ঢাকা, শনিবার 03 June 2017, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২8, ৭ রমযান ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাহুবলে পোল্ট্রি বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ ॥ প্রশাসন নির্বিকার

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা : হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম পোল্ট্রি শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত বাহুবল উপজেলা। জেলার এক তৃতীয়াংশ গোশত ও ডিমের চাহিদার যোগান দেয়া হয় এই উপজেলা থেকেই। কিন্তু আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা এই শিল্পে বর্জ্য ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কোনো কিছুতেই লাগেনি আধুনিকায়ণের ছোঁয়া। আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ফেলায় দেখা দিয়েছে মাত্রারিক্ত পরিবেশ দূষণ।

এ উপজেলাতে পোল্ট্রি শিল্পের সব উপকরণে প্রতিদিন অর্থপ্রবাহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা। এর জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেমন পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে। পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। পোল্ট্রির বর্জ্য ফেলার মতো নেই কোনো নির্দিষ্ট জায়গা। খামারের পাশেই কোনো রকম গর্ত করে ওইখানেই ফেলা হচ্ছে পোল্ট্রির বর্জ্য। এর জন্য বেশি বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী। পরিবেশ দূষণ থেকে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

এলাকাবাসী জানায়, তাদের বাড়ি পাশেই পোল্ট্রির খামার কী পরিমাণ যে দুর্গন্ধ ছড়ায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘরের ভেতর থাকলেও বাতাস দুর্গন্ধ চলে আসে। ভাত খাবার সময় যদি এ দুর্গন্ধ ঘরে যায়, তাহলে কী আর খাওয়া যায়?

হরাইটেকা এলাকার ছাত্র রাকিব হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাই-আসি। রাস্তার পাশে এই পোল্ট্রি ফার্ম আর তার পাশেই ছোট্ট একটি পুকুরে ফার্মের সব বর্জ্য ফেলানো হচ্ছে। এতে করে বাতাসে দুর্গন্ধও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ দুর্গন্ধের কারণে আমরা এইদিক দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসাও করতে পারি না।”

এদিকে, পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, “আমিও ভাই মানুষ, এই গন্ধ যদি আমার নাকেও আসে, তাইলে এই দুর্গন্ধ অন্য মানুষের নাকেও লাগে। এই দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করেতে প্রতি সপ্তাহে চুন-পটাশ বিলিসিন পাউডার দিয়ে থাকি যাতে মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারে। কিন্তু কী কারণে যে এ গন্ধ আসতাছে তা বুজতাছি না। এই দুর্গন্ধ যে বেশি হচ্ছে আর যেন না হয় সে জন্য আমি বায়োগ্যাস প্লান্ট করার চিন্তা করেছি। যাতে করে মানুষ আর এই ভোগন্তিতে না পড়ে। আমি দেখেছি, গোবর ও অন্যান্য পচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচানোর ফলে যে জ্বালানি গ্যাস তৈরি হয় তাই হচ্ছে বায়োগ্যাস।”

আমি দেখেছি, আরো অনেকে এই বায়োগ্যাস প্লাান্ট করে তারা পোল্ট্রি খামার করছেন তাদের খামারের আশেপাশে তেমন কোনো দুর্গন্ধ নেই। তাই আমি বায়োগ্যাস প্লান্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে উপজেলার মিরপুর বাজারে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে মোরগির বিক্রির দোকান। দোকানীরা মোরগ জবাই করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। জবাইয়ের রক্ত ও বর্জ্যগুলো রাস্তার পাশেই ফেলে দিচ্ছে দোকানীরা। আর এতে করে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। উপজেলার মিরপুর বাজারে গড়ে উঠেছে প্রায় বিশটি মোরগ বিক্রির দোকান। ধুলিয়াখাল রোডে অবস্থিত দোকানগুলোতে রয়েছে মোরগ কাটার মেশিন।

আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তারা মোরগ জবাইয়ে ব্যবহার করছে মেশিন। বিদ্যুতের সাহায্যে পোকায় ধরা মোরগগুলো ছিলিয়ে কাস্টমারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা।

নোয়াগাঁও গ্রামের ৬০ শোর্ধ্ব মনজুর হোসাইন জানান, মোরগের ফার্ম বা দোকানে বর্জ অপসারনে কোন মোবাইল কোর্ট চোখে পড়েনি আমার।

পশ্চিম জয়পুর গ্রামের মাসুম মিয়া বলেন, তিনি ২টি মোরগি রাহিন পোল্ট্রি দোকান থেকে কিনে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান মুরগি গুলির পেছনে পোকা ধরে গেছে। পচে গেছে মোরগের পুরো পিছনের অংশ।

দ্বিমুড়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক জানালেন একটি মোরগ ১ কেজি ৮শত গ্রাম ওজন দিয়ে বাজার থেকে কিনে নিলেও বাড়িতে গিয়ে ওজন দিলে মোরগের ওজন হয় কেজি ৪শ গ্রাম। এক মোরগে নেই ৪শ গ্রাম। তিনি আরও বলেন আমাকে ওজনে টকিয়ে ৪শত গ্রাম মোরগের দাম ৫৬ টাকা বেশি নিয়েছে।

বানিয়াগাঁও গ্রামের রুবেল মিয়া জানালেন মোরগ ব্যবসায়ীদের কোন নীতিমালা না থাকায় তারা অসুস্থ মোরগও বিক্রি করছে। মোরগের উপর কোনদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন মিরপুর বাজারের হোটেল রেস্তুরাগুলোতেও ওজনে কম পচাবাসী খাবার বিক্রি করছে।

উপজেলার সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসনের নজাদারি কামনা করে বলেন, জেলা বা উপজেলা প্রশাসন যদি মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করত তাহলে ওজনে কম দেয়া পোকা ধরা রোগাক্রান্ত মোরগ বিক্রি করতে পারত না ব্যবসায়ীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ