ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাজেটে শ্রমিকদের অধিকারকে উপেক্ষা করা হয়েছে -মিয়া গোলাম পরওয়ার

 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চার লক্ষ দুই শত ছেষট্টি কোটি টাকার যে বাজেট ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন তা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং শ্রম বান্ধব নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এ বাজেটকে কোনক্রমেই শ্রম কল্যাণমুখি বাজেট বলা যায় না। প্রস্তাবিত বাজেট ব্যাংক ঋণ নির্ভর ও বিদেশী সাহায্য নির্ভর ঘাটতি বাজেট। শ্রমিকদের জন্য যথাযথ কোন বাজেট রাখা হয়নি।

গতকাল শুক্রবার টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলের একটি অডিটোরিয়ামে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা অঞ্চল কর্তৃক আয়োজিত শিল্পাঞ্চল, কল কারখানা ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিকনেতাদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা অঞ্চল পরিচালক ও ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য কবীর আহমেদের সভাপতিত্ব এ বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান। ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে আরো বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হাসান রাজু, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক তানভীর হোসাইন, ঢাকা বিভাগ উত্তরের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগরী সভাপতি আজহারুল ইসলাম মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সভাপতি বশিরুল হক ভুইয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ড. আজগর আলী, টাংগাইল জেলা সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ঢাকা জেলা সভাপতি শাহাদাৎ হোসাইন, ঢাকা জেলা দক্ষিণ সভাপতি আব্দুল্লাহ হিরা, মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি শামীম মোল্লা, নরসিংদী জেলা সভাপতি শামচুল ইসলাম।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাজেটে ভ্যাট বর্ধিত করা হচ্ছে। এতে বিশাল অংকের শ্রমিকদের ঘর ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, গ্যাস বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। এর ফলে শ্রমিকদের আরও বেশি দামে জিনিসপত্র কিনতে হবে। কালো টাকা সাদা করা হচ্ছে যা ‘ডাকাতের দর্শনের বাজেট’ বলা যায়। দেশে ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি লুটেরা পোষা শ্রমিক মারার নীতিমালা দর্শন কায়েম করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর বরাদ্ধ রাখা হয়নি। বেসরকারি খাতের শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষে তহবিল গঠন। জাতীয় পেনশন স্কিম প্রণয়নে মধ্যে দিয়ে সকল শ্রমিকের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করার যে দাবি ছিল তা বাজেটে প্রতিফলন হয়নি। ট্যানারি সেক্টরে নুন্যতম মজুরি কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ট্যানারি স্থানান্তরের সাথে সাথে সাভারে শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ রাষ্টায়ত্ব পাট কলগুলোকে চালু করে সেগুলোকে আধুনিকিকরণে যথাযথ বাজেট বরাদ্ধ রাখা হয়নি। শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ব্যয়ে বিশেষ বরাদ্ধ। শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতাল স্থাপন করা। মালিকপক্ষ কর্তৃক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বীমা প্রণয়ন করা। জাতীয় মজুরি কমিশন/নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ ও পুনর্গঠনে কর্মকৌশল প্রণয়ন।

নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ বাসস্থান ও ডরমেটরির ব্যবস্থা করা। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর জন্য (লেস অব ইয়ার আরনিং) মৃত্যুর সময় থেকে চাকরির মেয়াদকাল পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট, মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে উল্যেখযোগ্য বরাদ্ধ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাজেট হোক শ্রমবান্ধব, কম বৈষম্যের বাজেট। গতানুগতিক বেশি বৈষম্যের লুটেরা ধনীকদের বাজেট শ্রমিকরা দেখতে চায়না। দেশের আর্থিক খাতের বড় অংশ যোগান দেয় প্রবাসী, গার্মেন্টস ও কৃষিখাত। তাদের জন্য বরাদ্ধ বৃদ্বির আহ্বান জানান। শ্রমিকদের ন্যায্য বরাদ্দের ফ্ল্যাটের অংশ ধনীদের বরাদ্দ দেবে, এটা শ্রমিকরা মানবে না। শ্রমিকরা চায় শ্রমবান্ধব বাজেট। শ্রমিকরা খুশি হবে যদি বাজেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ বাড়ে। তিনি শ্রমঘন এলাকায় শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল ও দেশীয় পাট শিল্পকে বাচিয়ে রাখার জন্য বাজেটে পাট শিল্পে অর্থ বরাদ্দ করার জন্য জোড় দাবি জানান। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মশালায় উপস্থিত শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিক নেতাদের সমাজের চাহিদা অনুযায়ী চারিত্রিক, নৈতিক ও সাংগঠনিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে। দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের সংগ্রামকে জোড়দার করতে হবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ