরুজ্জামান, নারায়নগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন,বাংলাদেশকে নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কোনও অপরাধীচক্র এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোরাবারুদ এনে থাকতে পারে। এরই মধ্যে এক ব্যক্তি আমাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। ওই ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রের হাতে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ আছে কিনা খুঁজে দেখা হচ্ছে। কারা কী কারণে কী উদ্দেশ্যে এই গোলাবারুদ মজুদ করেছে, তা শিগগিরই জানা যাবে। শামীম নামে গ্রেফতারকৃত এক সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যের দেয়া সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কে এম শহীদুল হক।

আইজিপি বলেন, 'বৃহস্পতিবার বিকালে জেএমবি সন্দেহে শামীম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পূর্বাচল সিটিতে অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, নারায়াণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ গতবছরে দিয়াবাড়িতে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। একটি চক্রই এর পেছনে সক্রিয় থাকতে পারে। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৫ নম্বর সেক্টরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন 

তিনি বলেন, দুটি স্থানে একই কৌশলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুকিয়ে রাখা হয়। অস্ত্রগুলো দেখে মনে হচ্ছে এগুলো সক্রিয়, সচল ও সয়ংক্রিয়। ধারণা করছি এগুলো দুই তিনমাস আগে এখানে রাখা হয়েছে।

জঙ্গি সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন আস্তানায় যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার সঙ্গে এই অস্ত্রের মিল নেই। তবুও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ