ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উখিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

 

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : গত ২৯ মে সোমবার রাত আড়াই থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে উখিয়ার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘন্টায় ১৩০ কি.মি. গতিবেগে বয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে আসবাবপত্র তচনছ হয়ে গেছে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য যে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজাপালং ফাযিল মাদ্রাসা ঘুরে শিক্ষক জসিম উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত অত্র মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণি থেকে ফাযিল পর্যন্ত নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী হিসাবে অধ্যায়নরত রয়েছে প্রায় ১৫৩০ জন শিক্ষার্থী। পড়ালেখার গুণগতমান নিয়ে উপজেলার শীর্ষস্থানে বিদ্যমান অত্র মাদ্রাসার চাহিদা অনুপাতে আসবাবপত্র, টয়লেট ও শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মাধ্যমে পাঠদান করতে হচ্ছে। এ মাদ্রাসায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ২৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও পড়ালেখার অনুকূল পরিবেশ বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে সার্বিক উন্নয়ন চিত্রের আশানুরূপ অগ্রগামী হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজাপালং ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব একেএম আবুল হাছান আলী জানান, শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যামান নাজুক পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ক্লাসরুম, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ মাদ্রাসার প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক শতভাগ শিক্ষার হার নিয়ে অগ্রগামী অত্র মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া থিমছড়ি তালিমুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসা, পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসা, থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়, রহমতের বিল মডেল দাখিল মাদ্রাসা, থাইংখালী হলিচাইল্ড একাডেমি, থাইংখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলীয় মাদার বনিয়া-ছেপটখালী নি¤œমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়সহ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ ছাউনি, ঘেরাবেড়া আসবাবপত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

থাইংখালী মাদ্রাসা সুপার খাইরুল বশর জানান, মাদ্রাসার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণীসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয় ভার উল্ল্যেখ করে উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী সংস্কারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে জনমনে স্বস্তি : উখিয়ার ক্রাইম জোন খ্যাত পালংখালী সীমান্তের বটতলী এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত ছাত্রলীগ নেতা মজিবুর রহমান জাবু হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী সেলিম নেওয়াজ রিজভীকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার ও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জাবু হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত ছুরি সহ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় উখিয়া থানা পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অনেকটা বেড়েছে বলে পালংখালীর জনগণ দাবি করছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন পালংখালী এলাকায় যে সমস্ত অবৈধ অস্ত্র রয়েছে এসব অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রবাজদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করলে এলাকায় শান্তি শৃংখলা ফিরে আসবে। শান্তিতে ঘুমাতে পারবে খেটে খাওয়া অসহায় লোকজন।

গত ৭ মে সন্ধা সাড়ে ৭টায় পালংখালীর বটতলী কাঁলাচাদ ডাকাতের দোকানের সামনে এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সেলিম নেওয়াজ রিজভীর নেতৃত্বে ১০/১২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা মজিবুর রহমান জাবুকে নির্মম ভাবে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে দেখা দেয়, উদ্যোগ উৎকন্ঠা।

সন্ত্রাসীদের রামরাজত্ব ধ্বংস করে তাদের গ্রেফতারের জন্য এলাকায় জোরালো প্রতিবাদ উঠে। প্রতি হিংসায় জাবু হত্যা ঘটনা যখন দক্ষিণ চট্টগ্রামে তোলপাড় সৃষ্টি হয় পুলিশ তখন হন্যে হয়ে উঠে জাবু হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য। নিহত জাবুর বড় ভাই লতিফুর রহমান সাংবাদিকদের জনান, সন্ত্রাসীরা তার ভাইকে খুন করে থেমে থাকে নেই। তারা সবাই এক জোট হয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদবির, ধরনা দিয়ে জাবু হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে।

স্থানীয় কথিপয় রাজনৈতিক নেতা নামধারী, হত্যাকারীর দোসর প্রশাসনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সন্ত্রাসীরা হুমকি প্রদর্শন করে মামলা প্রত্যাহার ও বাদী পক্ষদের গ্রাম ছাড়া করার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। মামলার বাদী আরো জানান, উখিয়া থানা পুলিশের দায়িত্ববোধ ও আইনশৃংলা রক্ষায় দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে সেলিম নেওয়াজ রিজভীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অস্ত্র, কিরিচ, গোলা বারুদ উদ্ধারের পর এলাকায় শান্তির সুবাতাস বইছে বলে এলাকাবাসী স্থানীয় সাংবাদিকদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ শতশত গ্রামবাসী হত্যা মামলার অন্যন্যা আসামীদের গ্রেফতার ও তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ কায় কিসলু জানান, খুন, ধর্ষণ, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে উখিয়া থানা পুলিশের অভিযান অবিচল থাকবে। তিনি বলেন মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়ে পুলিশের অভিযান রোধ করা  সম্ভব হবে না।

স্ত্রী খুন : উখিয়ায় পাষন্ড, যৌতুক লোভী স্বামীর ছুরিকাঘাতে ২ সন্তানের জননী স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম (২৫) ঘটনাস্থলে খুন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রতœাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া তোলাতলী নারকাটা ঘোনা গ্রামের এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। হত্যাকারী ওই গ্রামের মৃত সোনালীর ছেলে ছৈয়দ হোসেন(৩৫) একজন মাদক সেবী ও ইয়াবা পাচারকারী বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

উখিয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করেছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমানিল্যের জেরে পাষন্ড স্বামী স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ