ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আমাকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে-শ্যামল কান্তি 

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের সদ্য কারামুক্ত পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেছেন, ‘আমাকে স্কুল থেকে বিতারিত করার চেষ্টা চলছে। এজন্য গত বছর থেকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের একটি মাত্র কারণ হচ্ছে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বি। তারা একজন হিন্দুকে বিতাড়িত করতেই এই কারসাজি করছে। আমার ওপর সারাক্ষণ মেন্টাল টর্চার করা হচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি যে কোন সময় আমার একটা কিছু হয়ে যেতে পারে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে শ্যামল কান্তির স্ত্রী সবিতা হালদার, মহাজোটের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায়, নির্বাহি সভাপতি সুকৃতি কুমার মন্ডল, শ্যাশ কুমার রায়, ফণি ভূষণ হালদার, ডা: নিমাই চন্দ্র আর্য, সমীর সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মামলা প্রত্যাহার ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবি জানায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। 

সম্মেলনে শ্যামল কান্তি বলেন, নিজের জীবন বাজি রেখে আমি এই স্কুল গড়ে তুলেছি। স্কুলের জন্য ভবন নির্মাণ করেছি। লেখার মাঠ করেছি। স্কুলের আশেপাশে গরিব মানুষের সখ্যা বেশী। শ্রমিক শ্রেণীর লোকজন বসবাস করে। তাদের সন্তানরা এই স্কুলে লেখাপড়া করে। একারণে আমি স্কুলের বেতন বৃদ্ধি করিনি। কোন কাজেই আমি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। এটাই আমার অপরাধ। আমি একটি ভুল করেছি- ত হলো সিলেকশনের মাধ্যমে স্কুলের কমিটি করেছি। ইলেকশনের মাধ্যমে কমিটি করিনি। স্কুলের ফান্ড লুটপাট করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি আইনগতভাবে সব কাজ সম্পন্ন করছি। এসব কারণেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নানার ধরনের কারসাজি চলছে। আমাকে জোর করে রিজাইন করানো হয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

তিনি বলেন, ওসমান পরিবার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জন্য দায়ী। এদের সঙ্গে স্কুলের প্রাক্তন কমিটির সদস্যরা রয়েছে। তারা আমাকে স্কুল থেকে বিতারিত করার ষড়যন্ত্র করছে। সারাক্ষণ মেন্টাল টর্চার করা হচ্ছে। এসবের একটি মাত্র কারণ আমি হিন্দু। 

জেল থেকে ছাড়া পেলেও নিজেকে ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীন দাবি করে শ্যামল কান্তি বলেন, আমি বিপদগ্রস্ত অবস্থায় আছি। আমাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি কেন দেশ ছেড়ে যাবো। আমরা এই দেশের নাগরিক। এখানে সংখ্যালঘু কথাটি কেন আসবে? অথচ এই বিষয়টি বড় করে দেখে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমার সংসার ছিণœভিন্ন হয়ে গেছে। আমি কি করবো তাও এখন জানি না। নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকি। আমার নিরাপত্তার জন্য যে পুলিশ দেয়া হয়েছিলো তা তুলে নেয়া হয়েছে। কাদের নির্দেশে নিরাপত্তা তুলে নেয়া হয়েছে, আপনারা খুঁজে দেখুন। আমি নিরাপত্তা চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঘুষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিন। 

সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জের একটি কুচক্রী মহল, প্রভাবশালী চক্র অসৎ উপায় অবলম্বন করে শ্যামল কান্তিকে নানাভাবে হয়রানি করছে।একটি পরিবার শ্যামল কান্তি ও তার পরিবারের ক্ষতি সাধনে তৎপর রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ